Report

Bangladesh shock Pakistan and eliminate them from T20 World Cup

Arthur Sethi · · 1 min read

সাউদাম্পটনে ঐতিহাসিক জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ

২০২৬ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এক অবিস্মরণীয় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সাউদাম্পটনের মাঠে পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারিয়ে শুধু ম্যাচই জেতেনি, বরং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে টুর্নামেন্ট থেকে পুরোপুরি বিদায় করে দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই হার পাকিস্তানের জন্য ছিল টুর্নামেন্টে টানা তৃতীয় পরাজয়, যা তাদের সেমিফাইনালের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।

ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের ইনিংস

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১২৩ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে স্বর্ণা আক্তার অপরাজিত ৩৯ রান এবং সুলতানা খাতুন ৩৬ রান করেন। পাকিস্তানের পক্ষে ফাতিমা সানা ১৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের রানের গতি রোধ করার চেষ্টা করেন। ১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান শুরুটা ভালোই করেছিল, কিন্তু মাঝপথেই তাদের ব্যাটিং লাইনআপ ধসে পড়ে।

স্পিন জাদুতে দিশেহারা পাকিস্তান

পাকিস্তানের ইনিংসের অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে কোনো উইকেট না হারিয়ে তাদের সংগ্রহ ছিল ৪৯ রান। সেখান থেকে পরবর্তী দশ ওভারে পাকিস্তান মাত্র ৩৫ রান তুলতে গিয়ে ৮টি উইকেট হারিয়ে বসে। বাংলাদেশের স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা কোনো পাত্তাই পাননি।

নাহিদা ও সানজিদার বিধ্বংসী বোলিং

বাংলাদেশ দলে এদিন একটিই পরিবর্তন আনা হয়েছিল, আর তা ছিল নাহিদা আক্তার ও সানজিদা আক্তার মেঘলার অন্তর্ভুক্তি। এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। নাহিদা আক্তার ১৮ রানে ৩ উইকেট এবং সানজিদা আক্তার মেঘলা ২১ রানে ৩ উইকেট শিকার করে পাকিস্তানের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। পাকিস্তানি ব্যাটারদের মধ্যে মুনিবা আলি ২৫ রান করে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা পরাজয় এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না।

READ:  George, Austin plunder Lancashire to land third win in a row

টুর্নামেন্টের পয়েন্ট টেবিলে প্রভাব

এই জয়ের ফলে পাকিস্তান তাদের গ্রুপ পর্যায়ের বাকি দুই ম্যাচ হাতে রেখেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ তাদের এই জয় থেকে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছে যা পরবর্তী ম্যাচগুলোতে কাজে আসবে। পাকিস্তানের জন্য এই পরাজয় একটি বড় ধাক্কা, কারণ তারা টুর্নামেন্টে ফেভারিট হিসেবে এসেছিল। কিন্তু সাউদাম্পটনের এই ম্যাচে বাংলাদেশের শৃঙ্খল বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের সামনে তারা দাঁড়াতে পারেনি।

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বাংলাদেশি স্পিনাররা দেখিয়েছেন যে ছোট পুঁজি নিয়েও সঠিক পরিকল্পনা ও নিখুঁত লাইন-লেন্থ বজায় রাখলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষকেও পরাস্ত করা সম্ভব। নাহিদা ও সানজিদার এই পারফরম্যান্স আগামী দিনের ম্যাচগুলোর জন্য বাংলাদেশ দলকে উজ্জীবিত করবে। পাকিস্তানের মতো বড় দলের বিপক্ষে এই জয়টি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম স্মরণীয় এক অধ্যায় হয়ে থাকবে। পুরো দল এখন আত্মবিশ্বাসী যে তারা এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে টুর্নামেন্টে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবে।

ম্যাচ শেষে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ের ধরন ছিল অত্যন্ত পেশাদার। তারা পাকিস্তানকে শুরু থেকেই চাপের মুখে রেখেছিল এবং সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছে। পাকিস্তানের ব্যাটাররা মাঝের ওভারগুলোতে যেভাবে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন, তা থেকে তাদের শিখতে হবে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে স্নায়ু ধরে রাখাটাই আসল, আর এই ম্যাচে বাংলাদেশ সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে শতভাগ সফলতার সাথে।