২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের হুঙ্কার স্মৃতি মন্ধনার, ভারতের লক্ষ্য ট্রফি জয়
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ই এখন মূল লক্ষ্য: হুঙ্কার স্মৃতি মন্ধনার
২০২৬ সালের আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করেছে ভারতীয় নারী ক্রিকেট দল। ওয়ানডে ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স এবং ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার কুড়ি ওভারের বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে প্রস্তুত হারমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারত। দলের অন্যতম সেরা তারকা এবং ওপেনিং ব্যাটার স্মৃতি মন্ধনা প্রতিপক্ষ দলগুলোকে এক প্রকার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন যে, ভারতীয় দল এবার আইসিসি ট্রফি জয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং ক্ষুধার্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দলটির পারফরম্যান্স কিছুটা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেলেও, আসন্ন বিশ্বকাপে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে মরিয়া ভারতীয় নারীরা।
পাকিস্তানের বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে ভারতের বিশ্বকাপ অভিযান
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রিকেট ম্যাচ মানেই এক বাড়তি উত্তেজনা, যার জন্য ক্রিকেট বিশ্বের কোটি কোটি ভক্ত অপেক্ষা করে থাকেন। ২০২৬ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে। আগামী ১৪ জুন বার্মিংহামের ঐতিহ্যবাহী এজবাস্টনে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। স্মৃতি মন্ধনা মনে করেন, এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটি দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা ভারতের জন্য অত্যন্ত রোমাঞ্চকর এবং চ্যালেঞ্জিং হবে। পুরো দল এই মহাযুদ্ধের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে এবং শুরু থেকেই জয়ের ধারা বজায় রাখতে চায়।
ডব্লিউপিএল এবং দলের আগ্রাসী ব্যাটিং লাইন-আপের প্রভাব
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় নারী দলের পারফরম্যান্সে কিছুটা ধারাবাহিকতার অভাব দেখা গেলেও, স্মৃতি মন্ধনা বিশ্বাস করেন যে চিত্রটি এখন বদলে গেছে। বিশেষ করে ওমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (WPL) ভারতীয় ক্রিকেটের মানসিকতা বদলে দিতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। মন্ধনার মতে, ডব্লিউপিএল-এর কারণে তরুণ খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক স্তরের চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছে।
স্মৃতি মন্ধনা দলের মানসিকতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলেন, “আমরা অবশ্যই আমাদের ভালো ফর্ম ধরে রাখতে চাই, বিশেষ করে ওয়ানডে বিশ্বকাপে আমরা যে সাফল্য পেয়েছিলাম। এরপর অবশ্যই ডব্লিউপিএল অনেক খেলোয়াড়কে বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে সাহায্য করেছে। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ থেকেও আমরা অনেক কিছু শিখেছি।”
দলটিতে এখন রিচা ঘোষ, শেফালি ভার্মা এবং অধিনায়ক হারমনপ্রীত কৌরের মতো পাওয়ার হিটাররা রয়েছেন, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। মন্ধনা নিজেও এই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শৈলী দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন এবং নিজের ব্যাটিংয়ে আরও বেশি আগ্রাসন যোগ করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “ক্রিকেটে সবসময় নতুন করে শুরু করতে হয়। তবে আমার মনে হয় এই দলটির মধ্যে জেতার তীব্র ক্ষুধা রয়েছে। প্রত্যেকেই সঠিক কাজটি করার জন্য অত্যন্ত ক্ষুধার্ত।”
সাফল্যের অনুপ্রেরণা এবং মন্ধনার ২০১৪ সালের স্বপ্ন
দলের ব্যাটিং শক্তি নিয়ে স্মৃতি মন্ধনা অত্যন্ত আশাবাদী। তিনি দলের ব্যাটিং লাইন-আপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জেমিমাহ রদ্রিগেজ, শেফালি এবং হারমনপ্রীতের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “টপ অর্ডার ব্যাটার হিসেবে আমার খুব ভালো লাগে যখন দেখি আমাদের মিডল অর্ডারে এতো পাওয়ার হিটার রয়েছে। এর ফলে আমরা ক্রিজে কিছুটা সময় নিতে পারি। আগে এটি ভারতীয় দলের শক্তি ছিল না, কিন্তু এখন শেফালি এবং রিচাদের উপস্থিতিতে এটি আমাদের অন্যতম বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।”
স্মৃতি মন্ধনা তাঁর ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিষেকের স্মৃতি চারণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৬ বা ১৭ বছর। সেই সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের গভীরতা বোঝার মতো পরিপক্কতা না থাকলেও, অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতি বাকিদের শ্রদ্ধা দেখে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। ২৯ বছর বয়সী এই ব্যাটার বলেন, “আমি যখন প্রথম বিশ্বকাপ খেলি, তখন খুব ছোট ছিলাম। চারপাশের পরিবেশ বা চাপ নিয়ে অতটা ভাবিনি। কিন্তু আমি অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতি সবার সম্মান দেখেছিলাম। তখনই আমার মনে হয়েছিল, আমিও এমন সম্মান পেতে চাই। একজন খেলোয়াড় হিসেবে সেটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ছিল। আমি অনুভব করেছিলাম যে ভারতীয় দল যখন কোথাও যাবে, আমাদেরও সেই সম্মান আদায় করে নিতে হবে। আর সেখান থেকেই আমার মধ্যে ভারতের হয়ে বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন দানা বাঁধে। আমি বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে সেই অনুভূতি নিজের করে নিতে চাই।”
বিশ্বকাপের জোরদার প্রস্তুতি: ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে ভারতীয় নারী দল ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। যদিও সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদের মাটিতে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৩-২ ব্যবধানে হারতে হয়েছে ভারতকে, তবে মন্ধনার দল ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। আগামী ২৮ মে থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হবে। ম্যাচগুলো যথাক্রমে ২৮ মে, ৩০ মে এবং ২ জুন চেলসফোর্ড, ব্রিস্টল এবং টানটনে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিরিজটি বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি হিসেবে কাজ করবে।
২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতীয় দল গ্রুপ পর্বে মোট পাঁচটি ম্যাচ খেলবে। পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিযান শুরু করার পর ভারতের পরবর্তী প্রতিপক্ষ যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, দক্ষিণ আফ্রিকা, বাংলাদেশ এবং শেষ ম্যাচে ২৮ জুন ২০২৬-এ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। এই কঠিন সূচি পেরিয়ে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের দিকে পা বাড়াতে মরিয়া ভারত।