BCCI Shakes Setup, Does This For The 1st Time In History
Contents
ভারতীয় ক্রিকেটের নতুন দিগন্ত
ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI) সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহিলাদের ক্রিকেটের মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সমান পারিশ্রমিক প্রদান থেকে শুরু করে উইমেন্স প্রিমিয়ার লিগ (WPL) আয়োজন—প্রতিটি পদক্ষেপই ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এরই ধারাবাহিকতায়, বিসিসিআই আবারও একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম।
কেন এই সিদ্ধান্ত ঐতিহাসিক?
প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিসিসিআই প্রথমবারের মতো বেঙ্গালুরুর ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’-এ তিনজন বিশেষজ্ঞ নারী কোচ নিয়োগ দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে নেওয়া হলো, যখন ২০২৬ সালের আইসিসি উইমেন্স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দরজায় কড়া নাড়ছে। ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে ভারতের লক্ষ্য এখন শিরোপা জয়। হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বে ভারতীয় দল বর্তমানে কঠোর অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
নিযুক্ত নারী কোচদের পরিচয়
বিসিসিআই যে তিনজন প্রাক্তন ক্রিকেটারকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে, তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অত্যন্ত অভিজ্ঞ:
- নৌশিন আল খাদের (বোলিং কোচ): আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নৌশিনের অবদান অনস্বীকার্য। ৭৮টি ওয়ানডে ম্যাচে ১০০ উইকেট এবং ৫টি টেস্ট ম্যাচে ১৪টি উইকেট শিকার করা এই বোলার তরুণীদের বোলিংয়ে দক্ষ করে তুলবেন।
- ভি আর বনিথা (ফিল্ডিং কোচ): প্রাক্তন এই ক্রিকেটার ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টি খেলার পাশাপাশি কোচিং এবং ট্যালেন্ট স্কাউটিংয়েও বিশেষ পরিচিত। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ডব্লিউপিএলে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
- সুনেত্রা পরাঞ্জপে (ব্যাটিং কোচ): ২০০২ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ভারতের হয়ে খেলা এই অলরাউন্ডার ব্যাটিংয়ের কারিগরি দিকগুলোতে তরুণীদের সাহায্য করবেন।
এই কোচরা সরাসরি ভিভিএস লক্ষ্মণের তত্ত্বাবধানে কাজ করবেন এবং জাতীয় দলের পাশাপাশি উদীয়মান জুনিয়র খেলোয়াড়দেরও প্রশিক্ষণ দেবেন।
ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের রূপান্তর
গত কয়েক বছরে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে গেছে। আগে যেখানে সুযোগ-সুবিধার অভাব এবং প্রচারের আলো থেকে দূরে ছিল এই খেলা, সেখানে আজ ডব্লিউপিএল এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক সাফল্যের ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি ভিন্ন। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয় ভারতীয় নারী ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বিসিসিআইয়ের এই নতুন উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে, তারা মহিলা ক্রিকেটকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। বিশেষ কোচিং স্টাফ নিয়োগের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের দক্ষতা বৃদ্ধির যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোতে ভারতের পারফরম্যান্সে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলার আগে এই প্রস্তুতি খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড মাঠের ভেতরের এবং বাইরের অবকাঠামোতে যে বিনিয়োগ করছে, তা অদূর ভবিষ্যতে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটকে বিশ্বের শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসাতে সাহায্য করবে। তরুণ প্রতিভাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য নৌশিন, বনিথা এবং সুনেত্রার মতো অভিজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া নিঃসন্দেহে একটি মাস্টারস্ট্রোক।