চিপকে ইশান কিষাণের ‘হুইসেল পোডু’ উদযাপন নিয়ে মুখ খুললেন অশ্বিন
Contents
চিপকের উত্তাপ এবং ইশানের উদযাপন
আইপিএলের মঞ্চে আবেগ এবং উত্তাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। সম্প্রতি চেন্নাই সুপার কিংসের হোম গ্রাউন্ড চিপকে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের জয়ের পর ইশান কিষাণের করা উদযাপন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে। অনেকে এটিকে চেন্নাইয়ের দর্শকদের প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন। তবে এই পরিস্থিতিতে প্রাক্তন সিএসকে তারকা রবিচন্দ্রন অশ্বিন ভিন্ন এবং অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে এই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু হায়দ্রাবাদের ব্যাটসম্যানদের দাপটের সামনে সিএসকে নিজেদের মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়। এই জয়ে ইশান কিষাণ ৭০ রানের একটি অনবদ্য ইনিংস খেলেন। ম্যাচ জেতার পর এবং প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত হওয়ার আনন্দে ইশান চিপকের দর্শকদের সামনে ‘হুইসেল পোডু’ ভঙ্গি করে উদযাপন করেন। এই উদযাপনই সিএসকে ভক্তদের একাংশের কাছে অসম্মানজনক মনে হয়েছে এবং তারা সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিকেটারের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন।
রবিচন্দ্রন অশ্বিনের ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য
চিপকের দর্শকদের আবেগ এবং মাঠের পরিবেশ সম্পর্কে ভালোভাবেই ওয়াকিবহাল অশ্বিন। তিনি এই পুরো বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত পরিপক্ক মন্তব্য করেছেন। অশ্বিনের মতে, এগুলি খেলারই অংশ এবং ভক্তদের উচিত বিষয়টিকে ব্যক্তিগতভাবে না নেওয়া।
অশ্বিন বলেন, ‘ইশান কিষাণের উদযাপন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বিতর্ক চলছে, তা পুরোপুরি অনভিপ্রেত। আমি মনে করি বিষয়টি ছেড়ে দেওয়াই উচিত। তারা সবাই পেশাদার খেলোয়াড়, এমন ঘটনা ঘটা অস্বাভাবিক নয়। এটাকে ব্যক্তিগতভাবে না নিয়ে বরং খেলা হিসেবে উপভোগ করা উচিত।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘একজন ভারতীয় ক্রিকেটার আপনার সামনে উদযাপন করছে, সেখানে অহংবোধ কেন থাকবে? খেলা উপভোগ করুন, নাহলে উত্তেজনার মানে কী?’
টিমের ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প
অশ্বিন ইশান কিষাণ এবং হায়দ্রাবাদ দলের প্রশংসাও করেছেন। গত ম্যাচে গুজরাট টাইটানসের বিরুদ্ধে মাত্র ৮৬ রানে অল-আউট হওয়ার পর এই জয়টি ছিল দারুণ প্রত্যাবর্তন। অশ্বিনের মতে, সিএসকে-র মতো শক্তিশালী দলকে তাদের ঘরের মাঠে হারানো সহজ কাজ নয়। তিনি বলেন, ‘একজন অ্যাথলেট যখন আপনার ঘরের মাঠে এসে জিতে উদযাপন করে, তখন সেটাকে খেলার মর্যাদা দিয়ে মেনে নেওয়াই শ্রেয়। পরবর্তী মৌসুমে যখন সিএসকে হায়দ্রাবাদের মাঠে খেলতে যাবে, তখন তারা এর যোগ্য জবাব দিতে পারে।’
ক্রিকেটের স্পিরিট বজায় রাখা
অশ্বিনের এই বার্তা স্পষ্ট—মাঠের লড়াই মাঠেই থাকা উচিত। সমর্থকদের মধ্যে তীব্র আক্রোশ না ছড়িয়ে ক্রিকেটের স্পিরিট বজায় রাখাই আসল কাজ। সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্বিনের এই মন্তব্য ক্রিকেটপ্রেমীদের বড় একটি অংশের প্রশংসা কুড়িয়েছে। একজন প্রাক্তন সিএসকে খেলোয়াড় হয়েও অশ্বিন যে নিরপেক্ষতা দেখিয়েছেন, তা বর্তমান যুগে খুবই বিরল।
পরিশেষে, আইপিএলের মতো টুর্নামেন্টে জয়-পরাজয় থাকবেই। খেলোয়াড়দের আবেগ অনেক সময় মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে। ইশানের উদযাপনকে তাই নিছক একটি জয়োৎসব হিসেবে দেখাই বুদ্ধিমানের কাজ। ভক্তদের উচিত খেলাকে ভালোবাসার চোখে দেখা এবং মাঠের উত্তাপকে মাঠেই সীমাবদ্ধ রাখা।