News

Campbelle repays the faith to stun defending champions

Aniket Verma · · 1 min read

শেমেইন ক্যাম্পবেলের বীরত্বে স্তব্ধ বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী ক্রিকেট দলের ‘হৃদস্পন্দন’ বলা হয় শেমেইন ক্যাম্পবেলকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সাত উইকেটের এক রোমাঞ্চকর জয়ে তিনি যে চারিত্রিক দৃঢ়তা দেখিয়েছেন, তাতে মুগ্ধ দলের প্রধান কোচ শেন ডেইটজ। ক্যাম্পবেলের ক্যারিয়ার দীর্ঘ হলেও টি-টোয়েন্টিতে এটিই ছিল তার প্রথম অর্ধশতক। দীর্ঘ ১৫৫ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এর আগে এই ফরম্যাটে তার গড় ছিল মাত্র ১৫। তবে চাপের মুখে দাঁড়িয়ে তিনি এমন এক ইনিংস খেললেন, যা ইতিহাস হয়ে থাকবে।

চাপের মুখে ক্যাম্পবেলের জ্বলে ওঠা

দলের দুই অভিজ্ঞ পাওয়ার-হিটার স্টেফানি টেলর ও চিনেল হেনরিকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল ক্যারিবীয়রা। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পবেল ৬২ বলে অপরাজিত ৯০ রানের এক অনবদ্য ইনিংস উপহার দেন। তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও তিনটি ছক্কার মার। শেষ পর্যন্ত এক বল বাকি থাকতেই জয়সূচক রানটি আসে তার ব্যাট থেকেই। ম্যাচ শেষে ইয়ান বিশপের সাথে কথা বলার সময় তার আবেগ ছিল স্পষ্ট। কোচ ডেইটজ জানিয়েছেন, এই সাফল্য তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফসল। তিনি বলেন, ‘সে দলের প্রাণ। অনেক চাপের মধ্যে থাকলেও আমরা তার ওপর আস্থা রেখেছিলাম। কারণ আমরা জানি সে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাওয়ার-হিটিং দর্শন

ডেইটজ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দলের খেলার ধরনে পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন। তিনি জানান, ‘আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের নিজস্ব ‘পাওয়ার গেম’ এবং বাউন্ডারি মারার ক্ষমতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছি। প্রচুর পাওয়ার-হিটিং অনুশীলন করা হয়েছে যেন ফিল্ডারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা যায়। আজকের ম্যাচটি তারই প্রতিফলন।’ যদিও ক্যাম্পবেল এই ইনিংসে কিছুটা ভাগ্যের সহায়তাও পেয়েছিলেন। একাধিকবার ক্যাচ ড্রপ এবং স্টাম্পিংয়ের সুযোগ মিস হওয়ায় নিউজিল্যান্ডের ফিল্ডাররা কিছুটা হতাশ ছিলেন। তবে দিনশেষে ক্যাম্পবেল ও হেইলি ম্যাথিউসের ব্যাটিংয়ের সামনে কিউই বোলাররা দাঁড়াতেই পারেনি।

READ:  Pakistan women set to tour Sri Lanka for white-ball games in July

দলীয় সংহতি ও মাঠের লড়াই

ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়টা ছিল সার্বিক দলীয় চেষ্টার ফসল। ১৬৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে তারা যেমন পাওয়ার-হিটিংয়ের প্রদর্শনী দেখিয়েছে, তেমনি উইকেটের মাঝে দৌড়াতে গিয়েও দেখিয়েছে দারুণ দক্ষতা। কিয়ান জোসেফ ও অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউসের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে একটি রান-আউটের ঘটনা ঘটলেও, কোচ ডেইটজ বিষয়টিকে ক্রিকেটের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখছেন। তিনি বলেন, ‘মাঠে উত্তাপ থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু দলের সবাই জয়ের জন্য ক্ষুধার্ত ছিল।’

নিউজিল্যান্ডের ব্যর্থতা ও ভবিষ্যতের পথচলা

অন্যদিকে, বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের জন্য দিনটি ছিল ভুলে যাওয়ার মতো। নিউজিল্যান্ডের প্রতিনিধি ম্যাডি গ্রিন স্বীকার করেছেন যে তাদের ফিল্ডিং ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি বলেন, ‘আমরা ভালো সংগ্রহ গড়েছিলাম, কিন্তু আমাদের ফিল্ডিং আমাদের ডুবিয়েছে। এটি আমাদের জন্য একটি বাজে দিন ছিল। তবে দ্রুত এই ভুলগুলো শুধরে নিয়ে পরবর্তী ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।’

উপসংহার

ক্যাম্পবেলের এই ইনিংস কেবল জয়ই এনে দেয়নি, বরং পুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলকে নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কোচ ডেইটজের ভাষায়, ‘আমরা চাই দলের সবাই ম্যাচ জেতানোর অবদান রাখুক। ক্যাম্পবেল আজ তা করে দেখিয়েছে, আশা করি পুরো টুর্নামেন্টেই এমন পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকবে।’ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই জয় নিশ্চিতভাবেই তাদের সামনের পথচলায় আত্মবিশ্বাস যোগাবে।