Bangladesh Cricket

Juairiya’s fifty powers Bangladesh to winning start at Women’s T20 World Cup

Aniket Verma · · 1 min read

বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা বাংলাদেশের

নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অসাধারণ জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। জুাইরিয়া ফেরদৌস এবং শারমিন আক্তারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে টাইগ্রেসরা ৬ উইকেটের সহজ জয় দিয়ে আসর শুরু করেছে। বার্মিংহামের মাঠে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নেদারল্যান্ডস, তবে বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা বড় কোনো স্কোর গড়তে ব্যর্থ হয়।

নেদারল্যান্ডসের ব্যাটিং ও বাংলাদেশি বোলারদের দাপট

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশি বোলাররা নেদারল্যান্ডসের ব্যাটারদের ওপর চাপ বজায় রেখেছিল। দ্বিতীয় ওভারেই প্রথম উইকেট তুলে নিয়ে শুভসূচনা করে বাংলাদেশ। পাওয়ারপ্লের মধ্যে আরও একটি উইকেট হারিয়ে ডাচরা কিছুটা চাপে পড়ে যায়। হেদার সিগার্স ১৬ রান এবং ফেবি মোলকেনবোয়ের ১১ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। তবে অধিনায়ক বাবেট ডি লিডে এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ লড়াই করেন। তিনি ৪৫ বলে ৫০ রানের একটি চমৎকার ইনিংস খেলেন, যেখানে পাঁচটি বাউন্ডারির মার ছিল। অন্য ব্যাটাররা ২০ রানের গণ্ডি পার করতে না পারায় নেদারল্যান্ডস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের হয়ে মারুফা আক্তার দুটি এবং ফারিহা তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও ঋতু মনি একটি করে উইকেট লাভ করেন।

জুাইরিয়ার বিধ্বংসী ব্যাটিং

১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। উদ্বোধনী জুটিতেই দুর্দান্ত শুরু পায় তারা। মাত্র ৭.৪ ওভারেই কোনো উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশ স্কোরবোর্ডে ৬৭ রান জমা করে। জুাইরিয়া ফেরদৌস ছিলেন এই দ্রুত গতির মূল কারিগর। তিনি মাত্র ৩৩ বলে চমৎকার এক ফিফটি তুলে নেন। একটি বিশাল ছক্কার মাধ্যমে অর্ধশতক পূর্ণ করার পরপরই তিনি আউট হয়ে যান। এরপর বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়ে যায় যখন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি গোল্ডেন ডাক নিয়ে সাজঘরে ফেরেন। দিলারা আক্তার ২৬ রান এবং সোবহানা মোস্তারি দ্রুত আউট হলে ম্যাচটি কিছুটা রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে।

READ:  দিল্লি ক্যাপিটালস বনাম কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল ২০২৬: ম্যাচ ৫১ প্রিভিউ ও ড্রিম ১১ প্রেডিকশন

শারমিন ও স্বর্ণার অবিচ্ছিন্ন জুটি

দলের যখন কঠিন সময়, তখন হাল ধরেন শারমিন আক্তার এবং স্বর্ণা আক্তার। তারা কোনো তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে জয়ের দিকে এগিয়ে যান। শারমিন আক্তার ৩২ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত থাকেন এবং স্বর্ণা আক্তার ১৭ বলে ১৮ রান করে জয় নিশ্চিত করেন। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৫৬ রানের পার্টনারশিপ বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে এবং ৫ বল বাকি থাকতেই জয় এনে দেয়। এই জয় বাংলাদেশ দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। বিশ্বকাপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও টাইগ্রেসরা এমন ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলেই প্রত্যাশা ক্রিকেটপ্রেমীদের।

ম্যাচ পরবর্তী বিশ্লেষণ

এই ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং এবং ব্যাটিংয়ের ভারসাম্য ছিল লক্ষণীয়। বিশেষ করে চাপের মুখে শারমিন আক্তারের শান্ত থাকা এবং জুাইরিয়ার মারকুটে ব্যাটিং দলের জয়ের পথ সহজ করে দিয়েছিল। ফিল্ডিংয়েও বাংলাদেশ বেশ তৎপর ছিল, যা ডাচদের স্কোরকে ১৩৯ রানে আটকে রাখতে সাহায্য করেছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই জয় টাইগ্রেসদের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। কোচিং প্যানেলের পরিকল্পনার সঠিক প্রয়োগ এবং খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যই এই জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। আসন্ন ম্যাচগুলোতেও বাংলাদেশ একই ধরনের পারফরম্যান্স প্রদর্শন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।