Cricket News

আইপিএল ২০২৬: Ishan Kishan Brushed Aside In SRH Dressing Room, Other Players Roll On The Floor – এক মজার ঘটনা!

Arthur Sethi · · 1 min read

ক্রিকেট মাঠ যেমন উত্তেজনা আর নাটকীয়তায় ভরা থাকে, তেমনই ড্রেসিংরুমও সাক্ষী হয় অসংখ্য মজার ও অপ্রত্যাশিত মুহূর্তের। সম্প্রতি আইপিএল ২০২৬-এর একটি ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের ড্রেসিংরুমে ঘটে যাওয়া এমনই এক ঘটনা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দলের তরুণ প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান ইশান কিষান একটি দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার পরেও, এক মজার ভুল বোঝাবুঝির শিকার হন, যা ড্রেসিংরুমের বাকি খেলোয়াড়দের হাসির রোল তুলে দেয়।

আরসিবি-র বিরুদ্ধে হায়দ্রাবাদের দাপুটে জয়

২২শে মে উাপ্পাল স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (আরসিবি)-এর মুখোমুখি হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (এসআরএইচ)। এই ম্যাচে হায়দ্রাবাদ তাদের ব্যাটিং শক্তির চূড়ান্ত প্রদর্শন করে এবং স্কোরবোর্ডে ২৫৫ রানের বিশাল লক্ষ্য দাঁড় করায়। অভিষেক শর্মা, হেনরিখ ক্লাসেন এবং ইশান কিষান প্রত্যেকেই অসাধারণ অর্ধশতরানের ইনিংস খেলেন। তাদের সাথে ট্র্যাভিস হেড এবং নীতিশ রেড্ডিও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন, যা দলকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দেয়। ইশান কিষান বিশেষ করে তার ৪৬ বলে ৭৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস দিয়ে সকলের নজর কাড়েন, যা ছিল দলের বিশাল স্কোরের অন্যতম প্রধান কারণ।

জবাবে, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর রান তাড়া করতে গিয়ে পুরোপুরি ছন্দ হারিয়ে ফেলে। তারা নির্ধারিত ২০ ওভারে মাত্র ২০০ রান তুলতে সক্ষম হয় এবং এসআরএইচ ৫৫ রানে এক বিশাল জয় নিশ্চিত করে। এই জয় আইপিএল ২০২৬-এর লিগ পর্যায় একটি ইতিবাচক নোট দিয়ে শেষ করার জন্য সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

ড্রেসিংরুমে ইশান কিষানের মজার বিব্রতকর মুহূর্ত

ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে যখন বিজয়ের উৎসব চলছিল, তখন দলের পারফরম্যান্সের সেরা খেলোয়াড়কে পুরস্কৃত করার পালা আসে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সাপোর্ট স্টাফরা যখন সেরা পারফর্মারকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, তখন ইশান কিষান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করছিলেন যে তিনিই এই পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার। তার ব্যাট থেকে আসা ৭৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংসের পর এমনটা ভাবা স্বাভাবিকও ছিল।

READ:  আরসিবি যেন অস্ট্রেলিয়া দল! ভুবনেশ্বর কুমারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ জশ হেজেলউড

কোচিং স্টাফের একজন যখন ‘ইশান’ নামটি উচ্চারণ করেন, তখন ইশান কিষান আত্মবিশ্বাসের সাথে উঠে দাঁড়ান, এই ভেবে যে তাকেই ডাকা হয়েছে। তার মুখে ছিল এক উজ্জ্বল হাসি, যা পুরস্কার জেতার প্রত্যাশায় ঝলমল করছিল। কিন্তু এর পরের মুহূর্তটি তার জন্য ছিল বেশ বিব্রতকর এবং ড্রেসিংরুমের অন্যদের জন্য ছিল হাসির খোরাক।

আসলে, কোচিং স্টাফ ‘ইশান’ নয়, ‘ইশান মালিঙ্গা’ নামটি উচ্চারণ করেছিলেন। উভয় নামের উচ্চারণে এতটাই সাদৃশ্য ছিল যে ইশান কিষান বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তার হাসিমাখা মুখটি মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায় এবং এক বিব্রতকর হাসি নিয়ে তিনি আবার নিজের আসনে বসে পড়েন, নিজের মুখ লুকানোর চেষ্টা করেন। এই দৃশ্য দেখে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের পুরো ড্রেসিংরুম হাসির রোলে ফেটে পড়ে। খেলোয়াড়রা হাসতে হাসতে মেঝেতে গড়াগড়ি খাওয়ার উপক্রম হয়, যা ড্রেসিংরুমের হালকা মেজাজকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনাটি Ishan Kishan Brushed Aside In SRH Dressing Room, Other Players Roll On The Floor – এই শিরোনামকে পুরোপুরি সার্থক করে তোলে।

কেন ইশান মালিঙ্গা সেরা পারফর্মার পুরস্কার পেলেন?

ইশান কিষান ব্যাট হাতে নিঃসন্দেহে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছিলেন। কিন্তু ইশান মালিঙ্গাও বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন, যা তাকে সেরা পারফর্মারের পুরস্কার এনে দেয়। মালিঙ্গা তার চার ওভারে মাত্র ৩৩ রান দিয়ে ভেঙ্কটেশ আইয়ার এবং দেবদূত পাডিক্কালের মতো দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানের উইকেট শিকার করেন। তার এই পারফরম্যান্স আরসিবি-র রান তাড়ার গতিকে থামিয়ে দিতে সহায়তা করেছিল এবং দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।

যদিও আরসিবি এরপর আর জয়ের জন্য সেভাবে চেষ্টা করেনি, তবে তাদের লক্ষ্য ছিল পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষ দুইয়ে থাকার জন্য অন্তত ১৬০ রান সংগ্রহ করা। রজত পাতিদার এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া ৮৪ রানের একটি মূল্যবান জুটি গড়ে তোলেন, যা আরসিবি-কে বড় ধরনের পতন থেকে রক্ষা করে এবং তারা ২০০/৪ স্কোর নিয়ে ম্যাচ শেষ করে। এই ফলাফলের পর, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে শেষ করে, এবং আরসিবি ও গুজরাট টাইটানস এখন কোয়ালিফায়ার ১-এ একে অপরের মুখোমুখি হবে।

READ:  রোহিত শর্মার ২০২৭ বিশ্বকাপ স্বপ্ন কি শেষ? ভারতীয় ক্রিকেটে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

ড্রেসিংরুমের প্রশংসা ছাড়িয়ে ইশান কিষানের প্রভাব

ড্রেসিংরুমের ছোটখাটো পুরস্কার বা প্রশংসা খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে একটিমাত্র পুরস্কার কখনোই একজন খেলোয়াড়ের সামগ্রিক প্রভাব বা অবদানকে ম্লান করতে পারে না। ইশান কিষানের ক্ষেত্রেও ঠিক একই কথা প্রযোজ্য। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জন্য তার অবদান যেকোনো পুরস্কারের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান।

আইপিএল ২০২৬-এর ১৪টি ম্যাচে ইশান কিষান ৪০.৬৪ গড়ে মোট ৫৬৯ রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ছয়টি অর্ধশতরান। এটি প্রমাণ করে যে তিনি ধারাবাহিক পারফর্মার হিসেবে দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ব্যাট হাতেই নয়, প্যাট কামিন্স যখন অধিনায়ক হিসেবে অনুপলব্ধ ছিলেন, তখন কিষান দলকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জয় এনে দিয়েছেন। তার এই ছোট ছোট অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদানগুলো অনেক সময় ড্রেসিংরুমের আনুষ্ঠানিক পুরস্কারের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায়, কিন্তু এর মানে এই নয় যে ইশান কিষান তার সতীর্থদের চেয়ে কোনো অংশে কম। তার পরিশ্রম, নিষ্ঠা এবং দলের প্রতি অঙ্গীকার প্রতিটি ম্যাচেই স্পষ্ট। এই মজার ঘটনাটি হয়তো তাকে সাময়িকভাবে বিব্রত করেছে, কিন্তু তার পারফরম্যান্স এবং দলের প্রতি তার অবদান অনস্বীকার্য।