Axar Patel Out? Players To Be Released By Delhi Capitals Before IPL 2027: দিল্লি ক্যাপিটালসের বড় সিদ্ধান্ত
Contents
দিল্লি ক্যাপিটালসের আইপিএল ২০২৬ মরশুমের হতাশাজনক সফর
কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে ইডেন গার্ডেন্সে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলার আগেই দিল্লি ক্যাপিটালসের আইপিএল ২০২৬ সফর শেষ হয়ে গেছে। লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে পাঞ্জাব কিংসের জয়ের ফলেই দিল্লির প্লে-অফে ওঠার শেষ আশাটুকুও আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে যায়। নিলামে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করা সত্ত্বেও, মাঠের পারফরম্যান্স এবং কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দিল্লি কোনো ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি।
এবারের মরশুমে ঘরের মাঠ অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামেও দিল্লির পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। নিজেদের ঘরের মাঠে খেলা ৭টি ম্যাচের মধ্যে ৫টিতেই তারা পরাজিত হয়েছে। এর মধ্যে একটি ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ২৬৪ রান করার পরেও ম্যাচটি হারতে হয়েছিল দলটিকে, যা দলের বোলিং ও রক্ষণাত্মক পরিকল্পনার দুর্বলতাকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। শেষ ম্যাচের আগে ১৩ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট মাত্র ১২, যার মধ্যে রয়েছে ৬টি জয় এবং ৭টি হার। বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের ১২ নম্বরে থাকা দিল্লি শেষ ম্যাচটি জিতলে এবং রাজস্থান রয়্যালস মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের কাছে হেরে গেলে বড়জোর ৫ নম্বরে শেষ করতে পারবে। তবে এই জয় কেবল সান্ত্বনাই দেবে, কিন্তু ব্যর্থতার মূল কারণগুলো দূর করতে পারবে না।
আইপিএল ২০২৬-এ দিল্লি ক্যাপিটালসের ব্যর্থতার অন্যতম বড় কারণ ছিল দলের ধারাবাহিকতার অভাব। রিশভ পন্তের নেতৃত্বাধীন এই দলটিতে ব্যাটিং এবং বোলিং বিভাগে একাধিক তারকা ক্রিকেটার থাকা সত্ত্বেও তারা মাঠের সঠিক সময়ে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন। বিশেষ করে মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকানো বা উইকেট তোলার ক্ষেত্রে দিল্লির বোলাররা বারবার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। পাঞ্জাব কিংস ও লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের মধ্যকার ম্যাচের ফলাফলের ওপর দিল্লির ভাগ্য ঝুলে ছিল, যা কোনো বড় দলের জন্য কাম্য নয়। অবশেষে পাঞ্জাবের জয়ে দিল্লির বিদায় নিশ্চিত হয় এবং তাদের সামনে এখন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে।
Axar Patel Out? Players To Be Released By Delhi Capitals Before IPL 2027: কারা আছেন বাদ পড়ার তালিকায়?
দিল্লির এই ব্যর্থতার পর দল পুনর্গঠন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ক্রিকেট মহলে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে যে, আগামী মরশুমের আগে কোন কোন খেলোয়াড়কে বিদায় জানাতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে Axar Patel Out? Players To Be Released By Delhi Capitals Before IPL 2027-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি। যদিও অক্ষর প্যাটেলের মতো তারকা অলরাউন্ডারকে নিয়ে জল্পনা রয়েছে, তবে দলের বাজেট বাড়াতে এবং তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দিতে মূলত পারফরম্যান্সের নিরিখে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড়কে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। নিচে এমন তিন খেলোয়াড়ের বিস্তারিত আলোচনা করা হলো যাদের দিল্লি ক্যাপিটালস ছেড়ে দিতে পারে:
১. করুণ নায়ার (Karun Nair)
ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে আইপিএল ২০২৫-এর মেগা নিলামে করুণ নায়ারকে তাঁর বেস প্রাইসে দলে নিয়েছিল দিল্লি ক্যাপিটালস। দলে ফিরে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৪০ বলে ৮৯ রানের একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন তিনি, যেখানে জসপ্রিত বুমরাহর মতো বিশ্বমানের বোলারকেও তিনি শাসন করেছিলেন।
তবে আইপিএল ২০২৫ এবং ২০২৬ মিলিয়ে ১০টি ইনিংসে তিনি মাত্র ২১৬ রান করতে পেরেছেন, যেখানে তাঁর গড় ছিল ২১.৬০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৭৫.৬০। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে খেলা সেই ইনিংসটিই ছিল এই দুই মরশুমে তাঁর একমাত্র অর্ধশতরান। চলতি মরশুমের শেষ ম্যাচের আগে তাঁকে মাত্র দুটি ম্যাচে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। দিল্লির বর্তমান স্কোয়াডে সমীর রিজভী, সাহিল পারখ, অভিষেক পোড়েল এবং নীতিশ রানার মতো একাধিক ঘরোয়া বিকল্প রয়েছে যাঁর প্রত্যেকেই ৩ নম্বরে ব্যাট করতে পারেন। তাই করুণ নায়ারকে মুক্তি দিয়ে দিল্লি তাদের পার্স থেকে ৫০ লক্ষ টাকা সাশ্রয় করতে পারে। করুণ নায়ারের মতো প্রতিভাবান ব্যাটারকে নিয়ে দিল্লির অনেক আশা ছিল। তিনি যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত রান পাচ্ছিলেন, তখন দিল্লি টিম ম্যানেজমেন্ট ভেবেছিল তিনি হয়তো মিডল অর্ডার বা ৩ নম্বরে দলের ব্যাটিং হাল ধরবেন। কিন্তু আইপিএলের কঠিন মঞ্চে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে স্পিনের বিরুদ্ধে রান গতি সচল রাখা এবং পেসারদের বিরুদ্ধে প্রথম বল থেকেই বড় শট খেলার ক্ষেত্রে তাঁর খামতি দেখা গেছে। দিল্লি ক্যাপিটালস যদি ভবিষ্যতে একজন তরুণ ও দীর্ঘমেয়াদী ৩ নম্বর ব্যাটার তৈরি করতে চায়, তবে করুণ নায়ারকে ছেড়ে দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
২. টি নটরাজন (T Natarajan)
সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে একসময় নজর কেড়েছিলেন বাঁহাতি পেসার টি নটরাজন। ভারতের হয়ে তিন ফরম্যাটেই খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি, কিন্তু চোট-আঘাতের কারণে তাঁর কেরিয়ারের গ্রাফ নিচের দিকে নামতে থাকে। আইপিএল ২০২৫-এ চোটের সমস্যা থাকা সত্ত্বেও দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যানেজমেন্ট তাঁর ওপর ভরসা রেখে ২০২৬ মরশুমের স্কোয়াডে তাঁকে রেখেছিল।
কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী এই বোলার আইপিএল ২০২৬-এ ১০টি ম্যাচে খেলে মাত্র ৫টি উইকেট নিতে সক্ষম হয়েছেন। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো তাঁর ইকোনমি রেট, যা ছিল ওভার প্রতি ১১.১৮ রান। তাঁর নেওয়া ৫টি উইকেটের মধ্যে ৩টিই এসেছে লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের (LSG) বিরুদ্ধে এক ম্যাচে, যেখানে তিনি ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। নটরাজনকে দল থেকে ছেড়ে দিলে দিল্লি ক্যাপিটালস তাদের পার্সে ১০.৭৫ কোটি টাকা ফেরত পাবে, যা দিয়ে আগামী নিলামে কোনো তরুণ ও কার্যকরী বোলারকে কেনা সম্ভব হবে। টি নটরাজনের ইয়র্কার দেওয়ার ক্ষমতা একসময় আইপিএলের অন্যতম সেরা অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হতো। ডেথ ওভারে তাঁর বোলিং ছিল যেকোনো দলের জন্য ত্রাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর গতি যেমন কমেছে, তেমনই ইয়র্কার দেওয়ার নিখুঁত নিশানা থেকেও তিনি বিচ্যুত হয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সে এসে ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ততম সংস্করণে মানিয়ে নেওয়া এবং চোট সামলে পারফর্ম করা তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিল্লি ক্যাপিটালস যদি তাঁর ১০.৭৫ কোটি টাকার বিশাল অঙ্ক মুক্ত করতে পারে, তবে নিলামে তারা একজন তরুণ ভারতীয় পেসারকে দলে নিতে পারবে, যিনি দীর্ঘসময় দলের বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দিতে পারবেন।
৩. মুকেশ কুমার (Mukesh Kumar)
দিল্লির উদ্বোধনী বোলার মুকেশ কুমার গত দুই মরশুমে ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী (২২ ম্যাচে ১৮ উইকেট)। ভালো দিনে তিনি টেস্ট ম্যাচের লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে প্রতিপক্ষের টপ-অর্ডারকে সমস্যায় ফেলতে পারেন। কিন্তু তাঁর মূল সমস্যা হলো ধারাবাহিকতা এবং রান দেওয়ার উচ্চ হার।
২০২৫ আইপিএল মরশুমের শুরু থেকে তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ১০.৭৪। আর ২০২৬ মরশুমে তিনি ১০টি ইনিংসে মাত্র ৬টি উইকেট নিয়েছেন, যেখানে তাঁর ইকোনমি রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১.২৬। একজন ফ্রন্টলাইন পেসারের জন্য এত বেশি রান খরচ করা এবং সেই তুলনায় কম উইকেট পাওয়া দলের জন্য বড় ক্ষতি। বর্তমানে স্কোয়াডে আকিব নবীর মতো প্রতিভা থাকায় দিল্লি ক্যাপিটালস মুকেশ কুমারকে মুক্তি দেওয়ার কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে পারে। মুকেশ কুমারকে ছেড়ে দিলে দিল্লির পার্সে আরও ৪ কোটি না, বরং পুরো ৮ কোটি টাকা যোগ হবে। মুকেশ কুমার ভারতীয় দলের হয়েও আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। কিন্তু আইপিএলের মতো মারকাটারি টুর্নামেন্টে যেখানে ব্যাটাররা প্রথম বল থেকেই মারমুখী মেজাজে থাকেন, সেখানে মুকেশের ইয়র্কার বা স্লোয়ার ডেলিভারির কার্যকারিতা অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। পাওয়ারপ্লে-তে উইকেট পেলেও ডেথ ওভারে তাঁর রান দেওয়ার প্রবণতা দিল্লিকে অনেক ম্যাচেই ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়েছে। আকিব নবীর মতো তরুণ ও সম্ভাবনাময় বোলারের অন্তর্ভুক্তি দিল্লিকে নতুন বিকল্পের সন্ধান দিয়েছে। তাই ৮ কোটি টাকার মতো বড় অঙ্ক মুকেশের পেছনে ব্যয় না করে দিল্লি ক্যাপিটালস অন্য কোনো বোলিং কম্বিনেশন তৈরি করার চেষ্টা করবে।
কত টাকা বাঁচবে দিল্লির পার্সে?
যদি দিল্লি ক্যাপিটালস উপরোক্ত তিন খেলোয়াড়কে দল থেকে ছেড়ে দেয়, তবে তাদের পার্সে মোট ১৯.২৫ কোটি টাকা যুক্ত হবে (করুণ নায়ার ৫০ লক্ষ, টি নটরাজন ১০.৭৫ কোটি এবং মুকেশ কুমার ৮ কোটি)। এই বিশাল অঙ্কের অর্থ দিয়ে তারা আইপিএল ২০২৭-এর নিলামে নতুন এবং আরও বেশি প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে পারবে। আইপিএল ২০২৬-এর ব্যর্থতা ভুলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে এই অর্থ দিল্লি ক্যাপিটালসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।