মোহাম্মদ আমির আইপিএলে খেলবেন না কেন? ব্রিটিশ নাগরিকত্ব সত্ত্বেও অংশগ্রহণ অসম্ভব কেন?
Contents
মোহাম্মদ আমির আইপিএলে খেলবেন না কেন?
মোহাম্মদ আমিরের নাম শুনলেই অনেকের মনে পড়ে যায় তাঁর নিখুঁত সুইং, তরুণ বয়সে বিশ্বকাপ জেতার ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট এবং তাঁর বিতর্কিত অতীত। সম্প্রতি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করার পর থেকে তাঁর আইপিএলে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে আবারও জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কিন্তু সত্যি কি? ব্রিটিশ পাসপোর্ট থাকলেও কি পাকিস্তানের এই অভিজ্ঞ পেসার আসলেই আইপিএলের মাঠে ফিরতে পারবেন? উত্তর হলো – প্রায় অসম্ভব।
আইপিএলে আমিরের অংশগ্রহণের পেছনে বড় বাধা কী?
নিচে তিনটি প্রধান কারণ আলোচনা করা হলো যা মোহাম্মদ আমিরের আইপিএল অভিযানকে চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে।
১. বিসিসিআইয়ের নীতি এবং ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক
২০০৮ সালের মুম্বাই হামলার পর থেকেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পাসপোর্ট যাঁরই থাকুক না কেন, তাঁদের জাতীয়তা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
মোহাম্মদ আমির এখনও পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করে এসেছেন – ২০২৪-এর টি-২০ বিশ্বকাপ এবং পাকিস্তান সুপার লিগে তাঁর খেলা সম্প্রতি হয়েছে। তাই বিসিসিআইয়ের জন্য তাঁকে আইপিএলে খেলার অনুমতি দেওয়া রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
অবশ্য একটি উদাহরণ আছে – আজহার মাহমুদ ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়ে আইপিএলে খেলেছিলেন। কিন্তু তিনি তখন সক্রিয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন না এবং তাঁর প্রোফাইল এতটা উঁচু ছিল না। আমিরের ক্ষেত্রে তা ভিন্ন।
২. জনমত এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বার্থ
আইপিএল শুধু ক্রিকেট লিগ নয়, এটি বিশাল ব্র্যান্ড। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো স্পনসরশিপ, দর্শকদের সমর্থন এবং মিডিয়া কভারেজের ওপর নির্ভরশীল। এই কারণে তাঁরা ঝুঁকি নিতে চায় না।
মোহাম্মদ আমিরের নামের সাথে যুক্ত বিতর্ক – স্পট ফিক্সিং-এর ঘটনা – তাঁকে এখনও অনেক ভারতীয় ভক্তদের কাছে পছন্দের খেলোয়াড় নয় করে তোলে। যদি কোনো দল তাঁকে নিয়োগ করে, তাহলে তা ভারতীয় সমর্থকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া ডেকে আনতে পারে।
সদ্য সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সহযোগী দল সানরাইজার্স লিডস যখন আবরার আহমেদকে দ্য হান্ড্রেডের জন্য নিয়োগ করে, তখনই ভারতে বিতর্ক শুরু হয়। আমিরের ক্ষেত্রে এটি আরও বড় হত।
৩. বয়স এবং ফর্মের অবনতি
ক্রিকেটের কোনো খেলোয়াড়ই চিরন্তন নন। মোহাম্মদ আমির জন্মেছিলেন ১৯৯২ সালে। ২০২৫ সালের আইপিএলে তাঁর বয়স হবে ৩৫ বছর। আইপিএলের মতো উচ্চ-চাপের লিগে ক্রমাগত দৃঢ় পারফরম্যান্স চাওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর, পাকিস্তান সুপার লিগ, বিপিএল বা সিপিএল-এ তাঁর পারফরম্যান্স মাঝারি ধরনের। ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের মতো দলেও তিনি বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারেননি।
আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সেরা ফর্মে থাকা পেসারদের কেনেন, আগের গৌরবের কথা মনে করে নয়। একজন ৩৫ বছর বয়সী দক্ষ পেসারকে নিয়োগ করা কোনো দলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ হবে।
উপসংহার
ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পেলেও মোহাম্মদ আমিরের আইপিএল স্বপ্ন অধরা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বিসিসিআইয়ের নীতি, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক, জনমত এবং ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স – এই সব কারণেই তাঁকে আইপিএলের ময়দানে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই।
তবে তাঁকে নিয়ে আবেগ এখনও আছে। কিন্তু রাজনীতি, স্পোর্টস কমার্স এবং সময় – এই তিনটিই মাঠের বাইরে খেলে যায়। আর এই খেলাতেই হেরে গেছেন মোহাম্মদ আমির।