Allround Dawson downs Sussex to keep Hampshire on a roll
Contents
ভাইটালিটি ব্লাস্টে হ্যাম্পশায়ারের টানা চতুর্থ জয়
ভাইটালিটি ব্লাস্টের চলতি আসরে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে হ্যাম্পশায়ার হকস। লিয়াম ডসনের অনবদ্য অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ভর করে তারা সাসেক্স শার্কসকে ২৯ রানে পরাজিত করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে সাউথ গ্রুপে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করল হ্যাম্পশায়ার। পক্ষান্তরে, সাসেক্সের জন্য এটি ছিল টানা তৃতীয় পরাজয়, যা তাদের পয়েন্ট টেবিলের একেবারে তলানিতে ঠেলে দিয়েছে।
লিয়াম ডসনের ব্যাটে রানের বন্যা
ম্যাচের শুরুটা হ্যাম্পশায়ারের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। সাসেক্স অধিনায়ক টাইমাল মিলস টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন এবং শুরুতেই জেমস ভিন্সকে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাম্পশায়ারকে চাপে ফেলে দেন। পাওয়ারপ্লের প্রথম সাত ওভারের মধ্যে হ্যাম্পশায়ার মাত্র ৪২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল। তবে সেই কঠিন সময়ে ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন লিয়াম ডসন।
এর আগের ম্যাচে সারের বিপক্ষে দুর্দান্ত ফিফটি হাঁকানো ডসন এবারও তার ফর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন। ট্রিস্টান স্টাবসের সাথে জুটি বেঁধে তিনি ইনিংস মেরামতের কাজ শুরু করেন। এই দুজনে মিলে মাঝের ওভারগুলোতে ৬৬ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। ডসন তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের টানা দ্বিতীয় ফিফটি পূর্ণ করেন। শেষ দিকে জেমস ফুলার এবং হিলটন কার্টরাইট দ্রুত রান তোলায় হ্যাম্পশায়ার নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭৩ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায়।
সাসেক্সের ব্যাটিং ধস
১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সাসেক্স শুরুটা বেশ আক্রমণাত্মকভাবে করেছিল। পাওয়ারপ্লেতে তারা ৬৭ রান সংগ্রহ করে ম্যাচ জয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। ড্যানিয়েল হিউজ এবং হ্যারিসন ওয়ার্ড দারুণ ব্যাটিং করছিলেন। কিন্তু পাওয়ারপ্লের শেষ বলে জেমস ফুলার ওয়ার্ডকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেললে খেলার মোড় ঘুরে যায়।
ফুলার তার পরবর্তী ওভারে এসে আবারও জোড়া আঘাত হানেন, যা সাসেক্সের ব্যাটিং লাইনআপের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। তবে মূল ধ্বংসযজ্ঞটি চালান লিয়াম ডসন। নিজের স্পিন ঘূর্ণিতে সাসেক্সের ব্যাটারদের পুরোপুরি বোতলবন্দি করে রাখেন তিনি। ডসন তার ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ২০ রান খরচ করে ৩টি উইকেট শিকার করেন।
ম্যাচের শেষাংশ: হ্যাম্পশায়ারের জয় নিশ্চিত
মাঝের ওভারগুলোতে হ্যাম্পশায়ার বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং সাসেক্সকে কোনোভাবেই ম্যাচে ফিরতে দেয়নি। লিয়াম ডসনের পাশাপাশি জেমস ফুলার, ক্রিস উড এবং তরুণ ম্যানি লুমসডেন প্রত্যেকেই দুর্দান্ত বোলিং করেন। হ্যাম্পশায়ারের ফিল্ডিং এবং বোলিংয়ের সমন্বয়ে সাসেক্স শেষ পর্যন্ত ১৪৪ রানে অলআউট হয়ে যায়।
- ম্যাচের সেরা পারফর্মার: লিয়াম ডসন (৫২ রান ও ৩ উইকেট)
- হ্যাম্পশায়ারের স্কোর: ১৭৩/৬ (২০ ওভার)
- সাসেক্সের স্কোর: ১৪৪ (অলআউট)
- ফলাফল: হ্যাম্পশায়ার ২৯ রানে জয়ী
এই জয়টি হ্যাম্পশায়ারকে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে নিয়ে গেছে। দলের বোলিং এবং ব্যাটিং ইউনিট বর্তমানে যে ছন্দে আছে, তাতে ভাইটালিটি ব্লাস্টের পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও তারা ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। অন্যদিকে, টানা হারের বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে সাসেক্সকে এখন নতুন কোনো কৌশলের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। সব মিলিয়ে, এই ম্যাচটি ছিল লিয়াম ডসনের একক আধিপত্যের গল্প, যা হ্যাম্পশায়ারের জয়ের ধারাকে আরও দীর্ঘায়িত করল।