Campbelle, Matthews outmuscle New Zealand to land famous victory: ক্যারিবীয়দের মহাকাব্যিক জয়
Contents
- 1 ক্যারিবীয় শক্তির তাণ্ডবে কুপোকাত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা
- 2 শেমেইন ক্যাম্পবেলের মহাকাব্যিক ৯০* রান এবং নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিং বিপর্যয়
- 3 রান-আউটের বিতর্ক ও ম্যাথিউসের দায়িত্বশীল ব্যাটিং
- 4 শেষ ওভারের নাটকীয়তা ও স্নায়ুযুদ্ধ
- 5 নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত শুরু ও গেজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং
- 6 আলিয়াহ অ্যালিনের বোলিং তোপ এবং কিউইদের ধস
- 7 হ্যালিডে ও গ্রিনের প্রতিরোধ
ক্যারিবীয় শক্তির তাণ্ডবে কুপোকাত ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ক্রিকেটপ্রেমীরা দেখল এক রোমাঞ্চকর এবং অবিশ্বাস্য ম্যাচ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দল। আর সেখানেই দেখা গেল এক মহাকাব্যিক লড়াই, যেখানে শেষ হাসি হেসেছে ক্যারিবীয়রা। শেমেইন ক্যাম্পবেলের ক্যারিয়ার সেরা দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং অধিনায়কের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে হেইলি ম্যাথিউসের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে কিউইদের স্তব্ধ করে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এই জয়ের মাধ্যমে তারা আবারও প্রমাণ করল যে, চাপের মুখে তাদের শক্তিমত্তার কোনো বিকল্প নেই। দুবাইয়ে গত বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে যেভাবে তারা জয় ছিনিয়ে এনেছিল, ঠিক একইভাবে আজ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল।
শেমেইন ক্যাম্পবেলের মহাকাব্যিক ৯০* রান এবং নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিং বিপর্যয়
ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৬৩ রানের একটি বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু শেমেইন ক্যাম্পবেল যেন আজ একাই ম্যাচ জেতানোর পণ করে মাঠে নেমেছিলেন। নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক হাফ-সেঞ্চুরিকে তিনি রূপ দেন এক ম্যাচজয়ী ৯০ রানের অপরাজিত ইনিংসে। মাত্র ৬২ বলে খেলা তার এই নান্দনিক ইনিংসে ছিল ৭টি চার এবং ৩টি বিশাল ছক্কার মার। ক্যাম্পবেলের এই ব্যাটিং তাণ্ডব কিউই বোলারদের লাইন-লেন্থ সম্পূর্ণ এলোমেলো করে দেয়।
তবে নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডারদের চরম ব্যর্থতাও এই জয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। চাপের মুখে কিউইদের ফিল্ডিং ইউনিট একের পর এক ভুল করে ম্যাচ থেকে নিজেদের ছিটকে ফেলে দেয়। পুরো ম্যাচ জুড়ে অন্তত সাতটি নিশ্চিত ক্যাচ ও সুযোগ হাতছাড়া করেছে নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডাররা। ক্যাম্পবেল যখন উইকেটে রান তুলছিলেন, তখন তাকে একাধিকবার জীবনদান করে নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডিং সাইড। বিশেষ করে ইজি গেজের সহজ একটি স্টাম্পিং মিস এবং নেসি প্যাটেলের ক্যাচ ড্রপ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা পালন করে।
রান-আউটের বিতর্ক ও ম্যাথিউসের দায়িত্বশীল ব্যাটিং
ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ার দ্বিতীয় ওভারেই ঘটে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, যা ম্যাচের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। ইনিংসের মাত্র দশম বলে ওপেনার কিয়ানা জোসেফ ও হেইলি ম্যাথিউসের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে রান-আউট হন জোসেফ। ব্যাক-টু-ব্যাক চার মারার পর ম্যাথিউস একটি শট খেলে রান নেওয়ার জন্য দৌড় শুরু করেন। কিন্তু সেখানে কোনো রান নেওয়ার মতো সুযোগই ছিল না। শেষ পর্যন্ত নিজের উইকেট বাঁচাতে ম্যাথিউস জোসেফকে রান-আউট হতে বাধ্য করেন। সাজঘরে ফেরার সময় জোসেফের ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট, ওয়ান-ডাউনে নামার সময় তিনি তার অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তবে এই নাটকীয় ধাক্কা কাটিয়ে উঠে ম্যাথিউস নিজেকে দ্রুত সামলে নেন। ক্যাম্পবেলের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৭৪ রানের এক দুর্দান্ত ও ম্যাচ নির্ধারণী জুটি গড়েন তিনি। ক্র্যাম্পের সমস্যায় ভুগলেও ম্যাথিউস ৩৭ বলে ৪৮ রানের একটি অত্যন্ত কার্যকর ইনিংস খেলেন, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়ার গতি সচল রাখে। হেইলি ম্যাথিউস আউট হওয়ার আগে ১টি ছক্কা এবং দুর্দান্ত কিছু বাউন্ডারি মেরে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের চাপে রাখেন।
শেষ ওভারের নাটকীয়তা ও স্নায়ুযুদ্ধ
ম্যাচটি যখন শেষ ওভারে গড়ায়, তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৪ রান। নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ বোলার সোফি ডিভাইন বল হাতে অবিশ্বাস্য কিছু করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রথম বলে দুই রান আসার পর, পরের চার বলে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে মাত্র দুই রান নিতে দেন, যার মধ্যে জাহজারা ক্ল্যাক্সটনের একটি মিস শট ম্যাচের উত্তেজনা তুঙ্গে নিয়ে যায়। কিন্তু শেষ বলে ক্যাম্পবেল তার বুদ্ধিমত্তা ও ক্ষিপ্রতা কাজে লাগিয়ে উইকেটরক্ষক ইজি গেজের স্টাম্পিংয়ের আগেই ক্রিজে পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং এক বল বাকি থাকতেই দলের ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করেন।
নিউজিল্যান্ডের দুর্দান্ত শুরু ও গেজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং
এর আগে ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। প্রথমবারের মতো সুজি বেটসকে ছাড়াই মাঠে নামে কিউইরা, যা তাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা। তবে ওপেনার ইজি গেজ শুরু থেকেই চড়াও হন ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর। পাওয়ারপ্লেতে তিনি দুর্দান্ত ব্যাটিং প্রদর্শনী দেখান। জাইদা জেমসের প্রথম ওভারেই তিনি দুটি দারুণ বাউন্ডারি মারেন। পাওয়ারপ্লেতে নিউজিল্যান্ড কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৯ রান সংগ্রহ করে এক শক্ত ভিত গড়ে তোলে। গেজ ২৩ বলে ৩৭ রান করে দারুণ ছন্দে ছিলেন, যার মধ্যে ছিল ৮টি চমৎকার চারের মার।
আলিয়াহ অ্যালিনের বোলিং তোপ এবং কিউইদের ধস
নিউজিল্যান্ড যখন এক বড় স্কোরের দিকে ধাবিত হচ্ছিল, ঠিক তখনই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন আলিয়াহ অ্যালিন। তার চমৎকার মিডিয়াম পেস বোলিং কিউই মিডল অর্ডারকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে দেয়। মাত্র ৬ বলের ব্যবধানে তিনি নিউজিল্যান্ডের ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। প্রথমে তিনি ফিরিয়ে দেন জর্জিয়া প্লিমারকে, যিনি ক্যাচ দেন ডটিনের হাতে। এরপর মেলিয়া কার এবং মারকুটে ইজি গেজকেও প্যাভিলিয়নের পথ দেখান অ্যালিন। মাত্র ৫৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে নিউজিল্যান্ড। অ্যালিন ৪ ওভারে মাত্র ২৭ রান দিয়ে ৪টি উইকেট শিকার করে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন।
হ্যালিডে ও গ্রিনের প্রতিরোধ
দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ডের হাল ধরেন ব্রুক হ্যালিডে এবং অভিজ্ঞ সোফি ডিভাইন। তাদের মধ্যে ৪৫ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে ওঠে। ডিভাইন ১৫ বলে ২২ রান করে আউট হলেও, হ্যালিডে ৩২ বলে ৪০ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেলেন। ইনিংসের শেষ দিকে ম্যাডি গ্রিন ২২ বলে অপরাজিত ৩৫ রান করে নিউজিল্যান্ডের স্কোরকে ১৬২ রানে নিয়ে যান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্যাম্পবেল ও ম্যাথিউসের ব্যাটিং ঝড়ের সামনে এই রানও যথেষ্ট প্রমাণিত হয়নি এবং নিউজিল্যান্ডকে এক হতাশাজনক হারের মুখ দেখতে হয়।