Mandhana, Deepti, Richa star as India breeze past Pakistan – ভারতের ঐতিহাসিক জয়
বার্মিংহামের মহারণে ভারতের ঐতিহাসিক জয়: পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে পারফরম্যান্স
রবিবার বার্মিংহামের এজবাস্টনে কানায় কানায় পূর্ণ গ্যালারির সামনে ভারত ও পাকিস্তানের নারী ক্রিকেট দলের মধ্যকার ম্যাচটি ছিল এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা, আর এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ভারতই শেষ হাসি হেসেছে। ক্রিকেটপ্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই ম্যাচে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছে ভারতীয় দল। ম্যাচে মূলত Mandhana, Deepti, Richa star as India breeze past Pakistan, যার ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ৬৪ রানের বড় ব্যবধানে এক বিশাল জয় তুলে নেয় ভারতীয় নারী দল। প্রথমে ব্যাট করে ভারত ১৭০ রান সংগ্রহ করে এবং জবাবে পাকিস্তানকে মাত্র ১০৬ রানে অলআউট করে দেয় ভারতীয় বোলাররা।
শুরুতেই বিপর্যয় এবং স্মৃতি মান্ধানার দায়িত্বশীল ব্যাটিং
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা একেবারেই আশানুরূপ ছিল না। মাত্র ১৮ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ফেলে চরম বিপাকে পড়ে যায় তারা। তবে ভারতের তারকা ওপেনার এবং সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মান্ধানা সেই চরম চাপকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেন। তিনি ক্রিজে এসে অসাধারণ ধৈর্য ও দক্ষতার পরিচয় দেন। স্মৃতি ৬৮ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন। এটি ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের দলের সর্বোচ্চ সংগ্রহ দাঁড় করানোর মূল ভিত্তি। তার এই দায়িত্বশীল ইনিংসের ওপর ভর করেই ভারত ১৭০ রানের এক বিশাল পুঁজি গড়তে সক্ষম হয়। স্মৃতিকে যোগ্য সঙ্গ দেন দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর, যিনি খেলেন গুরুত্বপূর্ণ ৩৬ রানের ইনিংস। পাকিস্তানের পক্ষে বল হাতে সানা ৩৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট শিকার করেন, যা ভারতের রান গতি কিছুটা কমানোর চেষ্টা করেছিল।
ডেথ ওভারে রিচা ঘোষের টর্নেডো ব্যাটিং ও ফিনিশিং
যখন মনে হচ্ছিল ভারতের ইনিংস ১৫০ বা ১৫৫ রানের কাছাকাছি গিয়ে থেমে যাবে, ঠিক তখনই ক্রিজে এসে ঝড় তোলেন রিচা ঘোষ। গত সপ্তাহে প্রস্তুতি ম্যাচে অফ-ফর্মে থাকার কারণে তাকে নিয়ে যে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছিল, তা এক ঝটকায় উড়িয়ে দেন এই তরুণ উইকেটকিপার-ব্যাটার। রিচা মাত্র ১৭ বলে খেলেন অপরাজিত ৩৪ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস। তার এই ঝড়ো ইনিংসে ছিল চারটি চার এবং একটি ছক্কার মার। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল, রিচা তার শেষ ৮টি বৈধ ডেলিভারির মধ্যে চারবার বাউন্ডারি পার করেন এবং একটি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা হাঁকান। শেষ ৬ ওভারে ভারতের সংগ্রহ ছিল ৬০ রান। রিচার এই বিধ্বংসী ফিনিশিংয়ের ওপর ভর করেই দল ১৭০ রানের বিশাল স্কোরে পৌঁছায় এবং ম্যাচটি পাকিস্তানের নাগালের বাইরে নিয়ে যায়।
পাকিস্তানের জবাব এবং দীপ্তি শর্মার স্পিন জাদু
১৭১ রানের বিশাল জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের ওপেনাররা শুরুটা বেশ মারকুটে করেছিলেন। পাওয়ার প্লেতে দ্রুত গতিতে ৩৮ রান তুলে তারা ভারতীয় শিবিরে কিছুটা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের বিশ্বমানের স্পিন আক্রমণের সামনে পাকিস্তানের এই প্রতিরোধ বেশি সময় স্থায়ী হতে পারেনি। ভারতের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা বল হাতে এসে ম্যাচের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেন। নিজের প্রথম দুই ওভারের স্পেলেই তিনি পাকিস্তানের নির্ভরযোগ্য ব্যাটারদের সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে এনে দেন।
ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট: মুনিবা আলীর রান আউট ও দীপ্তির রেকর্ড
ম্যাচের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্টটি এসেছিল দীপ্তি শর্মার এক অসাধারণ ফিল্ডিং প্রদর্শন থেকে। শর্ট থার্ড ম্যান পজিশন থেকে একটি সরাসরি থ্রোতে তিনি ভয়ংকর হয়ে ওঠা মুনিবা আলীকে রান আউট করেন। মুনিবা তখন ৪১ রানে খেলছিলেন এবং পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র লড়াইটি টিকিয়ে রেখেছিলেন। মুনিবার বিদায়ের পর পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপে হুড়মুড় করে ধস নামে। মধ্যভাগের ওভারগুলোতে মাত্র ২৬ রান তুলতে তারা হারিয়ে ফেলে ৫টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ভারতীয় স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে পাকিস্তানের ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি।
শেষ পর্যন্ত ১০৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ভারতের হয়ে বল হাতে অবিশ্বাস্য পারফর্ম করা দীপ্তি শর্মা মাত্র ১০ রান খরচ করে ৫টি উইকেট শিকার করেন। এই অবিস্মরণীয় স্পেলের মাধ্যমে তিনি নারী আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির মর্যাদাপূর্ণ রেকর্ড নিজের করে নেন। এছাড়া চরানি মাত্র ২১ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের পরাজয় ত্বরান্বিত করেন।
ফিল্ডিংয়ের ভুলভ্রান্তি এবং নেট রান রেটের সমীকরণ
তবে এই ম্যাচে দুই দলের ফিল্ডিংয়েই বেশ কিছু ঘাটতি চোখে পড়েছে। বেশ কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেছে দুই দলই। তবে শেষ পর্যন্ত ভারতের ডেথ ওভারের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং স্পিনারদের ধারালো বোলিংয়ের কারণেই জয়-পরাজয়ের ব্যবধান এতটা স্পষ্ট হয়েছে। চলতি টুর্নামেন্টে এই গ্রুপটিকে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা ‘গ্রুপ অফ ডেথ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এমন কঠিন গ্রুপে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই ৬৪ রানের বিশাল জয় ভারতকে নেট রান রেটের (NRR) দিক থেকে অনেকখানি এগিয়ে রাখবে। এই দুর্দান্ত জয় ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাসকে তুঙ্গে নিয়ে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।