হ্যারি ব্রুক, জোফ্রা আর্চার: লস এঞ্জেলেস ২০২৮ অলিম্পিকের কারণে টেস্ট ম্যাচ মিস করতে পারেন ইংল্যান্ড তারকারা
২০২৮ সালের লস এঞ্জেলেস অলিম্পিকে ক্রিকেটের আনুষ্ঠানিক পুনরাগমন হওয়ার আগে থেকেই আলোচনায় ইংল্যান্ডের তারকা ক্রিকেটারদের কর্মসূচি। হ্যারি ব্রুক, জোফ্রা আর্চার এবং অন্যান্য শীর্ষ খেলোয়াড়দের বর্ষাকালীন টেস্ট ম্যাচ মিস করার সম্ভাবনা খুবই বাস্তবসম্মত।
Contents
জিবি টিম: যুক্তরাজ্যের নতুন পতাকা
ক্রিকেট যখন আগামী অলিম্পিকের অংশ হতে যাচ্ছে, তখন ইংল্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এবং ক্রিকেট স্কটল্যান্ড একসাথে একটি নতুন কাঠামো তৈরি করছে — গ্রেট ব্রিটেন (জিবি) নামে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টিমের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যকে প্রতিনিধিত্ব করা হবে।
এই প্রতিযোগিতায় ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের শীর্ষ ক্রিকেটারদের মধ্যে থেকে খেলোয়াড় নির্বাচন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এখনও পর্যন্ত স্কোয়াড ঘোষিত হয়নি এবং নির্বাচনের সঠিক পদ্ধতিও পরিষ্কার নয়।
দ্বৈত দলের চ্যালেঞ্জ
অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হবে ১৪ থেকে ৩০ জুলাই, ২০২৮ — ঠিক তখনই, যখন ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হওয়ার কথা প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে। এর আগে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন টেস্ট এবং ভারতের বিরুদ্ধে একটি সাদা বলের সিরিজ খেলবে।
অলিম্পিকের জন্য শীর্ষ খেলোয়াড়দের দলে নেওয়া হলে, দুটি আলাদা দল পাঠানোর প্রয়োজন হবে: একটি বাইল্যাটারাল সিরিজের জন্য এবং অন্যটি অলিম্পিকের জন্য।
যারা মিস করতে পারেন টেস্ট ম্যাচ
যদি ইসিবি শীর্ষ খেলোয়াড়দের অলিম্পিকে পাঠায়, তাহলে নিম্নলিখিত খেলোয়াড়দের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ থেকে মিস করা অনিবার্য:
- হ্যারি ব্রুক — যিনি সেই সময়ে ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক হওয়ার প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী।
- জোফ্রা আর্চার — ফাস্ট বোলিংয়ের অন্যতম শীর্ষ অস্ত্র।
- জ্যাকব বেথেল — টি-টোয়েন্টি এবং টেস্ট উভয় ফরম্যাটেই আশাবাদী অলরাউন্ডার।
টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘হ্যারি ব্রুকের মতো খেলোয়াড়রা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট না খেলে এলএ-তে অলিম্পিকে অংশ নিতে পারেন। বর্তমান দলের জ্যাকব বেথেল এবং জোফ্রা আর্চারও এর প্রভাবে পড়তে পারেন।’
অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাবনা
যদিও এখনও কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, ইসিবি ক্রিকেটের অলিম্পিক পুনরাগমনকে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। প্রাতিষ্ঠানিক উৎস জানিয়েছে, দুই বছরের মধ্যে ফরমেট অনুযায়ী শীর্ষ খেলোয়াড়দের পরিবর্তন হওয়া সম্ভব, এবং তাই কঠোর নির্ধারণ এখনই করা যাচ্ছে না।
একইসাথে, প্রতিযোগিতার সময়সূচী এবং আন্তর্জাতিক দলগুলির কর্মসূচির মধ্যে সংঘাতের কথা মাথায় রেখে, বিশেষজ্ঞদের মতে, টেস্ট নিয়মিত খেলোয়াড়দের কারো না কারো মিস করার সম্ভাবনা খুবই বাস্তব।
ক্রিকেটের জন্য অলিম্পিকে ফিরে আসা ঐতিহাসিক মুহূর্ত হবে, এবং ইসিবি সেই মুহূর্তকে সমর্থন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। এখন দেখার, তারা কী ভাবনা নিয়ে নামবে এই বড় প্রতিযোগিতায় — আর সেই সিদ্ধান্ত কতটা প্রভাব ফেলবে ঘরের মাঠে টেস্ট ক্রিকেটের ওপর।