Cricket News

বাবর আজমকে কাঁপানোর পর আইপিএলে কি খেলবেন নাহিদ রানা? তামিম ইকবালের সতর্কবার্তা

Aniket Verma · · 1 min read

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের রমরমা যুগ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ দ্বন্দ্ব

বর্তমান সময়ে বিশ্ব ক্রিকেটে এক নতুন ধারা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যেখানে অনেক তরুণ ও প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়ই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চেয়ে বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। ক্রিকেট বিশ্বের এই পরিবর্তন নিয়ে চারদিকে নানামুখী আলোচনা চলছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল), পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) এবং দ্য হান্ড্রেডের মতো টুর্নামেন্টগুলো ক্রিকেটারদের বিশাল অঙ্কের আর্থিক চুক্তি এবং বৈশ্বিক পরিচিতির হাতছানি দিয়ে আকর্ষণ করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের তরুণ পেস সেনসেশন নাহিদ রানার আইপিএল ও অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের জোয়ারে দেশের হয়ে খেলার আবেগ: তামিম ইকবালের দৃষ্টিভঙ্গি

সম্প্রতি দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট এবং দেশের হয়ে খেলার টান নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা বলেছেন। তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, নাহিদ রানার মতো তরুণ ও প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা যদি বিশাল অর্থের লোভে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগকে বেছে নেন এবং দেশের হয়ে খেলা এড়িয়ে চলেন, তবে তা কতটা উদ্বেগের? এর জবাবে তামিম স্পষ্ট করে বলেন যে, ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর জনপ্রিয়তা যতই বৃদ্ধি পাক না কেন, দেশের হয়ে খেলার আবেগ ও মর্যাদার স্থান সবসময়ই আলাদা থাকবে।

তামিমের মতে, বিশ্বের বহু ক্রিকেটার ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলো থেকে কোটি কোটি টাকার প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও দেশের হয়ে খেলাকেই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি বলেন, “এমন কিছু জিনিস আছে যা টাকা দিয়ে কেনা যায় না, আর তা হলো দেশের হয়ে খেলার আবেগ ও ভালোবাসা। যদি টাকার খেলাই সব হতো, তবে ৮০ শতাংশ ক্রিকেটারই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের দিকে চলে যেত। আমি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকে অত্যন্ত সম্মান করি, কিন্তু যখন আপনি আপনার দেশের হয়ে খেলবেন, সেই অনুভূতি কোনো অর্থ দিয়ে কেনা সম্ভব নয়।”

READ:  আরসিবি যেন অস্ট্রেলিয়া দল! ভুবনেশ্বর কুমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ জশ হেজেলউড

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দেশের কথাই ধরুন, এখানে অনেক সুপারস্টার ক্রিকেটার বড় বড় প্রস্তাব পান, কিন্তু তারা এখনও দেশের হয়েই খেলছেন। এগুলো এমন কিছু বিষয় যা দেশপ্রেমের তাগিদে মন থেকে আসে। যদি আমরা ফুটবলের সাথে তুলনা করি, তবে সেখানে খেলোয়াড়রা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করেন, কিন্তু যখন দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামার সুযোগ আসে, তারা সবকিছু ফেলে দেশের হয়ে খেলতে চলে যান। হ্যাঁ, কিছু ব্যতিক্রম অবশ্যই থাকবে এবং কিছু ক্রিকেটার হয়তো ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটকেই বেছে নেবেন, তবে সিংহভাগ ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে এই আবেগ পরিবর্তন হবে না।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে নাহিদ রানার বিধ্বংসী পারফরম্যান্স

পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ২-০ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ জয়ে নাহিদ রানা এক অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। পুরো সিরিজে নিজের গতি এবং আগ্রাসী বোলিং দিয়ে পাকিস্তানের বিশ্বমানের ব্যাটিং লাইনআপকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন এই তরুণ ডানহাতি পেসার। নাহিদ রানার মতো তরুণ বোলাররা যখন ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে বল করতে পারেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের বড় বড় লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর নজর তাদের ওপর পড়ে।

সিরিজে নাহিদ রানার বোলিং পরিসংখ্যান:

  • মোট উইকেট: চার ইনিংসে নাহিদ রানা শিকার করেছেন মোট ১১টি উইকেট।
  • সেরা বোলিং পারফরম্যান্স: সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৪০ রান দিয়ে ৫টি উইকেট লাভ করেন তিনি, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।
  • অনবদ্য ওয়ানডে পারফরম্যান্স: টেস্ট সিরিজের পাশাপাশি ওয়ানডে সিরিজেও তিনি তার দুর্দান্ত ফর্ম প্রদর্শন করেন এবং ৩ ম্যাচে ৮টি উইকেট নেন।

বাবর আজম বনাম নাহিদ রানা: পিএসএল থেকে টেস্ট ম্যাচ

নাহিদ রানার সাথে পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার বাবর আজমের সম্পর্ক বেশ কৌতূহল উদ্দীপক। পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নাহিদ রানা বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পেশোয়ার জালমি দলের হয়ে খেলেছিলেন। সেই টুর্নামেন্টে ৫ ইনিংসে ৯টি উইকেট নিয়ে দলকে শিরোপা জেতাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন নাহিদ। তবে পরবর্তীতে যখন আন্তর্জাতিক টেস্ট সিরিজে বাবর আজম নাহিদ রানার মুখোমুখি হন, তখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বাবর আজমকে নাহিদের গতিময় বলগুলোর সামনে বেশ সংগ্রাম করতে দেখা গেছে। নাহিদের গতি ও আগ্রাসনের সামনে বাবর আজমের এই অসহায়ত্ব ক্রিকেটপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

READ:  বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তান দ্বিতীয় টেস্ট: সম্ভাব্য একাদশ ও ম্যাচের বিশ্লেষণ

তরুণ ক্রিকেটারদের প্রতি তামিমের সতর্কবার্তা ও পরামর্শ

সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল নাহিদ রানার উদাহরণ টেনে বলেন যে, একজন তরুণ ক্রিকেটারের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বিশাল অঙ্কের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়া কতটা কঠিন হতে পারে, বিশেষ করে যখন বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি লিগ খেলে অনেক বেশি অর্থ উপার্জন করার সুযোগ থাকে। তবে তামিম বিশ্বাস করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলে নাহিদ রানার মতো তরুণরা কখনই দেশের হয়ে খেলার গৌরবকে খাটো করে দেখবেন না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ঐতিহ্য ও গৌরব ধরে রাখতে হলে ক্রিকেটারদের এই দেশপ্রেমের মানসিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মনে করেন।