Cricket News

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাবর আজমের রাজত্ব: এই দশকে সবার উপরে পাকিস্তান তারকা

Aniket Verma · · 1 min read

বাবর আজমের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন ও নতুন মাইলফলক

পাকিস্তানের ব্যাটিং স্তম্ভ বাবর আজম আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার বলা হয়। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে ইনজুরি কাটিয়ে ফিরে এসেই তিনি নিজের জাত চেনালেন। প্রথম টেস্টে খেলতে না পারার আক্ষেপ মিটিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাবর ৮৪ বলে ৬৮ রানের এক চমৎকার ইনিংস উপহার দিয়েছেন। তার এই ইনিংসটিতে ছিল ১০টি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারি, যা চাপের মুখে দলকে এক কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেছে।

মাত্র ৭৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানের স্কোরকে ২৩২ রান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার পেছনে বাবরের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। এই ইনিংসের মাধ্যমেই ৩১ বছর বয়সী এই ব্যাটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক বিশাল রেকর্ড গড়েছেন। তিনি জো রুট এবং সতীর্থ মোহাম্মদ রিজওয়ানকে পেছনে ফেলে এই দশকের সেরা রান সংগ্রাহকের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছেন।

৯,০০০ আন্তর্জাতিক রানের মাইলফলকে বাবর আজম

পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায়, ২০২০ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাবরের ধারাবাহিকতা ঈর্ষণীয়। তিনি এখন পর্যন্ত ২১২টি ম্যাচে ২৩১টি ইনিংস খেলে ৯,০৬০ রান সংগ্রহ করেছেন। তার গড় ৪২.৫৩, যা প্রমাণ করে তিন ফরম্যাটেই তিনি কতটা নির্ভরযোগ্য। এই সময়ের মধ্যে বাবর ১৭টি শতক হাঁকিয়েছেন, যা জো রুট এবং শুভমান গিলের পরেই তালিকার তৃতীয় সর্বোচ্চ।

বিরাট কোহলির অবস্থান ও দশকের পরিবর্তন

এক সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দাপটের সাথে রাজত্ব করা বিরাট কোহলি বর্তমানে বাবর আজমের ধারেকাছেও নেই। মজার বিষয় হলো, এই দশকের শীর্ষ পাঁচ রান সংগ্রাহকের তালিকায় কোহলির নামই নেই। তিনি বর্তমানে ৬,৮৭৩ রান নিয়ে তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছেন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে টি-টোয়েন্টি থেকে এবং পরবর্তীতে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসরের পর কোহলির নিয়মিত খেলার সংখ্যা কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে এই পরিসংখ্যানে।

READ:  Vijay Shankar Joins Lanka Premier League Days After IPL Retirement - আইপিএল থেকে অবসরের কয়েক দিন পরই লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে বিজয় শঙ্কর

তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে, ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়টা ছিল পুরোপুরি বিরাট কোহলির। সেই দশকে তিনি ৪৩১টি ইনিংসে ২০,৯৬০ রান করেছিলেন, যেখানে তার গড় ছিল ৫৭.৫৮ এবং শতকের সংখ্যা ছিল ৬৯টি। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে এখন সেই সিংহাসন দখল করে নিয়েছেন বাবর আজম।

সিলেট টেস্টের প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী এই টেস্টে পাকিস্তান দল কিছুটা চাপে রয়েছে। বাংলাদেশের বোলাররা দারুণ বোলিং প্রদর্শনী করেছেন। নাহিদ রানা এবং তাইজুল ইসলাম প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন, এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মেহেদী হাসান মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। ফলে পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে মাত্র ২৩২ রানে গুটিয়ে যায়।

বাংলাদেশের ব্যাটাররা এরপর সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে ব্যাট করতে নামেন। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে মাহমুদউল হাসান জয়ের ফিফটির সুবাদে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। তবে এই সিরিজের ফলাফল যাই হোক না কেন, বাবর আজমের ব্যক্তিগত অর্জন তাকে এই দশকের সেরা ব্যাটারদের আলোচনায় আরও কয়েক ধাপ উপরে তুলে দিয়েছে।

দশকের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই

ক্রিকেট বিশ্ব সবসময়ই রেকর্ড আর পরিসংখ্যান নিয়ে রোমাঞ্চিত থাকে। বাবর আজমের ৯,০০০ রান স্পর্শ করা কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং এটি তার কঠোর পরিশ্রম এবং ধারাবাহিকতার প্রমাণ। যখন কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে থাকেন বা ফর্মের সাথে লড়াই করেন, তখন বাবরের মতো একজন ব্যাটারের এমন উত্থান পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য এক বিশাল পাওয়া।

আগামী দিনগুলোতে বাবর আজম নিজেকে আরও কত উচ্চতায় নিয়ে যান, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন ক্রিকেট ভক্তরা। তবে আপাতত, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই দশকটি যে বাবর আজমের, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কোহলি বা রুটদের মতো কিংবদন্তিদের ভিড়ে নিজের জায়গাটি তিনি যেভাবে শক্ত করেছেন, তা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।