লিটন দাসের সেঞ্চুরিকে ‘অত্যন্ত ভাগ্যবান’ আখ্যা খুররম শাহজাদের
Contents
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন: পাকিস্তানের চোখে লিটন দাসের ইনিংস
দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষে পাকিস্তান নিজেদের ভালো অবস্থানেই দেখছে। যদিও দিনের শেষ ভাগে বাংলাদেশের লোয়ার অর্ডার ব্যাটারদের প্রতিরোধ তাদের কিছুটা চাপে ফেলেছিল, তবুও পেসার খুররম শাহজাদ আত্মবিশ্বাসী। তিনি মনে করেন, সিলেটের পিচ ঢাকার চেয়ে অনেক ভালো এবং পাকিস্তান এখনও চালকের আসনেই রয়েছে।
পিচ ও খেলার পরিস্থিতি
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে খুররম শাহজাদ বলেন, ‘আমরা প্রতিপক্ষকে ৩০০ রানের নিচেই অলআউট করতে পেরেছি। এই পিচ ঢাকার উইকেটের চেয়ে ভিন্ন। এখানে ব্যাটিং করা সহজ এবং ফাটল বা অসম বাউন্সের অভাব রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য হলো ৪০০ থেকে ৪৫০ রান সংগ্রহ করা।’
লিটন দাসের লড়াই এবং পাকিস্তানের হতাশা
দিনের শুরুতে বাংলাদেশ মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। মনে হচ্ছিল পাকিস্তান হয়তো বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাবে। কিন্তু সেখান থেকেই লিটন দাসের দৃঢ়তায় ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। লিটনের এই ইনিংসটি রাওয়ালপিন্ডির স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়, যেখানে তিনি একইভাবে দলকে খাদের কিনারা থেকে তুলে এনেছিলেন। লিটনের এই লড়াইয়ের কারণেই শেষ ৪ উইকেটে বাংলাদেশ ১৬২ রান যোগ করতে পেরেছে।
লিটনের ভাগ্য ও ডিআরএস বিতর্ক
ম্যাচের মোড় ঘোরানো একটি মুহূর্ত ছিল লিটন দাসের আউটের আবেদন। লিটন তখন ৫২ রানে ব্যাট করছিলেন, তখন শাহজাদের একটি বাউন্সারে বল তার গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে জমা পড়ে। পাকিস্তান দল আবেদন করলেও শেষ রিভিউটি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে আল্ট্রাএজে স্পষ্ট দেখা যায় যে বলটি গ্লাভসে লেগেছিল। এই জীবন পাওয়ার পর লিটন আরও ৭৪ রান যোগ করেন।
শাহজাদ সরাসরিই বলেন, ‘লিটন অত্যন্ত ভাগ্যবান ছিল। আমরা রিভিউ নিতে ব্যর্থ হয়েছিলাম যা আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। যদি তাকে তখন আউট করা যেত, তবে ম্যাচের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। তবে এটিই খেলার অংশ। যদি তিনি তখন আউট হতেন, আমি নিশ্চিত আমরা তাদের ২০০ রানের মধ্যেই অলআউট করে দিতে পারতাম।’
আক্রমণাত্মক মানসিকতা বজায় রাখা
অনেকেই প্রশ্ন তুলছিলেন যে পাকিস্তান ফিল্ডিংয়ে রক্ষণাত্মক ছিল কি না। শাহজাদ এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা তাকে বেশ কিছু বাউন্সার দিয়েছিলাম। আমার বোলিংয়ে দুটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে একটি রিভিউ না নেওয়া এবং অন্যটি স্কয়ার লেগে ক্যাচ মিস। আমরা আক্রমণাত্মক ছিলাম, তবে যখন আপনি আক্রমণ করবেন তখন রান দেওয়ার ঝুঁকিও থাকে। ফিল্ড সেটিং সম্পূর্ণ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রথম দিনের লড়াই শেষে পাকিস্তান তাদের বোলিং নৈপুণ্য নিয়ে সন্তুষ্ট থাকলেও লিটন দাসের প্রতিরোধের কারণে তাদের পরিকল্পনা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তবে শাহজাদ মনে করেন, সিলেটের ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে বড় সংগ্রহ গড়ে তোলাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য। দুই দলের লড়াইয়ের এই পর্যায়টি এখন বেশ জমজমাট আকার ধারণ করেছে এবং ম্যাচের পরবর্তী দিনগুলোতে দুই পক্ষই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণে মরিয়া থাকবে।
ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য সিলেট টেস্টের এই লড়াইটি নিঃসন্দেহে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা, অন্যদিকে পাকিস্তানের ধারাবাহিকতা—সব মিলিয়ে টেস্টটি এক দুর্দান্ত লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।