Latest Cricket News

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ছাড়ার সিদ্ধান্তই ঈশান কিষাণের ক্যারিয়ার বাঁচিয়েছে: আম্বাতি রাইডু

Karan Malhotra · · 1 min read

ক্যারিয়ারের সন্ধিক্ষণে ঈশান কিষাণের সাহসী সিদ্ধান্ত

আইপিএলের মঞ্চে ঈশান কিষাণ বর্তমানে এক পরিচিত নাম। তবে তার এই সাফল্যের পেছনের গল্পটি বেশ নাটকীয়। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (MI) ছেড়ে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি তার ক্যারিয়ারের জন্য এক টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে কাজ করেছে। প্রাক্তন চেন্নাই সুপার কিংস তারকা আম্বাতি রাইডু মনে করেন, মুম্বাইয়ের বিশাল তারকাখচিত দলের ছায়া থেকে বেরিয়ে আসাটাই কিষাণের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের গণ্ডি ও কিষাণের সংগ্রাম

দীর্ঘ সাত বছর মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে খেলার পর ঈশান কিষাণ দল পরিবর্তন করেন। আম্বাতি রাইডু মনে করেন, মুম্বাইয়ের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি যেখানে বড় বড় তারকার ভিড়, সেখানে তরুণ খেলোয়াড়দের নিজের জায়গা করে নেওয়া অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। রাইডু একটি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, ‘মুম্বাইয়ের মতো দলে বড় তারকাদের ভিড়ে নিজেকে প্রমাণ করা সবসময়ই কঠিন। ঈশান সুপারস্টার হতে চেয়েছিল, কিন্তু সেই প্রতিযোগিতার মাঝে নিজেকে মেলে ধরা সহজ ছিল না।’

সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে নতুন রূপ

২০২৫ সালের মেগা নিলামের আগে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স থেকে বেরিয়ে আসা কিষাণের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদে যোগ দিয়ে তিনি নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলেছেন। ২০২৬ সালের আইপিএল মৌসুমে তিনি ৫৫০-এর বেশি রান সংগ্রহ করে প্রমাণ করেছেন যে, নতুন পরিবেশে তিনি কতটা বিধ্বংসী হতে পারেন। কেবল আইপিএল নয়, ঘরোয়া ক্রিকেটেও তার পারফরম্যান্স ছিল ঈর্ষণীয়। ঝাড়খণ্ডের হয়ে সৈয়দ মুশতাক আলী ট্রফি জয় এবং ভারতীয় দলে তার পুনরুত্থান তাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এমনকি বিশ্বকাপের মঞ্চেও তিনি ৩০০-র বেশি রান করে শিরোপা জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন।

READ:  Ravichandran Ashwin reacts emotionally while discussing Yashasvi Jaiswal's IPL 2026 performance

গেম সেন্স এবং ব্যাটিংয়ের নতুন কৌশল

আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের জন্য আক্রমণাত্মক এবং রক্ষণাত্মক—এই দুই ধরণের মানসিকতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। রাইডু মনে করেন, বেশিরভাগ তরুণ খেলোয়াড় এই সুইচটি করতে ব্যর্থ হয়। তারা কেবল মারমুখী হতে গিয়ে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসে। তবে ঈশান কিষাণ এই মৌসুমে অসাধারণ ম্যাচুরিতি দেখিয়েছেন। রাইডু বলেন, ‘অনেক তরুণই জানে না কখন গিয়ার পরিবর্তন করতে হয়। কিন্তু ঈশান এটি শিখেছে এবং তা নিজের খেলায় দারুণভাবে প্রয়োগ করেছে। কঠিন অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই সে আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

অধিনায়ক হিসেবে ঈশান কিষাণ

এই মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ৫৬৯ রান করে ঈশান কিষাণ তার দলকে প্লে-অফে নিয়ে গেছেন। কেবল ব্যাটার হিসেবেই নয়, অধিনায়ক হিসেবেও তিনি তার বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছেন। রাইডুর মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে তার টানা সাফল্যের ধারা তাকে শট নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক এবং শক্তিশালী করে তুলেছে। বর্তমানে ঈশান কেবল একজন আক্রমণাত্মক ওপেনার নন, বরং দলের প্রয়োজনে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়া এক নির্ভরযোগ্য ব্যাটার।

উপসংহার

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স থেকে বিদায় নেওয়াটা ঈশান কিষাণের জন্য শেষ নয়, বরং নতুন শুরুর ইঙ্গিত ছিল। রাইডুর বিশ্লেষণে এটা স্পষ্ট যে, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসই একজন খেলোয়াড়কে সাধারণ থেকে অসাধারণে পরিণত করতে পারে। ঈশান কিষাণ আজ সেই সাফল্যের উজ্জ্বল উদাহরণ। তার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভারতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য তিনি আরও বড় সম্পদ হয়ে উঠবেন তা বলাই বাহুল্য।