Litton Das ruled out of final T20I against Australia: বড় ধাক্কা বাংলাদেশের জন্য
Contents
সিরিজের শেষ ম্যাচেও নেই লিটন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চলমান টি২০ সিরিজের শেষ ম্যাচে বড় ধরনের ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। দলের নিয়মিত অধিনায়ক লিটন দাসকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে স্বাগতিকদের। Litton Das ruled out of final T20I against Australia – বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পক্ষ থেকে এমন আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর থেকেই দলের পরিকল্পনা ও একাদশ নিয়ে নতুন করে ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচে পরাজয়ের পর শেষ ম্যাচে যখন বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই, তখন অভিজ্ঞ অধিনায়কের অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে বড় একটি ক্ষতি।
চোটের নেপথ্যে
লিটন দাসের এই চোটের সূত্রপাত হয়েছিল গত ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে। সেদিন ব্যাটিং করার সময় পায়ের কাফ মাসলে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। যদিও সেই ম্যাচে তিনি ব্যাটিং চালিয়ে গিয়েছিলেন এবং শেরে-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ফিফটি হাঁকিয়েছিলেন, তবে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগের মেঘ কাটেনি। ম্যাচের পরবর্তী সময়ে দলের ফিজিও তার অবস্থা নিয়ে খুব একটা আশাব্যঞ্জক কোনো বার্তা দিতে পারেননি।
বিসিবির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন কুমার দাস তার বাম পায়ের কাফ স্ট্রেইন থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে পারেননি। যে কারণে ২১ জুন চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিতব্য তৃতীয় ও শেষ টি২০ ম্যাচে তিনি দলের সঙ্গে থাকতে পারছেন না।’ গত ১৪ জুন ইনজুরিতে পড়ার পর থেকেই তিনি মাঠের বাইরে রয়েছেন। গ্রেড ১+ স্ট্রেইনের কারণে লিটনকে দীর্ঘ সময় বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দলের ওপর প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
লিটনের অভাব পূরণ করতে বাংলাদেশ দলের নির্বাচকরা সৌম্য সরকারকে স্কোয়াডে যুক্ত করেছিলেন। তবে মাঠের খেলায় অধিনায়ক হিসেবে লিটনের অভাব কতটা অনুভূত হচ্ছে, তা প্রথম দুই ম্যাচের ফলাফল থেকেই স্পষ্ট। সিরিজের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দল অজিদের বিরুদ্ধে খাপ খাইয়ে নিতে হিমশিম খাচ্ছে। নিয়মিত অধিনায়ক না থাকায় শেষ ম্যাচেও দলের দায়িত্ব সামলাবেন তাওহীদ হৃদয়। তার নেতৃত্বে তরুণ এই দলটি কতটুকু প্রতিরোধ গড়তে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লড়াই
সিরিজে ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। অজিদের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপ ও কৌশলী ব্যাটিংয়ের বিপরীতে টাইগারদের ব্যাটাররা সেভাবে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি। তবে শেষ ম্যাচে জয় পাওয়াটা কেবল সম্মান রক্ষার নয়, বরং নিজেদের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের জন্যও জরুরি। সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ দলকে ব্যাটিং এবং বোলিং—উভয় বিভাগেই নিজেদের সেরাটা দিতে হবে।
- লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন আসতে পারে।
- চট্টগ্রামের পিচে স্পিনারদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
- তাওহীদ হৃদয়ের অধিনায়কত্ব নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা অনেক।
পরিশেষে, লিটনের না থাকা মানে দলের একজন নির্ভরযোগ্য ব্যাটার এবং অভিজ্ঞ লিডারের অভাব। তবে ক্রিকেটের অনিশ্চিত এই খেলায় যে কোনো কিছু ঘটা সম্ভব। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের স্বাদ নিতে পারে কি না, সেটিই এখন ক্রিকেট প্রেমীদের প্রধান আগ্রহের জায়গা। ভক্তরা আশা করছেন, কঠিন এই সময়ে তরুণ তুর্কিরা বুক চিতিয়ে লড়াই করবে এবং সিরিজের শেষ ম্যাচে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পারফরম্যান্স উপহার দেবে।