‘Exceptional’ Rasikh and ‘unbelievable package’ Krunal – RCB’s champion support হিরো
Contents
চ্যাম্পিয়ন আরসিবির নেপথ্য নায়ক
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর (আরসিবি) আইপিএল ২০২৬ শিরোপা জয়ের যাত্রায় ভুবনেশ্বর কুমার এবং জশ হ্যাজলউড ছিলেন বোলিং আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু। কিন্তু লাইমলাইটের আড়ালে থেকে দলের জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন রাশিখ সালাম এবং ক্রুনাল পান্ডিয়া। তাদের পারফরম্যান্স ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম আলোচিত বিষয়।
রাশিখ সালাম: এক অসামান্য বোলার
টুর্নামেন্ট জুড়ে রাশিখ সালাম ১৯টি উইকেট শিকার করেছেন, যা হ্যাজলউডের চেয়েও চারটি বেশি। তার ইকোনমি রেট ছিল ৯.৪৫। গুজরাট টাইটান্সের (জিটি) বিপক্ষে ফাইনালে তিনি যেভাবে বোলিং করেছেন, তা ছিল এক কথায় অসাধারণ। মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের ঘুরে দাঁড়ানোর সব পথ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
বরুণ অ্যারনের মতে, রাশিখ পুরো সিজনে নিভৃতে নিজের কাজ করে গেছেন এবং দলের তৃতীয় পেসার হিসেবে যে স্থায়িত্ব প্রয়োজন, তা নিশ্চিত করেছেন। বিশেষ করে ফাইনালে ৬.৭৫ ইকোনমি রেটে তিন উইকেট নেওয়া যেকোনো অধিনায়কের স্বপ্নের মতো। তিনি ইয়র্কার, স্লোয়ার, নাকল বল এবং ব্যাক-অফ-দ্য-হ্যান্ড ডেলিভারিতে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করেছেন। আধুনিক ক্রিকেটে রক্ষণাত্মক বোলিংই এখন আক্রমণাত্মক অস্ত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে, আর রাশিখ সেটাই করেছেন।
টম মুডি মনে করেন, ভুবনেশ্বর ও হ্যাজলউডের মতো বোলাররা আগে বল করার কারণেই রাশিখ বাড়তি সুবিধা পেয়েছেন। তিনি এমন এক ভূমিকায় মাঠে নামেন যেখানে তাকে ম্যাচ জেতানোর চাপ নিতে হয় না, বরং গেমটি খোলা থাকার পর তিনি তার বৈচিত্র্যময় বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে কাবু করেন।
ক্রুনাল পান্ডিয়া: এক ‘আনবিলিভেবল প্যাকেজ’
ক্রুনাল পান্ডিয়া শুধুমাত্র একজন বোলার নন, তিনি ছিলেন আরসিবির জন্য এক পরিপূর্ণ অলরাউন্ডার। ১৪টি উইকেটের পাশাপাশি তিনি ব্যাট হাতে ২২৬ রান করেছেন, যেখানে তার গড় ছিল ৩৭.৬৬ এবং স্ট্রাইক রেট ছিল ১৪৫.৮০। এটি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম আইপিএল শিরোপা, যা তার অভিজ্ঞতার প্রমাণ দেয়।
টম মুডি ক্রুনালকে নিয়ে বলেন, ‘আপনি সবসময় এমন প্যাকেজ খোঁজেন যারা কেবল বোলার নয়, বরং টপ-সিক্সে ব্যাট করতে পারে। চাপের মুখে সে যেভাবে খেলে এবং তার ১৫৮ আইপিএল ম্যাচের অভিজ্ঞতা আরসিবিকে দারুণভাবে সাহায্য করেছে।’
ক্রুনালের বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বরুণ অ্যারন বলেন, ‘সে মানসিকভাবে অত্যন্ত দক্ষ। সে জানে কোন ব্যাটারকে কোন বল করতে হবে। বিশেষ করে স্পিনারদের ওপর যখন সবাই চড়াও হতে চায়, তখন ক্রুনাল তার ভিন্নধর্মী ব্যাটিং এবং বোলিং পরিকল্পনার মাধ্যমে নিজেকে আলাদা করে তুলেছেন। তার ব্যাটিং পরিকল্পনা অসাধারণ; বিশেষ করে অফ-স্টাম্পের দিকে সরে এসে শট খেলার দক্ষতা তাকে এক ‘আনবিলিভেবল প্যাকেজ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।’
কেন এই জুটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
আরসিবির এই সফলতায় রাশিখ ও ক্রুনালের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তার কয়েকটি কারণ নিচে দেওয়া হলো:
- বিচিত্র বোলিং: রাশিখের স্লোয়ার এবং নাকল বল ব্যাটারদের টাইমিং নষ্ট করতে বাধ্য করেছে।
- ম্যাচ সচেতনতা: ক্রুনাল জানতেন কখন রক্ষণাত্মক হতে হবে আর কখন আক্রমণ করতে হবে।
- অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণ: ক্রুনালের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং রাশিখের সাম্প্রতিক ফর্মের সমন্বয় আরসিবিকে শিরোপা জয়ে সহায়তা করেছে।
- চাপ সামলানো: ফাইনালে চাপের মুহূর্তে এই দুজনই ছিলেন দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বোলার ও ব্যাটার।
পরিশেষে, আরসিবির এই জয় কেবল বড় নামের তারকাদের ওপর নির্ভর ছিল না। রাশিখ সালামের ‘Exceptional’ বোলিং এবং ক্রুনাল পান্ডিয়ার ‘unbelievable package’ পারফরম্যান্সই মূলত আরসিবির চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মূল চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করেছে। ভবিষ্যতের আইপিএল আসরগুলোতেও এই দুই ক্রিকেটারের ভুমিকা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।