Bangladesh Cricket

পাকিস্তানের ফাস্ট বোলারদের গতির সংকট: আসল কারণ জানালেন উমর গুল

Arthur Sethi · · 1 min read

পাকিস্তানের বোলিং কি সত্যিই ধীরগতির হয়ে গেছে?

এক সময় পাকিস্তান মানেই ছিল গতির ঝড়। ওয়াসিম আকরামের সুইংয়ের জাদুকরী ভঙ্গি কিংবা শোয়েব আখতারের রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেসের গতি—বিশ্ব ক্রিকেট নিয়মিতই দেখেছে পাকিস্তানের পেস আক্রমণ। তবে বর্তমান সময়ে পাকিস্তানের বোলারদের পারফরম্যান্স এবং গতির অভাব ক্রিকেট ভক্তদের বেশ ভাবাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, বোলাররা ১৩৫ কিলোমিটার গতির কোটা পার করতেই হিমশিম খাচ্ছেন। এই সংকটের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলার এবং বর্তমান কোচিং স্টাফের সদস্য উমর গুল ব্যাখ্যা করেছেন, ঠিক কোথায় সমস্যা হচ্ছে।

বোলিং পারফরম্যান্স ও ভাগ্যের পরিহাস

উমর গুল অবশ্য সব দোষ শুধু বোলারদের ওপর চাপাতে নারাজ। তাঁর মতে, পরিস্থিতির জটিলতা যতটা না কেবল বোলিংয়ের ব্যর্থতা, তার চেয়ে বেশি কৃতিত্ব দিতে হবে প্রতিপক্ষকে। উমর গুল বলেন, ‘বাংলাদেশি ব্যাটাররা এই সিরিজে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে। এছাড়া কিছু মুহূর্তে আমরা দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছি। আমরা কিছু গুরুত্বপূর্ণ রিভিউ মিস করেছি এবং লিটন দাসের উইকেট না পাওয়াটা আমাদের ম্যাচে পিছিয়ে দিয়েছে। এসবই ক্রিকেটের অংশ। কখনও ভাগ্য সহায় হয়, কখনও হয় না। বোলাররা কঠোর পরিশ্রম করেছে, কিন্তু ফলাফল আমাদের পক্ষে আসেনি।’

কেন কমছে পেসারদের গতি?

পাকিস্তানের ফাস্ট বোলারদের গতি কমে যাওয়ার বিষয়ে উমর গুল দ্বিমত পোষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, এটি কোনো স্থায়ী পতন নয়। গুলের মতে, হোয়াইট-বল ক্রিকেট বা পিএসএলে বোলাররা ঠিকই ১৪০ কিলোমিটার গতিতে বল করছেন। মূল সমস্যাটি লাল বলের ক্রিকেটের ছন্দ এবং প্রস্তুতির অভাব। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘আমরা জানি আমাদের বোলাররা পিএসএল এবং ওয়ানডেতে ১৪০ কিমি গতিতে বল করতে সক্ষম। কিন্তু রেড-বল ক্রিকেটে গতির কিছুটা ঘাটতি দেখা দেয়। এর মূল কারণ হলো, আমরা বর্তমানে খুব বেশি টেস্ট ক্রিকেট খেলছি না। পর্যাপ্ত ম্যাচ না খেলার ফলে বোলিং মাসল এবং বোলিং মেমোরি যথাযথভাবে গড়ে উঠছে না। মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি এখানে বড় ভূমিকা রাখে।’

READ:  Humanitarian Eid initiative for Sylhet ground staff wins praise - সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার গ্রাউন্ড স্টাফদের জন্য মানবিক ঈদ উপহার

টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ বিরতির প্রভাব

উমর গুলের মতে, পাকিস্তানের টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ বিরতি বোলারদের ছন্দে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। সর্বশেষ অক্টোবরের পর তারা রেড-বল ক্রিকেটে ফিরেছেন। প্রায় ছয় মাসের বিরতির পর দীর্ঘ ফরম্যাটে বল করা সহজ নয়। গুল বলেন, ‘দীর্ঘ বিরতির পর যখন বোলাররা ফিরে আসে, তখন তাদের গতি কিছুটা কমে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে তাদের এনার্জি বা চেষ্টার কোনো অভাব নেই। তাছাড়া যে পরিবেশে খেলা হচ্ছে, সেখানকার প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতাও বোলারদের ফিটনেসের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।’

প্রস্তুতির ঘাটতি ও ভবিষ্যৎ ভাবনা

সিরিজের আগে প্রস্তুতির বিষয়টি নিয়ে উমর গুল নিজের সীমাবদ্ধতার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, শিডিউল ব্যস্ততা এবং অন্যান্য প্রতিশ্রুতির কারণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ মেলেনি। তিনি বলেন, ‘যেকোনো বড় সিরিজের আগে সেই ফরম্যাটে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি খুব জরুরি। কিন্তু পিএসএল এবং অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে আমরা খেলোয়াড়দের ক্যাম্পে যেটুকু সময় পেয়েছি, তাতেই কাজ করতে হয়েছে। করাচিতেও আবহাওয়া প্রচণ্ড গরম ছিল, যা প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলেছে।’

উপসংহার

পাকিস্তানের বোলিং লাইনআপের বর্তমান অবস্থা কোনো রাতারাতি তৈরি হওয়া সমস্যা নয়। বরং দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত সূচি এবং লাল বলের ক্রিকেটের অভাবই এর মূল কারণ। উমর গুলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বোলারদের দক্ষতার চেয়েও ছন্দে ফেরার সুযোগ এবং যথাযথ ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট এখন পাকিস্তানের ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ক্রিকেট ভক্তরা আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে প্রস্তুতির মান উন্নত হলে আবার পুরনো রূপে ফিরবে পাকিস্তানের ফাস্ট বোলিং আক্রমণ।