Bangladesh Cricket

Jacques Kallis to Kumar Sangakkara: Top 6 Players with Most Player of the Match – টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার জয়ী ৬ ক্রিকেটার: Jacques Kallis to Kumar Sangakkara

Karan Malhotra · · 1 min read

টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার জয়ী ৬ ক্রিকেটার: Jacques Kallis to Kumar Sangakkara

ক্রিকেট খেলাটি সব সময়ই ধারাবাহিক পারফর্মারদের সম্মান জানিয়ে এসেছে, তবে কিছু খেলোয়াড়ের মধ্যে একটি বিরল গুণ ছিল। তারা শুধু ভালো পারফর্ম করেননি, বরং ম্যাচের ফলাফল পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখতেন। ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার ঠিক সেই গুণকেই স্বীকৃতি দেয়। এই পুরস্কার বিজয়ীরা ব্যাট হাতে দলকে জয় এনে দিয়েছেন, কেউ বল হাতে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, এবং কেউ কেউ উভয় বিভাগেই পারদর্শী ছিলেন। আশ্চর্যজনক নয় যে, এই তালিকায় যে নামগুলো রয়েছে, তারা খেলার ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠদের মধ্যে গণ্য। তাদের পারফরম্যান্স কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অসাধারণ দক্ষতার প্রমাণ।

Jacques Kallis. (Credits: X.com)

১. জ্যাক ক্যালিস – ২৩টি পুরস্কার

খুব কম ক্রিকেটারই জ্যাক ক্যালিসের মতো টেস্ট ম্যাচে এমন গভীর প্রভাব ফেলতে পেরেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে দলকে রক্ষা করতে পারতেন এবং বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভেঙে দিতে পারতেন। এই বিরল সমন্বয় তাকে ২৩টি ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার নিয়ে তালিকার শীর্ষে স্থান দিয়েছে। ক্যালিস কখনো মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাননি, তবে তার পারফরম্যান্স প্রায়শই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করত। তার ব্যাটিং ছিল দৃঢ়তা ও ক্লাস পূর্ণ, যা দীর্ঘ সময় ধরে দলকে স্থিতিশীলতা দিত। একই সাথে, তার মিডিয়াম পেস বোলিং ছিল খুবই কার্যকর, যা প্রায়শই পিচের সবচেয়ে কঠিন সময়ে ব্রেক থ্রু এনে দিত। ক্যালিস বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত এবং তার এই রেকর্ড তার অসাধারণ ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতার সাক্ষ্য বহন করে।

READ:  পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়: শান্তর চোখে এটিই বাংলাদেশের সেরা টেস্ট সাফল্য

২. মুত্তিয়া মুরালিধরন – ১৯টি পুরস্কার

শ্রীলঙ্কার যখনই ব্রেক থ্রুর প্রয়োজন হতো, বল প্রায় সবসময় মুত্তিয়া মুরালিধরনের হাতেই যেত। ব্যাটসম্যানরা প্রায়শই তার একটি স্পেল টিকে যেতে পারত, কিন্তু পরের স্পেলেই তারা ধরাশায়ী হতো। যেকোনো পৃষ্ঠে উইকেট নেওয়ার তার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা তাকে শ্রীলঙ্কার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ম্যাচ উইনারে পরিণত করেছিল। ১৯টি ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার তার আধিপত্যকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করে। তার অনন্য বোলিং অ্যাকশন এবং অফ-স্পিন, দুসরা ও ফ্লিপারের বৈচিত্র্য তাকে বিশ্বের যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্য একটি দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছিল। মুরালিধরন কেবল উইকেট নিতেন না, তিনি প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইন আপ ভেঙে দিতেন এবং একা হাতে ম্যাচ জেতাতেন। তার স্পিন জাদুর সামনে বড় বড় ব্যাটসম্যানরাও অসহায় বোধ করতেন।

৩. ওয়াসিম আকরাম – ১৭টি পুরস্কার

ফাস্ট বোলাররা খুব কমই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একটি টেস্ট ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, কিন্তু ওয়াসিম আকরাম ঠিক সেটাই করতেন। রিভার্স সুইং, গতি এবং অতুলনীয় দক্ষতা তাকে এমন জাদুকরী স্পেল তৈরি করতে সাহায্য করত যা একটি একক সেশনেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিত। যতক্ষণ আকরামের হাতে বল থাকত, পাকিস্তান সবসময় বিশ্বাস করত যে তাদের জয়ের সুযোগ আছে। তার বোলিং ছিল শিল্প ও বিজ্ঞানের এক অনন্য মিশ্রণ। নতুন বলে সুইং করানো থেকে শুরু করে পুরোনো বলে রিভার্স সুইংয়ের মাস্টার, আকরাম তার ক্যারিয়ার জুড়ে অসংখ্য স্মরণীয় পারফরম্যান্স দিয়েছেন। তার আক্রমণাত্মক বোলিং এবং কঠিন মুহূর্তে উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা তাকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

৪. শেন ওয়ার্ন – ১৭টি পুরস্কার

শেন ওয়ার্ন স্পিন বোলিংকে বিনোদনমূলক করে তুলেছিলেন। তিনি কেবল ব্যাটসম্যানদের আউট করেননি; তিনি তাদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে পরাজিত করতেন। প্রতিটি স্পেলকে মনে হতো মস্তিষ্কের একটি যুদ্ধ, এবং প্রায়শই ওয়ার্নই জয়ী হতেন। তার ১৭টি ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার কেবল অস্ট্রেলিয়ার জন্য তার বিশাল পার্থক্য সৃষ্টিকারী ভূমিকাকেই তুলে ধরে। লেগ-স্পিনের এই জাদুকর তার ‘বল অফ দ্য সেঞ্চুরি’ দিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন এবং এরপর থেকে তিনি ছিলেন অদম্য। তার ফ্লাটার, গুগলি এবং টপ-স্পিনের বৈচিত্র্য ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করত। ওয়ার্ন শুধু একজন বোলার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বিনোদনকারী, যিনি তার বোলিং দিয়ে লাখ লাখ ক্রিকেটপ্রেমীর মন জয় করেছিলেন।

READ:  Nigar Sultana Joty excited for 6th World Cup as Bangladesh eye strong campaign

৫. কুমার সাঙ্গাকারা এবং রিকি পন্টিং – ১৬টি পুরস্কার

কুমার সাঙ্গাকারা – ১৬টি পুরস্কার

কেবল মার্জিত ব্যাটিং ১৬টি ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার এনে দেয় না। কুমার সাঙ্গাকারা তার খ্যাতি গড়ে তুলেছিলেন শ্রীলঙ্কার যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন পারফর্ম করে। লক্ষ্য তাড়া করা হোক বা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করা হোক, চাপ তাকে খুব কমই প্রভাবিত করতে পারত। তার ধারাবাহিকতা তাকে খেলার ইতিহাসে অন্যতম সেরা বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে তৈরি করেছে। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে তার ভূমিকা দলের জন্য ছিল অমূল্য। সাঙ্গাকারার ব্যাটিং ছিল সৌন্দর্য, দৃঢ়তা এবং মানসিক শক্তির এক অসাধারণ মিশ্রণ। তিনি বড় রান করতে জানতেন এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিতে জানতেন।

রিকি পন্টিং – ১৬টি পুরস্কার

খুব কম অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের মতো সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বড় উপলক্ষ ভালোবাসতেন এবং প্রায়শই সম্পূর্ণ কর্তৃত্বের সাথে বোলিং আক্রমণকে শাস্তি দিতেন। স্বভাবগতভাবে আক্রমণাত্মক পন্টিং একবার ছন্দ খুঁজে পেলে প্রতিপক্ষকে খুব কমই থিতু হতে দিতেন। তার ১৬টি ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কার আরও একবার মনে করিয়ে দেয় যে তিনি কতবার অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের পথে নিয়ে গেছেন। তার অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া বিশ্ব ক্রিকেটে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিল, এবং ব্যাট হাতে তার পারফরম্যান্স ছিল সেই সাফল্যের মূল চালিকা শক্তি। পন্টিং ছিলেন একজন নির্ভীক ব্যাটসম্যান, যিনি প্রতিপক্ষকে প্রতিনিয়ত চাপে রাখতেন।

এই ছয় ক্রিকেটার তাদের নিজস্ব উপায়ে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের অমরত্ব লাভ করেছেন। তাদের পারফরম্যান্স কেবল ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রতীক নয়, বরং দলের জন্য তাদের অপরিহার্য মূল্যকেও তুলে ধরে। ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারের এই তালিকা প্রমাণ করে যে, কিছু খেলোয়াড় খেলার ফলাফলকে নিজেদের হাতে নিয়ে নিতে পারেন এবং সেই ক্ষমতা তাদের কিংবদন্তিতে পরিণত করে।