বিরাট কোহলিকে বাদ দিয়ে জিতেশ শর্মা আরসিবির অধিনায়ক? ভক্তদের তীব্র ক্ষোভ!
আইপিএল ২০২৬-এর ময়দান আবারও উত্তপ্ত, আর সেই উত্তাপের কেন্দ্রে এবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর (আরসিবি) এবং তাদের অধিনায়কত্বের নাটকীয় বদল। পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে এক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক আগে আরসিবি শিবিরে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে ক্রিকেট মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিয়মিত অধিনায়ক রজত পাটিদার দলের বাইরে থাকায়, উইকেটকিপার জিতেশ শর্মাকে আরসিবির নেতৃত্বভার দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কেবল চমকপ্রদই নয়, বহু আরসিবি ভক্তের মনে গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, কারণ তাদের পছন্দের তারকা বিরাট কোহলিকে অধিনায়ক হিসেবে নির্বাচন করা হয়নি।
Contents
রজত পাটিদারের অনুপস্থিতি: এক বড় ধাক্কা
আইপিএল ২০২৬-এর প্লে-অফ দৌড়ে যখন প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক সেই সময় আরসিবির অধিনায়ক রজত পাটিদারের অনুপস্থিতি দলটির জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জানা গেছে, পাটিদার পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে ধরমশালায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দলের সাথে যাননি এবং বেশ কয়েকটি অনুশীলন সেশনও মিস করেছেন। এই ঘটনাগুলি স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, অধিনায়ক কোনো এক অজানা চোটের কারণে দলের বাইরে আছেন। পাটিদার এই মৌসুমে আরসিবির হয়ে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন, যেখানে তিনি ১৯৫ স্ট্রাইক রেটে ৩২৬ রান সংগ্রহ করেছেন। তার নেতৃত্ব এবং ব্যাটিং পারফরম্যান্স দুটোই দল ভীষণভাবে মিস করবে, বিশেষ করে এমন একটি হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে যেখানে প্লে-অফ বার্থ পাওয়ার লড়াই চলছে।
জিতেশ শর্মা: নতুন অধিনায়ক
রজত পাটিদারের অনুপস্থিতিতে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে উইকেটকিপার জিতেশ শর্মার হাতে। এই নিয়ে অবশ্য আরসিবির নেতৃত্বভার গ্রহণ করা জিতেশের প্রথম অভিজ্ঞতা নয়। এর আগেও আইপিএল ২০২৫-এ যখন রজত পাটিদার চোটের কারণে খেলতে পারেননি, তখন সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ এবং লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে আরসিবিকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জিতেশ। এমনকি আরসিবিতে যোগ দেওয়ার আগেও তিনি পাঞ্জাব কিংসের সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই অভিজ্ঞতা দলটির জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে, তবে পাটিদারের অভাব পূরণ করা যে সহজ হবে না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিরাট কোহলিকে কেন নয়? ভক্তদের ক্ষোভের কারণ
তবে, এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় দিকটি হলো আরসিবি ভক্তদের তীব্র অসন্তোষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন কেবলই ক্ষোভ আর বিস্ময়ের ঝড়। বহু সমর্থক মনে করেন, রজত পাটিদারের অনুপস্থিতিতে বিরাট কোহলিকেই আরসিবির অধিনায়ক করা উচিত ছিল। কোহলি এক দশক ধরে আরসিবিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং এই ফ্র্যাঞ্চাইজির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। এমনকি আজও, আরসিবির একটি বিশাল ফ্যানবেস শুধুমাত্র কোহলির উপস্থিতির কারণেই বিদ্যমান।
ভক্তরা যখন তাদের পূর্ণকালীন অধিনায়ক রজত পাটিদারকে না দেখতে পেলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রত্যাশা ছিল যে, বিরাট কোহলিই এগিয়ে আসবেন। কোহলির নেতৃত্ব দেওয়ার বিশাল অভিজ্ঞতা এবং আরসিবির প্রতি তার দীর্ঘদিনের আবেগ বিবেচনা করে, এই প্রত্যাশা মোটেই অযৌক্তিক ছিল না। কিন্তু যখন আরসিবি কোহলির পরিবর্তে জিতেশ শর্মার দিকে ঝুঁকল, তখন ভক্তদের মনে এক গভীর হতাশা জন্ম নিল। তাদের প্রিয় ‘কিং কোহলি’কে অধিনায়কত্বের দায়িত্বে না দেখে তারা নিজেদের অসন্তোষ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশ করছেন। এই সিদ্ধান্ত দলের মধ্যে ঠিক কোন বার্তা দিচ্ছে এবং এর নেপথ্যে কী কারণ থাকতে পারে, তা নিয়েও চলছে বিস্তর আলোচনা।
গুরুত্বপূর্ণ পাঞ্জাব কিংস বনাম আরসিবি ম্যাচ
এদিকে, ধরমশালায় পাঞ্জাব কিংস এবং রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের মধ্যকার ম্যাচের টস অনুষ্ঠিত হয়েছে। পাঞ্জাব কিংসের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার টসে জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাঞ্জাব কিংস তাদের একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে। হরপ্রীত ব্রার এবং লকি ফার্গুসনকে দলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যেখানে বিষ্ণু বিনোদ এবং জেভিয়ার বার্টলেট বাদ পড়েছেন।
অন্যদিকে, আরসিবিও তাদের একাদশে কিছু পরিবর্তন করেছে। ক্যাপ্টেন জ্যাকব ডাফির পরিবর্তে সুয়েশ শর্মাকে এবং রজত পাটিদারের পরিবর্তে রোমারিও শেফার্ডকে প্লেয়িং ইলেভেনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, ভেঙ্কটেশ আইয়ারও শুরু থেকে মাঠে নামছেন। উল্লেখ্য, এই ম্যাচটি পাঞ্জাব কিংসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা তাদের শেষ ৫টি ম্যাচেই হেরেছে। এই ম্যাচে হারলে তাদের প্লে-অফ যোগ্যতার সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে আরসিবি তুলনামূলকভাবে অনেকটাই নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। ১২ ম্যাচ থেকে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে এবং তাদের নেট রান রেটও বেশ ভালো।
এই অধিনায়কত্বের রদবদল আরসিবি দলের পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভক্তদের ক্ষোভের মাঝেও কি জিতেশ শর্মা তার নেতৃত্ব দিয়ে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যেতে পারবেন? এই প্রশ্নগুলো নিয়েই ক্রিকেটপ্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন ম্যাচটি দেখার জন্য।