Mitchell fifty guides New Zealand’s lead past 400 – ওভালে কিউইদের বিশাল লিড
Contents
ওভালে কিউইদের রান পাহাড়: চালকের আসনে নিউজিল্যান্ড
ওভালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট ম্যাচের চতুর্থ দিনে নিজেদের অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের ৩৯১ রানের জবাবে ইংল্যান্ড তাদের প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানে গুটিয়ে যায়। কিউই বোলার ম্যাট হেনরি দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শন করে ৮০ রান খরচায় ৫টি উইকেট লাভ করেন, যা নিউজিল্যান্ডকে ১০০ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দেয়। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে কিউই ব্যাটাররা ইংলিশ বোলারদের ওপর চড়াও হন। চতুর্থ দিনের লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৪৫ রান, যার ফলে তাদের সামগ্রিক লিড দাঁড়িয়েছে ৪৪৫ রান। ক্রিজে ৬৬ রানে অপরাজিত থেকে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তারকা ব্যাটার ড্যারিল মিচেল।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে Mitchell fifty guides New Zealand’s lead past 400 যা ম্যাচটিকে সম্পূর্ণভাবে ইংল্যান্ডের নাগালের বাইরে নিয়ে গেছে। ড্যারিল মিচেলের এই দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং অনবদ্য অর্ধশতক নিউজিল্যান্ডকে এক ঐতিহাসিক জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। ওভালের উইকেটে যেখানে ব্যাটসম্যানদের জন্য রান করা কঠিন হয়ে উঠছিল, সেখানে মিচেল অত্যন্ত শান্ত মাথায় ইংলিশ বোলারদের মোকাবিলা করেছেন এবং নিজের ইনিংসটিকে বড় করেছেন।
জোফ্রা আর্চারের আক্রমণ এবং হেনরি নিকোলসের উইকেট লাভ
চতুর্থ দিনের সকালটা ইংল্যান্ডের জন্য বেশ রোমাঞ্চকর হতে পারত যদি তারা শুরুতেই উইকেট তুলে নিতে পারত। গতি তারকা জোফ্রা আর্চার দিনের প্রথম বলেই উইকেট শিকারের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। তবে স্লিপে ফিল্ডিং করা হ্যারি ব্রুক একটি কঠিন ডাইভিং ক্যাচ হাতছাড়া করেন। আর্চারের প্রথম বলটি ব্যাটারের ব্যাটের প্রান্ত ছুঁয়ে স্লিপে গেলেও ব্রুক তা তালুবন্দী করতে পারেননি। তবে এই হতাশা বেশি সময় স্থায়ী হতে দেননি আর্চার। ঠিক পরের ওভারেই অধিনায়ক ব্রুককে দ্বিতীয় স্লিপে নিয়ে আসেন এবং সেখানে তিনি সেঞ্চুরিয়ান হেনরি নিকোলসের একটি সহজ ক্যাচ লুফে নেন। নিকোলস ১২১ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলে বিদায় নেন। তাঁর এই বিদায়ে ইংল্যান্ড শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ক্রিজে ড্যারিল মিচেলের উপস্থিতি তাদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
মিচেলের প্রতিরোধ এবং ব্লান্ডেলের সাথে ঐতিহাসিক পার্টনারশিপ
নিকোলসের বিদায়ের পর ড্যারিল মিচেল আরও বেশি দায়িত্বশীল হয়ে ওঠেন। তিনি ব্রুকের ক্যাচ মিসের সুযোগটিকে দারুণভাবে কাজে লাগান। জো রুটের এক ওভারে পরপর তিনটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি মেরে মিচেল নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন এবং ওভালে উপস্থিত দর্শকদের হাততালি কুড়ান। এরপর ক্রিজে আসেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার টম ব্লান্ডেল। মিচেল ও ব্লান্ডেল মিলে কিউইদের ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। যদিও এই জুটি মাত্র ২৯ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি, তবে এই অল্প রানের জুটির মাঝেই তারা একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেন। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১০০০ পার্টনারশিপ রান করা প্রথম নিউজিল্যান্ডের জুটি হিসেবে নিজেদের নাম লেখান ড্যারিল মিচেল এবং টম ব্লান্ডেল।
ব্লান্ডেলের আউটটি ছিল অত্যন্ত নাটকীয়। লেগ স্লিপে জো রুট একটি ক্যাচ ধরার চেষ্টা করতে গিয়ে বলটি হাত থেকে ফসকিয়ে ফেলেন। কিন্তু বলটি মাটিতে পড়ার আগেই উইকেটরক্ষক জেমস রিও চমৎকারভাবে বলটি লুফে নেন এবং ব্লান্ডেলকে সাজঘরে ফিরতে হয়। এই উইকেটের পতনের পর নিউজিল্যান্ডের রানের গতি কিছুটা শ্লথ হলেও ড্যারিল মিচেল অন্য প্রান্ত আগলে রাখেন।
নাথান স্মিথের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ও ইংল্যান্ডের নিষ্ক্রিয়তা
প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান গ্লেন ফিলিপস দ্বিতীয় ইনিংসে বড় রান করতে ব্যর্থ হন। জোফ্রা আর্চারের একটি লাফিয়ে ওঠা বলে গালিতে জ্যাকব বেথেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ফিলিপস। এরপর ক্রিজে আসেন নাথান স্মিথ। স্মিথ এসেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলা শুরু করেন। জ্যাকব বেথেলের বাঁহাতি স্পিনকে লক্ষ্য করে তিনি দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শন করেন। বেথেলের ওভারে পরপর দুটি বলে একটি বিশাল ছক্কা এবং একটি চমৎকার চার মেরে তিনি নিউজিল্যান্ডের লিডকে দ্রুত ৪০০-র পার নিয়ে যান।
এই সময়ে ইংল্যান্ড দলের কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অবাক করেছে। ৮১তম ওভার শুরু হওয়ার পর যখন দ্বিতীয় নতুন বল নেওয়ার সুযোগ ছিল, তখন ইংল্যান্ড দল তা গ্রহণ করেনি। তারা পুরোনো বল দিয়েই বোলিং চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ম্যাট ফিশার, যিনি চতুর্থ দিন সকালে মাত্র দুই ওভার বল করেছিলেন, তাকে লং লেগ অঞ্চল দিয়ে সীমানা পার করেন স্মিথ। ইংল্যান্ডের এই নিষ্ক্রিয়তা কিউই ব্যাটারদের কাজকে আরও সহজ করে দেয় এবং তারা কোনো বড় বিপদ ছাড়াই লাঞ্চ বিরতিতে যান।
ঐতিহাসিক রান তাড়ার মুখে ইংল্যান্ড: ল্যাথামের ইনিংস ঘোষণার অপেক্ষা
চতুর্থ দিনের লাঞ্চের পর নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক টম ল্যাথামের সামনে একটি বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিউজিল্যান্ডের লিড ইতিমধ্যে ৪৪৫ রানে পৌঁছে গেছে, যা ওভালের মাঠে যেকোনো দলের জন্যই তাড়া করা অসম্ভব। ল্যাথাম কখন ইনিংস ঘোষণা করবেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ইংল্যান্ডের ১০টি উইকেট নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে।
offset অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের সামনে এখন হিমালয়সম লক্ষ্য। টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার একটি দীর্ঘদিনের বিশ্ব রেকর্ড রয়েছে, যা ভাঙতে হবে ইংল্যান্ডকে যদি তারা এই ম্যাচে জয়লাভ করতে চায়। সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার জন্য ইংল্যান্ডকে এক অবিশ্বাস্য এবং অতিমানবীয় ব্যাটিং পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে হবে, যা এই মুহূর্তে প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। ওভালের উইকেট এবং কিউই বোলারদের ফর্ম বিবেচনা করলে নিউজিল্যান্ড এই ম্যাচে সম্পূর্ণ চালকের আসনে রয়েছে এবং তাদের জয় এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।