Rex Rooms, the reckoning: What happens next after curfew-gate?
Contents
ইংলিশ ক্রিকেটে বিশৃঙ্খলার দুই সপ্তাহ
ইংলিশ ক্রিকেটে গত দুই সপ্তাহ ছিল চরম বিশৃঙ্খলার। তবে রবিবার সন্ধ্যায় তার কিছুটা সুরাহা হয়েছে। বেন স্টোকস এবং গাস অ্যাটকিনসনকে বড় ধরনের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ট্রেন্ট ব্রিজে আসন্ন তৃতীয় টেস্টের জন্য তাদের ইংল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু কার্ফিউ-গেট বা নৈশকালীন কারফিউ ভঙ্গের এই ঘটনা কীভাবে ঘটল এবং কোন প্রশ্নগুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে।
রেক্স রুমস নাইটক্লাবে সেদিন রাতে কী ঘটেছিল?
লর্ডসে প্রথম টেস্ট জয়ের পর ইংল্যান্ডের ক্রিকেটাররা ড্রেসিংরুমে আনন্দ উদযাপন করেন। এরপর দলের কয়েকজন খেলোয়াড় ওয়েস্ট লন্ডনের একটি পাবে যান। সেখান থেকে বেন স্টোকস এবং গাস অ্যাটকিনসন চেলসির ‘রেক্স রুমস’ নাইটক্লাবে চলে যান। তারা দলের মধ্যরাতের কারফিউর সময়সীমা অতিক্রম করেন। তাদের সাথে ছিলেন ইসিবি-র নিরাপত্তা দলের সদস্য জেমস শ।
ক্লাবের ভেতরে এবং বাইরে দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটিতে অ্যাটকিনসন টোটোয়া আউভা নামের এক রাগবি খেলোয়াড়ের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, আউভা জেমস শ-এর মুখে আঘাত করেন, যার ফলে তাকে সেলাই দিতে হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকে জেমস শ আর দলের সঙ্গে নেই। পরদিন ইসিবি এক বিবৃতিতে জানায় যে, স্টোকস এবং অ্যাটকিনসন ‘দলের প্রোটোকল’ ভঙ্গ করেছেন। এই ঘটনা স্টোকসের অধিনায়কত্ব বা অবসর নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন তৈরি করে এবং ইংল্যান্ড ক্রিকেটের পেশাদারিত্ব নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দেয়।
ইংল্যান্ড ম্যানেজমেন্টের প্রতিক্রিয়া
ইসিবি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর রব কি জানিয়েছেন, ঘটনাটি জানার পর তিনি চরম আতঙ্ক, অবিশ্বাস এবং রাগের সম্মুখীন হয়েছিলেন। তিনি স্টোকসকে অধিনায়ক হিসেবে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরাসরি কোনো নিশ্চয়তা দেননি। প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামও জানিয়েছেন যে, তিনি শুরুতে বিভ্রান্ত এবং পরবর্তীতে বেশ হতাশ ছিলেন। তিনিও স্টোকসের অধিনায়কত্ব নিয়ে নীরবতা পালন করেছেন, যা পরবর্তীতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়া ও ফলাফল
এই ঘটনার পর দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল—একটি ইসিবি-র অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা কমিটি এবং অন্যটি স্বাধীন ক্রিকেট রেগুলেটর। তদন্তে দেখা গেছে, স্টোকস এবং অ্যাটকিনসন ইসিবি-র চুক্তিবদ্ধ নিয়ম ভঙ্গ করেছেন, তবে নাইটক্লাবে ঘটা সহিংসতার জন্য তাদের দায়ী করা হয়নি। ইসিবি স্পষ্ট করেছে যে, অ্যাটকিনসন অহেতুক আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন এবং স্টোকস এই বিবাদের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিলেন না। ফলে তাদের কেবল একটি টেস্টের স্থগিতাদেশ এবং সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
কারফিউ কি খেলোয়াড়দের জানা ছিল?
কারফিউ সংক্রান্ত নিয়মটি অ্যাশেজ সিরিজের পর থেকে কার্যকর ছিল। এটি খেলোয়াড়দের রাত ১২টার মধ্যে হোটেলে ফেরার নির্দেশ দেয়। রন কি জানিয়েছেন যে, নিয়মটি দলের অংশীদারদের জানানো হয়েছিল, কিন্তু খেলোয়াড়দের অনেকের দাবি—এটি তাদের কাছে পরিষ্কার ছিল না। বিশেষ করে গাস অ্যাটকিনসন দাবি করেছেন, তিনি কারফিউর বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তবে স্টোকসের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে এই অজুহাত ধোপে টেকেনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বর্তমান পরিস্থিতি
আগামী বৃহস্পতিবার থেকে ট্রেন্ট ব্রিজে তৃতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে। স্টোকস এবং অ্যাটকিনসনের প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ড দল শক্তিশালী হয়েছে। তবে এই সিরিজের ফলাফল দলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। ম্যাককালাম এবং স্টোকসকে এখন দলের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সিরিজ হারলে কোচিং স্টাফ এবং নেতৃত্বের ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে, কারণ এটি কেবল মাঠের ক্রিকেট নয়, বরং ড্রেসিংরুমের শৃঙ্খলা রক্ষারও একটি অগ্নিপরীক্ষা।