Report

Prendergast ensures Ireland’s narrow one-run win over West Indies: রুদ্ধশ্বাস ডিএলএস জয় আইরিশদের

Aniket Verma · · 1 min read

ত্রি-দেশীয় নারী টি-টোয়েন্টি সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১ রানের রুদ্ধশ্বাস জয় উপহার দিয়ে আয়ারল্যান্ড নারী দল পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে। এই ম্যাচটি কেবল একটি জয় ছিল না, এটি ছিল টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে আয়ারল্যান্ডের প্রথম ঐতিহাসিক জয়, যা তাদের ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করেছে। বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে নির্ধারিত এই ম্যাচে আইরিশদের জয়ের মূল স্থপতি ছিলেন অলরাউন্ডার ওরলা প্রেন্ডারগাস্ট, যিনি ব্যাট হাতে ঝলমলে পারফরম্যান্স এবং বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে দলের বিজয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ম্যাচের প্রতিটি মুহূর্ত ছিল উত্তেজনাপূর্ণ এবং শেষ পর্যন্ত ১ রানের ব্যবধানে জয় প্রমাণ করে দিয়েছে ক্রিকেটে ছোট ছোট মুহূর্তগুলো কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আয়ারল্যান্ডের রুদ্ধশ্বাস ব্যাটিং এবং প্রেন্ডারগাস্টের অসাধারণ ঝলক

১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আয়ারল্যান্ডের শুরুটা মোটেও আশানুরূপ ছিল না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলার শওনিশা হেক্টরের বিধ্বংসী বোলিং তোপে ইনিংসের প্রথম ওভারেই আয়ারল্যান্ডের টপ অর্ডারে চরম ধস নামে। এমন বিপর্যয়ের মুখে চতুর্থ নম্বরে ব্যাট করতে নামা ওরলা প্রেন্ডারগাস্ট একাই আইরিশ ইনিংসের হাল ধরেন, যা ছিল এক অসাধারণ নেতৃত্বসুলভ ইনিংস। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে এবং প্রয়োজনে দ্রুত রান তুলে ৪৬ বলে অপরাজিত ৭১ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন। তার ইনিংসে ছিল ১১টি চোখ ধাঁধানো বাউন্ডারি এবং একটি বিশাল ওভার বাউন্ডারি। প্রেন্ডারগাস্টের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৫৪.৩৩, যা দলের প্রয়োজনীয় রান রেট বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং আয়ারল্যান্ডকে জয়ের পথে সঠিক ট্র্যাকেই রেখেছিল।

প্রেন্ডারগাস্টের এই ইনিংসটি ছিল যেন একাই লড়ার প্রতিচ্ছবি। দলের মোট রানের প্রায় ৭২% রানই এসেছে তার ব্যাট থেকে, যা তার ব্যাটিং দক্ষতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। অন্য ব্যাটসম্যানরা যখন রানের জন্য সংগ্রাম করছিলেন এবং দ্রুত উইকেট হারাচ্ছিলেন, তখন তিনি নিজের প্রান্তে অবিচল থেকে দলের রান বাড়িয়ে গেছেন। তার সাথে ষষ্ঠ উইকেটে লুইস লিটলের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ম্যাচ জেতানো জুটি গড়ে ওঠে। লিটল যদিও তার প্রথম সাত বলে মাত্র ৫ রান করেছিলেন, কিন্তু ম্যাচের শেষ বলে তিনি একটি বাউন্ডারি মেরে ডিএলএস পার স্কোর অতিক্রম করতে সহায়তা করেন। এই বাউন্ডারিটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়, কারণ এর পরপরই বৃষ্টি নামে এবং খেলা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।

READ:  WI bowl first in drizzly Kingston; Malinga, Jangoo named in XIs

লুইস লিটলের ম্যাচ জেতানো অবদান

বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় আয়ারল্যান্ডের স্কোর ছিল ১৪.১ ওভারে ৫ উইকেটে ৯৯ রান। ডিএলএস পদ্ধতিতে এই মুহূর্তে তাদের পার স্কোর ছিল ৯৮। অর্থাৎ, লুইস লিটলের ব্যাট থেকে আসা শেষ বাউন্ডারিটিই আয়ারল্যান্ডকে ডিএলএস স্কোরের এক রান উপরে নিয়ে গিয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত তাদের ঐতিহাসিক জয় এনে দেয়। ম্যাচের এমন রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তে, যেখানে প্রতিটি রান ছিল অমূল্য, সেখানে লিটলের ব্যাট থেকে আসা এই চারটি রান ছিল অত্যন্ত মূল্যবান এবং ম্যাচ জেতানো শট হিসেবে নিঃসন্দেহে বিবেচিত হবে। তার এই শটটি প্রমাণ করে যে ক্রিকেটে যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস এবং আভা ক্যানিংয়ের বোলিং জাদু

এর আগে, প্রথমে ব্যাট করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৮ উইকেটে ১৪১ রান সংগ্রহ করে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংসকে সম্মানজনক স্কোর গড়তে সাহায্য করেন জ্যানিলিয়া গ্লাসগো, যিনি ৩৬ রানের একটি মূল্যবান ইনিংস খেলেন, এবং শেমেইন ক্যাম্পবেল (২১)। তাদের ৪৪ রানের জুটি দলীয় সংগ্রহকে স্থিতিশীলতা এনে দেয় এবং একটি লড়াই করার মতো স্কোর পোস্ট করতে সাহায্য করে। তবে আয়ারল্যান্ডের বোলাররা শুরু থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে রেখেছিল এবং নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়েছিল।

আয়ারল্যান্ডের হয়ে আভা ক্যানিং অসাধারণ বোলিং করেন। তার ৪ ওভারে মাত্র ১১ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ক্যানিংয়ের শিকার হন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ অধিনায়ক হেইলি ম্যাথিউস এবং কিয়ানা জোসেফ। তার এই প্রাথমিক আঘাত ওয়েস্ট ইন্ডিজের রানের গতি স্লথ করে দেয় এবং তাদের বড় স্কোর গড়ার স্বপ্ন কিছুটা হলেও ভেঙে দেয়। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা খেলোয়াড় স্টেফানি টেলর ৯ রান করে অবসর নেন, যা এক পর্যায়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৫৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল এবং দলীয় ব্যাটিং লাইনআপকে আরও দুর্বল করে দেয়।

READ:  Ashton Turner half-century guides Foxes to victory at Hove

বোলিংয়েও ওরলা প্রেন্ডারগাস্টের অবদান ছিল অনস্বীকার্য এবং তিনি তার অলরাউন্ড দক্ষতার পরিচয় দেন। তিনি ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট দখল করেন। ডেথ ওভারে অ্যালিয়াহ অ্যালিয়েন এবং জাইদা জেমসের উইকেট তুলে নিয়ে তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শেষ দিকে দ্রুত রান তোলা থেকে বিরত রাখেন এবং তাদের বড় স্কোর গড়তে বাধা দেন। তার এই অলরাউন্ড পারফরম্যান্স সত্যিই প্রশংসার দাবিদার এবং জয়ের পেছনে তার ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

ডিএলএস পদ্ধতির নাটকীয়তা এবং ঐতিহাসিক জয়

ক্রিকেটে ডিএলএস (ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন) পদ্ধতি প্রায়শই ম্যাচের ফলাফলকে অপ্রত্যাশিত মোড় দেয় এবং এই ম্যাচটিও তার ব্যতিক্রম ছিল না। বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএলএস পদ্ধতির ব্যবহার অপরিহার্য হয়ে পড়ে। আয়ারল্যান্ড যখন ৯৯ রানে ছিল, তখন ডিএলএস পার স্কোর ছিল ৯৮। মাত্র ১ রানের ব্যবধানে এই জয় আয়ারল্যান্ডকে ত্রি-দেশীয় সিরিজের পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে নিয়ে গেছে। এটি কেবল তাদের প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে নয়, এটি দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়াতেও সাহায্য করবে এবং ভবিষ্যতে বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে ভালো খেলার প্রেরণা জোগাবে। এই জয় আইরিশ নারী ক্রিকেটের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

সিরিজের বর্তমান অবস্থা এবং ফাইনালের স্বপ্ন

এই রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর আয়ারল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ উভয় দলেরই তিন ম্যাচে দুটি করে জয় নিয়ে সমান ৪ পয়েন্ট রয়েছে। তবে রান রেটে এগিয়ে থাকায় আয়ারল্যান্ড বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। সিরিজের অন্য দল পাকিস্তান, তাদের দুই ম্যাচে এখনও কোনো জয় নেই এবং তারা পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে রয়েছে। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো আরও উত্তেজনাপূর্ণ হবে বলে আশা করা যায়, যেখানে প্রতিটি দলই নিজেদের সেরাটা দিতে চাইবে ফাইনালে ওঠার জন্য। এই জয় আয়ারল্যান্ডকে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে এবং তাদের ফাইনালের স্বপ্নকে আরও উজ্জ্বল করেছে। আইরিশ নারী দল এখন আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে, এবং তারা আশা করছে এই ধারা বজায় রেখে টুর্নামেন্টে আরও ভালো ফল করবে।

READ:  ভাইটালিটি ব্লাস্টে দ্য ব্লেজের দারুণ জয়: চার্লি নটের দুর্দান্ত অভিষেক