Report

বার্স্টো চার্জের নেতৃত্বে, ইয়র্কশায়ারের কাছে রোজস হ্যাভারিং – Bairstow leads charge as Yorkshire hand out Roses hammering

Aniket Verma · · 1 min read

ইংলিশ ক্রিকেটের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী প্রতিদ্বন্দ্বিতা, রোজস ম্যাচ, আবারও ক্রিকেটপ্রেমীদের মন জয় করেছে। হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত ভিজিটালিটি ব্লাস্টের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইয়র্কশায়ার ল্যাঙ্কাশায়ার লাইটনিংকে রেকর্ড ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে। এই জয়ের মূল কারিগর ছিলেন ইয়র্কশায়ারের অধিনায়ক জনি বার্স্টো, যিনি ব্যাট হাতে এক অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। তার অনবদ্য ৭৩ রানের ইনিংস দলকে একটি বিশাল সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করে, যা প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। এরপর ইয়র্কশায়ারের বোলাররা এক সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপকে তছনছ করে দেয়, যার ফলে তারা টি-টোয়েন্টিতে তাদের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পায়। এই ম্যাচটি ইয়র্কশায়ারের আধিপত্য এবং তাদের শীর্ষস্থানের দাবিকে আরও জোরালো করেছে।

ইয়র্কশায়ারের ইনিংস: বার্স্টোর ঝলক এবং বিশাল সংগ্রহ

টসে হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ইয়র্কশায়ার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল। ওপেনার জনি বার্স্টো ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন। মাত্র ৪৪ বলে চারটি বিশাল ছক্কা এবং নয়টি চারের সাহায্যে তিনি করেন ৭৩ রান। তার এই ইনিংসটি ছিল দলের বড় সংগ্রহের ভিত্তি। বার্স্টো এবং উইল লাক্সটন দ্বিতীয় উইকেটে ১০৫ রানের একটি দুর্দান্ত জুটি গড়েন, যা ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলারদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে।

পাওয়ারপ্লের দাপট এবং মিডল ওভারের চ্যালেঞ্জ

ইয়র্কশায়ারের পাওয়ারপ্লে ছিল মিশ্র অভিজ্ঞতার। তারা ৫৭ রান সংগ্রহ করলেও, অ্যাডাম লিথ আউট হন। তবে বার্স্টো এবং লাক্সটনের দৃঢ়তায় তারা দ্রুতই খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। লুক উড বার্স্টোকে একটি মেডেন ওভার উপহার দিলেও, লাক্সটন পরের ওভারে সাকিব মাহমুদকে দুটি ছক্কা মেরে পাল্টা জবাব দেন। তাদের জুটির দাপটে ইয়র্কশায়ার ১৩ ওভারেই ১৩৫ রান তুলে ফেলে, মাত্র এক উইকেট হারিয়ে।

READ:  Lanning caning sees of Somerset for Lancashire's first win - উইমেন্স ভাইটালিটি ব্লাস্ট: ল্যানিংয়ের ব্যাটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রথম জয়

বার্স্টো যখন ৩২ বলে তার অর্ধশতক পূর্ণ করেন, তখন মনে হচ্ছিল ইয়র্কশায়ার আরও বড় স্কোর গড়তে চলেছে। তবে লিয়াম লিভিংস্টোনের স্পিনে deep square leg-এ ক্যাচ দিয়ে বার্স্টো আউট হতেই খেলার মোড় কিছুটা ঘুরে যায়। এরপর দ্রুতই টম হার্টলির স্পিনে উইল লাক্সটন (deep midwicket-এ ক্যাচ) এবং মোইন আলী (বোল্ড, ০ রান) প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ১৩৫ রানে ১ উইকেট থেকে ১৩৭ রানে ৪ উইকেটে পরিণত হওয়াটা ইয়র্কশায়ারকে কিছুটা চাপে ফেলেছিল।

শেষের দিকের ঝড়: হোয়াইটনের অবদান

তবে এই বিপর্যয় থেকে দলকে উদ্ধার করেন জেমস হোয়াইটন। ১৬ বলে অপরাজিত ৩৫ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি ইয়র্কশায়ারকে ২১৪ রানের একটি বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দিতে সাহায্য করেন। হোয়াইটনের ইনিংসটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি দলের রান রেট ধরে রেখেছিল এবং শেষ ওভারে কিছু মূল্যবান রান এনে দিয়েছিল। টম অ্যাসপিনওয়াল শেষ দিকে দুটি দ্রুত উইকেট নিলেও, ইয়র্কশায়ারের রান আটকানো যায়নি। ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলারদের মধ্যে সাকিব মাহমুদ চার ওভারে ৬০ রান দিয়ে দলের সবচেয়ে ব্যয়বহুল টি-টোয়েন্টি বোলিং স্পেলের রেকর্ড গড়েন, যা ইয়র্কশায়ারের ব্যাটসম্যানদের দাপটেরই ইঙ্গিত দেয়। ইয়র্কশায়ার নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২১৩ রান সংগ্রহ করে।

ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং বিপর্যয়: রেকর্ড পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ

২১৪ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ল্যাঙ্কাশায়ার লাইটনিং শুরুতেই খেই হারায়। ইয়র্কশায়ারের বোলাররা প্রথম থেকেই উইকেট নিতে শুরু করে এবং ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিং লাইনআপকে দাঁড়াতেই দেয়নি। তাদের ইনিংসের ১৯ বলের মধ্যেই তারা ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের পথ তৈরি করে ফেলে।

পাওয়ারপ্লের সর্বনাশ: হাসান, ফাহিম ও মোইনের দাপট

ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ওভারেই পাকিস্তানি পেসার হাসান আলী এক অসাধারণ ডেলিভারিতে কিটন জেনিংসের অফ স্টাম্প উপড়ে ফেলেন। এরপর ফাহিম আশরাফ ম্যাটি হার্স্টকে বোল্ড করেন। ইয়র্কশায়ারের হয়ে খেলা মোইন আলীর অফস্পিন এরপর মার্কাস হ্যারিসকে বোল্ড করে ল্যাঙ্কাশায়ারকে আরও বিপদে ফেলে। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই তাদের টপ অর্ডারের এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ার ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকে যায়।

READ:  ড্যানিয়েল হিউজের সেঞ্চুরিতে লেস্টারশায়ারের বিপক্ষে সাসেক্সের দাপট

চাহান ও মোইনের স্পিন জাদু

এরপর ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্যাটিংয়ের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করেন ইয়র্কশায়ারের স্পিনাররা। জাফের চাহানের লেগস্পিন ছিল রীতিমতো ভয়ংকর। তিনি ৪ ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৪টি মূল্যবান উইকেট শিকার করেন। তার বলে বেন ম্যাকডারমট লং-অন থেকে দৌড়ে এসে ম্যাথিউ রেভিসের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন। মোইন আলীও তার অফস্পিন দিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের মিডল অর্ডারকে ধসিয়ে দেন। তিনি ৪ ওভারে ১৬ রান দিয়ে ৩টি উইকেট নেন, যার মধ্যে জো মুরসকে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন। দশম ওভারে ৬৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ল্যাঙ্কাশায়ারের পরাজয় তখন কেবল সময়ের অপেক্ষা ছিল।

যদিও লিয়াম লিভিংস্টোন ৩০ বলে ৪৪ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলে কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন, তবে তার এই চেষ্টা দলের পরাজয় আটকাতে পারেনি। তার আউট হওয়ার পর ল্যাঙ্কাশায়ারের শেষ আশাটুকুও শেষ হয়ে যায়। এজে টাইয়ের বলে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে আউট হন লিভিংস্টোন।

শেষ পেরেক: চাহানের চূড়ান্ত আঘাত

মোইন আলী তার তৃতীয় উইকেটটি নেওয়ার পর জাফের চাহান ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংসে শেষ পেরেক ঠুকে দেন। ১৫তম ওভারে পরপর দুই বলে অ্যাসপিনওয়াল এবং মাহমুদকে বোল্ড করে তিনি ল্যাঙ্কাশায়ারের ইনিংস ১০৭ রানে গুটিয়ে দেন। এর ফলে ল্যাঙ্কাশায়ার ভিজিটালিটি ব্লাস্টের ইতিহাসে তাদের সবচেয়ে বড় রানের ব্যবধানে পরাজয়ের রেকর্ড গড়ে।

ইয়র্কশায়ারের জয় ও উত্তর গ্রুপের শীর্ষস্থান

এই বিশাল জয়ের ফলে ইয়র্কশায়ার উত্তর গ্রুপে তাদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে। পাঁচ ম্যাচের মধ্যে এটি ছিল তাদের চতুর্থ জয়, যা তাদের প্লে-অফের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেছে। অন্যদিকে, ল্যাঙ্কাশায়ার তাদের চারটি ম্যাচের মধ্যে তৃতীয় পরাজয়ের স্বাদ গ্রহণ করে পয়েন্ট টেবিলে আরও পিছিয়ে পড়েছে। এই ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করল যে, সঠিক নেতৃত্বের অধীনে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যেকোনো দলই বড় সাফল্য অর্জন করতে পারে। জনি বার্স্টোর নেতৃত্বাধীন ইয়র্কশায়ার এই মুহূর্তে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে এবং তারা এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।

READ:  মেট্রো ব্যাংক ওয়ান ডে কাপ: ট্যামি বিউমন্ট ও জর্জিয়া এলউইসের দাপটে জয়ী দ্য ব্লেজ