Bangladesh Cricket

মিরপুরের পিচ আমার ব্যাটিং গড় কমিয়ে দিয়েছে: লিটন দাস

Aniket Verma · · 1 min read

মিরপুরের পিচ ও লিটন দাসের ব্যাটিং গড়: একটি বিশদ বিশ্লেষণ

বাংলাদেশি ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যাটার লিটন দাস সম্প্রতি তার ওয়ানডে ব্যাটিং গড় নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তার মতে, ক্যারিয়ারের একটি বড় সময় মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খেলার কারণে তার পরিসংখ্যান সেভাবে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেনি। তিনি মনে করেন, পরিসংখ্যান কেবল সংখ্যা মাত্র, কিন্তু মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি সবসময় তাতে প্রতিফলিত হয় না।

পরিসংখ্যানের সীমাবদ্ধতা ও মিরপুরের কন্ডিশন

ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩০-এর আশেপাশে ব্যাটিং গড় নিয়ে লিটন নিজে খুব একটা সন্তুষ্ট নন। তার মতে, বিশ্ব ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে এটি খুব একটা ঈর্ষণীয় নয়। তবে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ যে ধরনের কন্ডিশনে বেড়ে উঠেছে এবং খেলেছে, সেখানে এমন গড়কে একপ্রকার গ্রহণীয় বলেই ধরে নেওয়া যায়। লিটনের ভাষায়, যদি অন্য কোনো দেশের হয়ে খেললে এই গড় থাকতো, তবে তিনি একে অবশ্যই ‘খারাপ’ হিসেবেই গণ্য করতেন।

মিরপুরের পিচ নিয়ে লিটন বেশ স্পষ্টভাষী। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এই মাঠের উইকেট বোলারদের জন্য স্বর্গ এবং ব্যাটারদের জন্য দুঃস্বপ্ন ছিল। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে দলগুলো নিয়মিত বড় স্কোর করছে, সেখানে মিরপুরে ১২০ রানের লক্ষ্য তাড়া করাও অনেক সময় কঠিন মনে হতো। তিনি বলেন, ‘যদি আমি এত বেশি ম্যাচ মিরপুরে না খেলতাম, তবে আমার ব্যাটিং গড় এবং স্ট্রাইক রেট অনেক ভালো থাকতো।’

বোলারদের জন্য সহজ, ব্যাটারদের জন্য কঠিন

লিটন দাসের মতে, মিরপুরের উইকেটে ব্যাটিং করা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল তা পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়। অনেক সময় বোলাররা নিজেরাও জানতেন না বল কীভাবে আচরণ করবে, সেখানে ব্যাটারের জন্য বলের গতিপ্রকৃতি বোঝা প্রায় অসম্ভব ছিল। বিশ্বের বাঘা বাঘা ব্যাটাররাও মিরপুরের পিচে খাবি খেয়েছেন, যা প্রমাণ করে উইকেট কতটা জটিল ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ‘পুরানো সেই পিচগুলো একজন ব্যাটারের ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট ছিল, যদিও দল জিতছিল বলে সবাই খুশি ছিল।’

READ:  CSK to SRH: Top five teams that reached the playoffs the most times

উইকেটের মানোন্নয়ন ও আগামীর সম্ভাবনা

তবে স্বস্তির খবর হলো, সাম্প্রতিক সময়ে মিরপুরসহ বাংলাদেশের উইকেটগুলোর মান অনেক উন্নত হয়েছে। লিটন বিশ্বাস করেন, এভাবে যদি আরও পাঁচ-ছয় বছর ভালো উইকেটে খেলা হয়, তবে বাংলাদেশি ব্যাটারদের গড় এবং স্ট্রাইক রেট দুই-ই পাল্টে যাবে। এটি কেবল ব্যক্তিগত উন্নতির পথই প্রশস্ত করবে না, বরং দলের সামর্থ্যকেও বাড়িয়ে তুলবে।

ব্যক্তিগত লক্ষ্য ও ক্যারিয়ারের স্বপ্ন

বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও, লিটন নিজেকে মূলত একজন ব্যাটার হিসেবেই দেখেন। তার ব্যক্তিগত বড় লক্ষ্যগুলোর একটি হলো ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের গড় অন্তত ৪০ থেকে ৪৫-এর কোঠায় নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ওয়ানডে ক্যারিয়ার শেষে গড় ৪০ থেকে ৪৫-এর মধ্যে দেখতে চাই। আমি ইতিমধ্যে ১০০টির বেশি ম্যাচ খেলে ফেলেছি, যার বেশিরভাগই ছিল কঠিন পিচে। এখন ভালো উইকেট পাচ্ছি, তাই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে পরিসংখ্যান অবশ্যই উন্নত হবে।’

উপসংহার

লিটন দাসের এই পর্যবেক্ষণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে টিকে থাকতে হলে টেকনিকের পাশাপাশি কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়া জরুরি, কিন্তু যখন পিচই ব্যাটারের বিরুদ্ধে কাজ করে, তখন স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখা কঠিন। তবে বর্তমানে উইকেটের যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তাতে লিটন দাসের মতো ব্যাটাররা তাদের ব্যাটিং ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে আরও ভালো নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে পারবেন বলে আশা করা যায়।