Women’s T20 World Cup 2026 warm-up: Fulmali, Patil headline India’s comfortable জয়
Contents
২০২৬ মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি: ভারতের উড়ন্ত সূচনা
২০২৬ সালের আইসিসি মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচগুলো ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা তৈরি করেছে। কার্ডিফের মাঠে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল তাদের প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয়েছিল। এই ম্যাচে ভারত ২৬ রানের এক আরামদায়ক এবং দাপুটে জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে। এই ম্যাচ এবং জয়কে কেন্দ্র করে ক্রীড়াবিশ্বে এখন দারুণ আলোচনা চলছে, যেখানে “Women’s T20 World Cup 2026 warm-up: Fulmali, Patil headline India’s comfortable “ জয়টি টিম ইন্ডিয়ার আত্মবিশ্বাসকে আকাশচুম্বী করে তুলেছে। প্রথমে ব্যাট করে ভারতী ফুলমালির ঝোড়ো অর্ধশতক এবং পরবর্তীতে বল হাতে শ্রেয়াঙ্কা পাতিল ও রাধা যাদবের দুর্দান্ত স্পিন স্পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ম্যাচ থেকে সম্পূর্ণ ছিটকে দেয়।
স্মৃতি-শাফালির বিধ্বংসী ওপেনিং জুটি এবং মিডল অর্ডারের ধাক্কা
এই ম্যাচে নিয়মিত অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের অনুপস্থিতিতে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেন স্মৃতি মান্ধানা। টসে জিতে স্মৃতি প্রথমে ব্যাট করার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। কার্ডিফের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য অনুকূল ছিল এবং ভারতীয় ওপেনাররা শুরু থেকেই তার পূর্ণ ফায়দা তোলেন। শাফালি বর্মা এবং স্মৃতি মান্ধানা উদ্বোধনী জুটিতে মাত্র ৫.২ ওভারে ৫৯ রান যোগ করেন। শাফালি ছিলেন স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক মেজাজে। মাত্র ১৩ বল খেলে তিনি ২৯ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ৫টি চার ছিল। তবে দলীয় ৫৯ রানের মাথায় আলিয়াহ অ্যালিনের বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা। তিনি ৩৯ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।
স্মৃতির বিদায়ের পর ভারতীয় ইনিংসে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে। সপ্তম ওভারে অফস্পিনার কারিশমা রামহারাকের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান শাফালি বর্মা। এরপর ক্রিজে আসা জেমিমাহ রদ্রিগেজও বেশি সময় ক্রিজে টিকতে পারেননি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ লেগস্পিনার অ্যাফি ফ্লেচারের চমৎকার লেগস্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে জেমিমাহ মাত্র কয়েক রান করেই সাজঘরে ফেরেন। ফ্লেচারের এটিই ছিল ম্যাচের প্রথম উইকেট। মাত্র ৮ ওভারের মধ্যে ৮৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ভারত কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায়।
ভারতী ফুলমালি ও ইয়াস্তিকা ভাটিয়ার প্রতিরোধ এবং বড় সংগ্রহ
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ভারতের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন ইয়াস্তিকা ভাটিয়া এবং ভারতী ফুলমালি। এই দুই ব্যাটার চতুর্থ উইকেটের জুটিতে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তারা মাত্র ৭ ওভারে ৬০ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন, যা ভারতীয় দলকে একটি বড় স্কোরের ভিত্তি এনে দেয়। ইয়াস্তিকা ভাটিয়া তার ৩৬ রানের ইনিংসে 6টি চারের সাহায্যে মাঠের চারদিকে রান তোলেন। অন্যদিকে, ভারতী ফুলমালি ছিলেন আরও বিধ্বংসী। তিনি ক্যারিবীয় বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাত্র ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন। তার এই লড়াকু ইনিংসে ছিল ৬টি চার এবং ১টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা।
ফুলমালির এই দুর্দান্ত এবং দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে ভারত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রানের একটি শক্তিশালী স্কোর দাঁড়কাতে সক্ষম হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন অ্যাফি ফ্লেচার। তিনি তার ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ২৩ রান খরচ করে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন, যা ভারতীয় দলের রানকে ১৮০-এর নিচে আটকে রাখতে সাহায্য করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান তাড়া এবং ভারতীয় স্পিনারদের আধিপত্য
১৮০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল বেশ আত্মবিশ্বাসের সাথেই তাদের ইনিংস শুরু করেছিল। ওপেনার ডিয়ান্ড্রা ডটিন এবং শেমাইন ক্যাম্পবেল ভারতীয় বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণ চালান। এই জুটি প্রথম উইকেটে ৯ ওভারে ৬৩ রান যোগ করে ক্যারিবীয়দের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছিল। ডিয়ান্ড্রা ডটিন ৪৪ বলে সর্বোচ্চ ৪৯ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন। কিন্তু শেমাইন ক্যাম্পবেল ২৫ রান করে রিটায়ার্ড আউট হয়ে মাঠ ছাড়ার পরই ম্যাচের চিত্রপট সম্পূর্ণ বদলে যায়।
এরপরই শুরু হয় ভারতীয় স্পিন বোলারদের রাজত্ব। বিশেষ করে শ্রেয়াঙ্কা পাতিল এবং রাধা যাদব তাদের ঘূর্ণি জাদুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান। শ্রেয়াঙ্কা পাতিল তার ৪ ওভারের স্পেলে ৩৬ রান দিয়ে একাই ৪টি উইকেট শিকার করেন। তার শিকারদের মধ্যে ছিলেন কিয়ানা জোসেফ, জাহজারা ক্ল্যাক্সটন, জ্যানিলিয়া গ্লাসগো এবং জাইদা জেমস। অন্যপ্রান্তে, রাধা যাদব অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ৩টি উইকেট তুলে নেন। এই দুই স্পিনারের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পড়ে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে।
ভাটিয়ার শেষ মুহূর্তের চমক এবং ভারতের সহজ জয়
ম্যাচের শেষ দিকে ডিয়ান্ড্রা ডটিন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে জেতানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও অন্য প্রান্তে যোগ্য সঙ্গীর অভাব ছিল স্পষ্ট। ভারতের বোলিং আক্রমণে আরও একটি চমক ছিল ইয়াস্তিকা ভাটিয়ার বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। তিনি ডিয়ান্ড্রা ডটিন, আলিয়াহ অ্যালিন এবং চিনেলে হেনরির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটারদের উইকেট তুলে নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লোয়ার অর্ডারকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেন। শেষ পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানেই থমকে যায়। ফলে ভারত ২৬ রানের একটি সহজ ও আরামদায়ক জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।
এই প্রস্তুতি ম্যাচটি ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের গভীরতা এবং শক্তির প্রতীক। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আগে দলের তরুণ খেলোয়াড়দের এমন পারফরম্যান্স অবশ্যই টিম ম্যানেজমেন্টের মুখে হাসি ফোটাবে। ভারতী ফুলমালির ব্যাটিং দৃঢ়তা এবং শ্রেয়াঙ্কা পাতিল ও রাধা যাদবের স্পিন আক্রমণ প্রমাণ করে যে, আসন্ন বিশ্বকাপে ভারতীয় দল যেকোনো প্রতিপক্ষের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠবে। এই জয়টি নিঃসন্দেহে ভারতীয় শিবিরের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দিল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
- ভারত: ১৭৯/৮ (২০ ওভার) – ভারতী ফুলমালি ৫৬*, স্মৃতি মান্ধানা ৩৯, ইয়াস্তিকা ভাটিয়া ৩৬; অ্যাফি ফ্লেচার ৪/২৩।
- ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ১৫৩/৮ (২০ ওভার) – ডিয়ান্ড্রা ডটিন ৪৯, শেমাইন ক্যাম্পবেল ২৫; শ্রেয়াঙ্কা পাতিল ৪/৩৬, রাধা যাদব ৩/২৫।
- ফলাফল: ভারত ২৬ রানে জয়ী।