Report

সনি বেকারের দুর্দান্ত বোলিং সত্ত্বেও নটিংহামশায়ারের বিরুদ্ধে চাপে হ্যাম্পশায়ার

Theo Nair · · 1 min read

সনি বেকারের আগুনঝরা বোলিং এবং হ্যাম্পশায়ারের টিকে থাকার লড়াই

ইউটিলিটা বোলে কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াই জমে উঠেছে। সদ্যই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য ইংল্যান্ড দলে ডাক পাওয়া সনি বেকার নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন নটিংহামশায়ারের বিরুদ্ধে। ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার ৫-৪৫ তুলে নিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন নির্বাচকরা তার ওপর আস্থা রেখেছেন। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের দিনে সনি বেকারের দল হ্যাম্পশায়ার পড়েছে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে। দিনের খেলা শেষে তারা ৬৭ রানে এগিয়ে থাকলেও, জয়ের জন্য শেষ দিনটি তাদের কাছে অগ্নিপরীক্ষার মতো হতে যাচ্ছে।

সনি বেকারের উত্থান ও বোলিং দাপট

সনি বেকারের এই পারফরম্যান্স কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং এক অদম্য লড়াইয়ের গল্প। ক্যারিয়ারের শুরুতেই পিঠের চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকা বেকার ২০২৫ সালের শুরুর দিকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারেননি। তবে জানুয়ারি মাসে ইংল্যান্ড লায়ন্সের হয়ে অভিষেক এবং চার মাস পর কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেন তিনি। মাত্র ১২টি রেড-বল ম্যাচে তিনি চতুর্থবারের মতো পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব অর্জন করলেন।

নটিংহামশায়ারের ইনিংসে বেকারের ধারালো শর্ট পিচ ডেলিভারিগুলো ছিল দেখার মতো। দিনের মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে ও পরে তিনি যে দুই স্পেলে বোলিং করেন, তা প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নাজেহাল করে ছাড়ে। বেন স্লেটার, লিন্ডন জেমস এবং লিয়াম প্যাটারসন-হোয়াইট—কেউই তার বাউন্সারের বিপক্ষে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। এছাড়া ফুল লেংথ ডেলিভারিতে ফার্গুস ও’নিল ও অলি স্টোনকে সাজঘরে ফিরিয়ে তিনি নিজের কারিগরি দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। মাত্র ১৩ বলে ৩টি উইকেট তুলে নিয়ে তিনি নটিংহামশায়ারকে ২২৯ রানে গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা রাখেন।

READ:  সিলেটে লিটন-মুশফিকের ব্যাটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লিড বাড়াল বাংলাদেশ

কাইল অ্যাবটের নিয়ন্ত্রিত বোলিং

বেকারের আগে হ্যাম্পশায়ারের বোলিং আক্রমণের নেতৃত্ব দেন অভিজ্ঞ কাইল অ্যাবট। ৪-৪০ ফিগারে তিনি নটিংহামশায়ারের ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। কাইল ভেরেইনকে এলবিডব্লিউ করা থেকে শুরু করে অভিষিক্ত স্যাম সিচারানকে আউট করা পর্যন্ত অ্যাবটের লাইন ও লেন্থ ছিল নিখুঁত। এর ফলে নটিংহামশায়ার প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৫ রানের লিড নিতে সক্ষম হয়, যা ম্যাচটিকে উন্মুক্ত করে রাখে।

হ্যাম্পশায়ারের ব্যাটিংয়ে উদ্বেগ

হ্যাম্পশায়ার পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকার কারণ তাদের ভঙ্গুর ব্যাটিং। দ্বিতীয় ইনিংসেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল। লিড অতিক্রম করার আগেই তারা টবি আলবার্টকে হারায়। ফার্গুস ও’নিল তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে আলবার্ট ও ফ্লেচা মিডলটনকে আউট করে হ্যাম্পশায়ারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। অলি স্টোনের বলে নিক গুবিন্সের উইকেট পতনের পর স্কোর দাঁড়ায় ৩০-৩। টম প্রেস্ট এবং জেক লেহম্যান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন এবং ৪৩ রানের জুটি গড়েন। তবে বৃষ্টির কারণে দিনের খেলা বন্ধ হওয়ার আগে প্রেস্টের বিদায় হ্যাম্পশায়ারকে ফের বিপদে ঠেলে দেয়।

শেষ দিনের সমীকরণ

ম্যাচটি এখন রোমাঞ্চকর মোড়ে। হ্যাম্পশায়ার ৮২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছে। শেষ দিনে তাদের হাতে ৬ উইকেট নিয়ে মাত্র ৬৭ রানের লিড রয়েছে। নটিংহামশায়ার এখন জয়ের গন্ধ পাচ্ছে, অন্যদিকে হ্যাম্পশায়ারের ব্যাটারদের দায়িত্ব নিতে হবে যদি তারা এই ম্যাচ থেকে সম্মানজনক কিছু নিয়ে ফিরতে চায়। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ থাকবে সনি বেকারের ওপর, যিনি বল হাতে আরও একবার জ্বলে উঠতে প্রস্তুত কি না তা দেখার জন্য।

পরিশেষে, সনি বেকারের এই ফর্ম ইংল্যান্ড টেস্ট দলের জন্য সুখবর হলেও, হ্যাম্পশায়ারের জন্য এই ম্যাচটি টিকে থাকার লড়াই। কাউন্টি ক্রিকেটের এই উত্তাপ শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।