CSK to SRH: Top five teams that reached the playoffs the most times
Contents
আইপিএলের লড়াই: প্লে-অফের রেকর্ড এবং ধারাবাহিকতা
আইপিএল হলো এমন এক মঞ্চ যেখানে একটি বাজে মৌসুম কোনো দলকে রাতারাতি নায়ক থেকে খলনায়কে পরিণত করতে পারে। ভক্তরা এক বছর মাথায় তুলে নাচেন তো অন্য বছর ট্রোলের বন্যা বইয়ে দেন। এই কারণেই এই টুর্নামেন্টে প্লে-অফে টিকে থাকা বা ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাত্র একটি শিরোপা জেতা বিশেষ কিছু, কিন্তু বছরের পর বছর ধরে প্লে-অফে জায়গা করে নেওয়া প্রমাণ করে যে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি চাপ সামলানো, স্কোয়াড গঠন এবং নেতৃত্বদানে কতটা দক্ষ।
সুরেশ রায়না এবং এমএস ধোনি। (সূত্র: X.com)
বিশ্বের অন্যতম কঠিন এই টি-টোয়েন্টি লিগে টিকে থাকা সহজ কাজ নয়। আইপিএল ২০২৬-এর নকআউট পর্ব এগিয়ে আসার সাথে সাথে, টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলগুলো নিয়ে আলোচনা আবারও তুঙ্গে উঠেছে। এই তালিকায় থাকা নামগুলো ক্রিকেট প্রেমীদের কাছে খুব একটা অপরিচিত নয়।
১. চেন্নাই সুপার কিংস – ১২ বার
ধারাবাহিকতার কথা বললে চেন্নাই সুপার কিংসের (CSK) চেয়ে বড় উদাহরণ আর নেই। কঠিন মৌসুমেও ভক্তরা আশা রাখেন যে সিএসকে প্লে-অফে লড়াই করবে, কারণ এই ফ্র্যাঞ্চাইজি বছরের পর বছর ধরে নিজেদের সেই উচ্চতায় নিয়ে গেছে। ১২ বার প্লে-অফে খেলার রেকর্ডই তাদের মানসিক শক্তির প্রমাণ। তারা খুব একটা আতঙ্কিত হয় না, অহেতুক তাড়াহুড়ো করে না এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে লড়াইয়ে টিকে থাকার ক্ষমতা রাখে। এই সাফল্যের অনেকটা কৃতিত্ব এমএস ধোনির। তার নেতৃত্বে সিএসকে পাঁচটি আইপিএল ট্রফি জিতেছে।
২. মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স – ১১ বার
যদি সিএসকে ধারাবাহিকতার সম্রাট হয়, তবে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (MI) হলো আধিপত্যের প্রতীক। তারা পাঁচটি আইপিএল ট্রফি জিতেছে এবং ১১ বার প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে মুম্বাই দল চাপের মুখে কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তা আমরা বারবার দেখেছি। কঠিন রান তাড়া করা বা বড় ফাইনাল—কোনো কিছুই তাদের বিচলিত করতে পারেনি। তাদের সাফল্যের রহস্য হলো তাদের শক্তিশালী স্কাউটিং সিস্টেম। ভবিষ্যতের তারকাদের আগেভাগে খুঁজে বের করার কৌশলেই তারা প্রায় এক দশক ধরে আইপিএল শাসন করেছে।
৩. রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরু – ১১ বার
দীর্ঘদিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুকে (RCB) ‘অধরা শিরোপা’র জন্য সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। তাদের দলে সুপারস্টারের অভাব ছিল না, ভক্তদের সমর্থনও ছিল অটুট, কিন্তু ট্রফি জেতা হচ্ছিল না। তবুও একটি বিষয় অনেকে এড়িয়ে যান, সেটি হলো তাদের প্লে-অফে খেলার ধারাবাহিকতা। সমালোচনা এবং হৃদয়ভঙ্গ সত্ত্বেও আরসিবি বারবার লড়াইয়ে ফিরেছে। ২০২৫ সালে শিরোপা জয়ের পর সেই চাপ অনেকটাই কমেছে এবং দলটি এখন আরও মানসিকভাবে শক্তিশালী।
৪. কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ – ৮ বার করে
আইপিএলের আলোচনায় সবসময় সিএসকে, এমআই এবং আরসিবি প্রাধান্য পায়, তবে কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ (SRH) নীরবে নিজেদের প্লে-অফ রেকর্ড সমৃদ্ধ করেছে। কেকেআর সবসময়ই একটি অনিশ্চিত দল হিসেবে পরিচিত। কিছু মৌসুমে গড়পড়তা পারফর্ম করলেও নকআউট পর্বে তারা হঠাৎই অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। কেকেআর এখন পর্যন্ত তিনটি আইপিএল শিরোপা ঘরে তুলেছে। অন্যদিকে, সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ সময়ের সাথে সাথে দারুণভাবে বিবর্তিত হয়েছে। আগে তারা মূলত বোলিংয়ের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও, বর্তমান এসআরএইচ দল নির্ভীক আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলছে। তারা নিজেদের ঝুলিতে একটি শিরোপাও যুক্ত করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, এই দলগুলোর পরিসংখ্যানই বলে দেয় যে আইপিএলে সফল হতে গেলে কেবল প্রতিভা নয়, প্রয়োজন সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা এবং ধারাবাহিকতা। প্রতিটি নতুন মৌসুমে এই দলগুলোই প্রমাণ করে কেন তারা লিগের অন্যতম সেরা শক্তি।