Bangladesh Cricket

Nigar Sultana Joty excited for 6th World Cup as Bangladesh eye strong campaign

Arthur Sethi · · 1 min read

বিশ্বমঞ্চে নতুন স্বপ্নের হাতছানি

আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজিত হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে। এই টুর্নামেন্টে অংশ নিতে যাওয়া ১২টি দলের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির জন্য এটি তার ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ আইসিসি টুর্নামেন্ট এবং অধিনায়ক হিসেবে তৃতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। Nigar Sultana Joty excited for 6th World Cup as Bangladesh eye strong campaign, এমন এক সময়ে যখন পুরো দল নতুন উদ্যমে জ্বলে ওঠার অপেক্ষায় আছে।

অধিনায়কের অনুভূতি ও দীর্ঘ যাত্রা

আইসিসির সাথে আলাপচারিতায় জ্যোতি তার দীর্ঘ ক্রিকেটীয় যাত্রার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সপ্তম আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চিত। এটি আমার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। ২০১৬ সালে যখন ১৮ বছর বয়সে প্রথমবার খেলেছিলাম, তখন ভাবিনি যে তৃতীয়বারের মতো অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দেব।’ তিনি এই যাত্রাটিকে চ্যালেঞ্জিং কিন্তু অত্যন্ত গর্বের বলে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে দলের তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং দলের ঐক্য তাকে সবচেয়ে বেশি আনন্দ দেয়।

সাফল্যের নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয়

২০২৪ সাল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর। দীর্ঘ ১০ বছর পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে পাওয়া সেই জয়টিকে জ্যোতি দলের ইতিহাসের একটি টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে দেখছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, এই জয় থেকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। যদিও বিশ্বকাপে তাদের গ্রুপটি বেশ কঠিন, যেখানে নিয়মিত সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলা দলগুলো রয়েছে, তবুও তিনি আত্মবিশ্বাসী যে বাংলাদেশ যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রাখে।

READ:  Juairiya’s fifty powers Bangladesh to winning start at Women’s T20 World Cup

তরুণ তুর্কি ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স

সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক সিরিজে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও দলের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নিয়ে আশাবাদী জ্যোতি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজে স্বর্ণা আক্তার ও শারমিন আক্তারের ব্যাটিং নৈপুণ্য এবং সুলতানা খাতুনের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং দলকে উজ্জীবিত করেছে। জ্যোতি জানান, যদিও ফলাফল সবসময় তাদের পক্ষে আসেনি, তবে এই ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সগুলো বিশ্বকাপে বড় ভূমিকা রাখবে।

ইংল্যান্ডের কন্ডিশন ও প্রস্তুতি

বর্তমানে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সাথে ট্রাই-সিরিজে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ। এটি ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে সাহায্য করছে। জ্যোতি বলেন, ‘ইংল্যান্ডে এটাই আমাদের প্রথমবার খেলা। তাই পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিতে একটু সময় লাগবে, তবে আমরা দারুণ কিছুর প্রত্যাশা করছি।’

নারী ক্রিকেটের প্রসারে নতুন দিগন্ত

টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জ্যোতি। তিনি মনে করেন, এটি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়নে বড় প্রভাব ফেলবে। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে নারী ক্রিকেটকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে এবং সেই অগ্রযাত্রার অংশ হতে পেরে তিনি আনন্দিত। আগামী ১৪ জুন নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। পুরো জাতি তাকিয়ে আছে জ্যোতির দলের দিকে, যারা নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স দিয়ে বিশ্ব জয় করার স্বপ্ন দেখছে।

উপসংহার

নিগার সুলতানা জ্যোতির অভিজ্ঞতা এবং তরুণদের উদ্দীপনা মিলিয়ে বাংলাদেশ নারী দল এবার বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। কঠিন গ্রুপ হওয়া সত্ত্বেও, দলের আত্মবিশ্বাস এবং জয়ের ক্ষুধা তাদের সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে নিতে পারে। ভক্তদের প্রত্যাশা, এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কেবল অংশগ্রহণ করবে না, বরং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের স্বাক্ষর রাখবে।