আরসিবি যেন অস্ট্রেলিয়া দল! ভুবনেশ্বর কুমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ জশ হেজেলউড
Contents
আরসিবি যেন এক টুকরো অস্ট্রেলিয়া: জশ হেজেলউডের চোখে বেঙ্গালুরু শিবির
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) অভিজ্ঞ অস্ট্রেলিয়ান পেসার জশ হেজেলউড ২০২৫ সালে দলে ফেরার পর থেকেই দলের বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের এই ডানহাতি পেসার তার আইপিএল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের সাথে, যেখানে তিনি ২০২১ সালে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন। এরপর ২০২২ সালে বেঙ্গালুরুতে যোগ দেওয়ার পর থেকে তিনি দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে ২০২৫ সালের আইপিএল শিরোপা জয়ে তার ভূমিকা ছিল অনবদ্য।
রোববার বিকেলে ধর্মশালায় পাঞ্জাব কিংসের (PBKS) মুখোমুখি হওয়ার আগে ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা তার বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজি সম্পর্কে এক বিশেষ মন্তব্য করেছেন। হেজেলউডের মতে, বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলা তার কাছে অনেকটা অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে খেলার মতোই মনে হয়। ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “এটি অনেকটা অস্ট্রেলিয়া দলের মতোই মনে হয়, যেখানে প্রতিটি ভিত্তি বা ‘বেস’ খুব সুন্দরভাবে কভার করা থাকে। বিভিন্ন দক্ষতা এবং শৈলীর খেলোয়াড়রা প্রতিপক্ষের জন্য কাজটা কঠিন করে তোলে।”
ভুবনেশ্বর কুমারের সাথে জুটির রসায়ন: কামিন্স-স্টার্কের স্মৃতি
চলতি মরসুমে হেজেলউড এখন পর্যন্ত ১১টি উইকেট শিকার করেছেন। তবে তিনি নিজেকে আদর্শ সঙ্গী হিসেবে দেখছেন ভুবনেশ্বর কুমারের, যিনি বর্তমানে ২২টি উইকেট নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। ভারতের অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বরের প্রশংসা করতে গিয়ে হেজেলউড তাকে তার জাতীয় দলের সতীর্থ প্যাট কামিন্স এবং মিচেল স্টার্কের সাথে তুলনা করেছেন।
হেজেলউড বলেন, “ভুবনেশ্বরের সাথে বোলিং করা অনেকটা প্যাট কামিন্স এবং মিচেল স্টার্কের সাথে বোলিং করার মতো। সে (ভুবনেশ্বর) বল পিচ করে উপরে রাখতে পছন্দ করে এবং বল সুইং করায়। অন্যদিকে, আমি সিম ব্যবহার করতে এবং বল বাউন্স করাতে ভালোবাসি। আমাদের গত দুই বছর খেলোয়াড়দের একটি দুর্দান্ত মিশ্রণের সাথে খুব ভালো কেটেছে।”
আরসিবির বোলিং ইউনিটের সামগ্রিক সাফল্য
রাজত পাতিদারের নেতৃত্বে আরসিবির বোলাররা নতুন বলের পাশাপাশি মিডল ওভার এবং ডেথ ওভারেও দুর্দান্ত পারফর্ম করছেন। শুধুমাত্র হেজেলউড এবং ভুবনেশ্বর জুটিই নয়, কিউই পেসার জেকব ডাফিও সুযোগ পেলেই নিজের জাত চেনাচ্ছেন। তরুণ বোলার রসিক সালাম দার ডেথ ওভারে তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন, বিশেষ করে তার স্লোয়ার বলগুলো প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের জন্য ধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্পিন বিভাগ ও অন্যান্যদের অবদান:
- ক্রুনাল পান্ডিয়া: অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডার স্পিন বিভাগকে দারুণভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং ১০টি উইকেট শিকার করেছেন।
- সুয়াশ শর্মা: তরুণ এই লেগ-স্পিনার ক্রুনালকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ৭টি উইকেট তুলে নিয়েছেন।
- জেকব ডাফি ও রোমারিও শেফার্ড: দুজনেই ৬টি করে উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রাখছেন।
২০২৬ মরসুমের সেরা মুহূর্ত: দিল্লির বিরুদ্ধে সেই জয়
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আরসিবি এই মরসুমেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। প্লে-অফে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করতে তাদের আর মাত্র একটি জয় প্রয়োজন। এই সাফল্যের পথচলায় হেজেলউড তার প্রিয় মুহূর্ত হিসেবে দিল্লি ক্যাপিটালসের (DC) বিরুদ্ধে ম্যাচটিকে চিহ্নিত করেছেন।
সেই ম্যাচের স্মৃতি চারণ করে হেজেলউড বলেন, “যখন সবকিছু আপনার পরিকল্পনা অনুযায়ী চলে, যেমনটা দিল্লির বিরুদ্ধে ম্যাচে হয়েছিল যেখানে ভুবি এবং আমি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ছিলাম। এক ওভারে অনেক রান দেওয়ার পরেও যখন ইয়র্কার এবং স্লোয়ার বলের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানো যায় এবং শেষ পর্যন্ত ভালো ফিগার নিয়ে ম্যাচ শেষ করা যায়, তখন সেটি আমাকে গর্বিত করে।”
প্লে-অফের পথে আরসিবি: লক্ষ্য এখন শিরোপা রক্ষা
২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নরা এখন ২০২৬ সালেও তাদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে মরিয়া। দলের ভারসাম্য এবং বোলারদের ফর্ম রাজত পাতিদারের দলকে এক শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে। জশ হেজেলউডের অভিজ্ঞতা এবং ভুবনেশ্বর কুমারের উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা আরসিবিকে আরও একবার ফাইনালের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। দলের প্রতিটি খেলোয়াড় তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করছেন, যা হেজেলউডকে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দলের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
আগামী ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে আরসিবি যে এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ক্রিকেট ভক্তরা এখন অপেক্ষায় আছেন ধর্মশালার মাঠে হেজেলউড ও ভুবনেশ্বর জুটির আরও একটি বিধ্বংসী স্পেল দেখার জন্য।