Cricket News

বাংলাদেশের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর তীব্র ট্রোলের মুখে পাকিস্তান ক্রিকেট দল

Aniket Verma · · 1 min read

পাকিস্তান ক্রিকেটের দৈন্যদশা যেন দিন দিন আরও প্রকট হয়ে উঠছে। একের পর এক পরাজয়ের গ্লানি যেন পিছু ছাড়ছে না মেন ইন গ্রিনদের। এবার বাংলাদেশের মাটিতে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে লজ্জাজনকভাবে হোয়াইটওয়াশ হলো তারা। সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে ৭৮ রানের ব্যবধানে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাকিস্তানকে। গত দুই বছরের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয়বার পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার অসাধারণ গৌরব অর্জন করল বাংলাদেশ দল। আর পাকিস্তানের এমন শোচনীয় পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষুব্ধ সমর্থকদের মাঝে শুরু হয়েছে তীব্র ট্রোল ও মিমের বন্যা।

সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের দুর্দান্ত শুরু এবং লিটন দাসের সেঞ্চুরি

প্রথম টেস্টে হেরে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান দল সিলেটে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোর এক নতুন আশার আলো নিয়ে মাঠে নেমেছিল। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই সেই আশার প্রদীপ দ্রুতই নিভে যায়। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখায় বাংলাদেশ দল। উইকেটরক্ষক ব্যাটার লিটন দাসের অনবদ্য এক সেঞ্চুরির ওপর ভর করে প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের এই সংগ্রহের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ব্যাকফুটে চলে যায় পাকিস্তান। বাংলাদেশি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের মুখে পাকিস্তান দল মাত্র ২৩২ রানে অলআউট হয়ে যায়। এর ফলে প্রথম ইনিংসেই ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়ে যায় বাংলাদেশ দল, যা ম্যাচে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তোলে।

READ:  ধোনির স্টাইলে হেলিকপ্টার শট! আরশদীপ সিংকে উড়িয়ে দিলেন বৈভব সূরিয়ানশী | IPL 2026

মুশফিকুর রহমানের ১৩৭ ও বাংলাদেশের বিশাল লক্ষ্য নির্ধারণ

নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে (ম্যাচের তৃতীয় ইনিংসে) প্রথম ইনিংসের সেই মানসিক সুবিধা ও আত্মবিশ্বাসকে দারুণভাবে কাজে লাগায় বাংলাদেশ। তারা ব্যাটিংয়ে আরও আগ্রাসী রূপ ধারণ করে স্কোরবোর্ডে ৩৯০ রানের এক বিশাল পাহাড় গড়ে তোলে। এই ইনিংসে দলের পক্ষে অনবদ্য এক ব্যাটিং পারফরম্যান্স উপহার দেন অভিজ্ঞ ক্রিকেটার মুশফিকুর রহমান। তিনি ১৩৭ রানের এক ক্লাসিক ইনিংস খেলেন। এছাড়া প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাস এই ইনিংসেও দলের হাল ধরেন এবং একটি চমৎকার হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন।

বল হাতে পাকিস্তানের হয়ে একমাত্র লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন খুররম শাহজাদ। ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে দুটি চার উইকেটের কৃতিত্ব (ফোর-উইকেট হল) অর্জন করেন তিনি। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দলের অন্য কোনো বোলার তাকে যোগ্য সহযোগিতা দিতে পারেননি। যার ফলে বাংলাদেশকে বড় স্কোর গড়া থেকে কোনোভাবেই আটকাতে পারেনি সফরকারী পাকিস্তান দল।

৪৩৭ রান তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের শেষ দিনের পতন

টেস্ট ম্যাচটি জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রানের এক আকাশচুম্বী পাহাড়। এই বিশাল রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে পাকিস্তান। দলীয় মাত্র ৪৭ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে তারা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক শান মাসুদ এবং দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার বাবর আজম। শান মাসুদ ৭১ রানের একটি লড়াকু ইনিংস খেলেন এবং বাবর আজম তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ৪৭ রান করেন।

এই জুটি ভাঙার পর পাকিস্তান দলের ইনিংসের হাল ধরেন সালমান আগা এবং উইকেটরক্ষক ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। এই দুই জনের মধ্যে ১৩৪ রানের একটি চোখধাঁধানো ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা পার্টনারশিপ তৈরি হয়। মোহাম্মদ রিজওয়ান চমৎকার ব্যাটিং করলেও মাত্র ৬ রানের জন্য নিজের কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরি মিস করেন এবং ৯৪ রানে সাজঘরে ফেরত যান। এরপর টেস্টের পঞ্চম দিনে এসে পাকিস্তানের লোয়ার অর্ডার হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ৩৫৮ রানে অলআউট হয়ে যায় পাকিস্তান। ফলে ৭৮ রানে ম্যাচটি জিতে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ দল।

READ:  আইপিএল ২০২৬: চেন্নাইয়ের বিপক্ষে ১৫৫ কিমি গতিতে সিরাজের রেকর্ড

“উগান্ডার সাথে খেলো এবার” – সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ও ট্রোল

পাকিস্তানের এই লজ্জাজনক পরাজয় সমর্থকদের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে। কারণ এটিই ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবার যখন পাকিস্তান দল বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশের কাছে কোনো টেস্ট সিরিজে পরাজিত হলো। এর আগে বাংলাদেশের দল পাকিস্তানের মাটিতে গিয়েও একই রকম আধিপত্য বজায় রেখে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল।

স্বভাবতই, পাকিস্তানের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। অনেকেই শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন দলটিকে নিয়ে নানা রকম ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছেন। দলে এত অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকার পরেও কীভাবে চাপের মুখে দল ভেঙে পড়ে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সমর্থক তো ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন, “উগান্ডার সাথে খেলো এবার” (Uganda Se Khelo Ab)। দলটির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মান যে কতটা নিচে নেমে গেছে, সমর্থকরা তা নিয়ে গভীর হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ডব্লিউটিসি ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান

বাংলাদেশের কাছে এই হারের পর কেবল সিরিজই হাতছাড়া হয়নি পাকিস্তানের, বরং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) ফাইনালে খেলার স্বপ্নও আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়ে গেছে। সর্বশেষ ডব্লিউটিসি পয়েন্ট টেবিল অনুযায়ী, এই পরাজয়ের ফলে পাকিস্তান দল র‍্যাঙ্কিংয়ের অষ্টম স্থানে নেমে গেছে। যার ফলে তাদের ফাইনালে ওঠার আর কোনো গাণিতিক সুযোগও অবশিষ্ট নেই।

অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন শান মাসুদ? বাবরের ফেরার গুঞ্জন

টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানের এই শোচনীয় ব্যর্থতার পর অধিনায়ক শান মাসুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্রিকেট পাড়ায় জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তার অধীনে পাকিস্তান দল এখন পর্যন্ত খেলা ১৬টি টেস্টের মধ্যে ১২টিতেই পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে। কেবল নেতৃত্বেই নয়, অধিনায়ক হিসেবে শান মাসুদের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও অত্যন্ত হতাশাজনক। অধিনায়ক হিসেবে ৩২ ইনিংসে তিনি মাত্র ১০৫৬ রান করতে সক্ষম হয়েছেন, যেখানে তার ব্যাটিং গড় মাত্র ৩৪.০৬ এবং সেঞ্চুরি রয়েছে মাত্র দুটি।

READ:  Virat Kohli Goes To Bowl, Immediately Retracts As Rajat Patidar Pays No Heed - IPL 2026: বিরাট কোহলির মজার কাণ্ড ও আরসিবির ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত

পাকিস্তানের স্থানীয় গণমাধ্যমের নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, শান মাসুদকে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে। আর তার জায়গায় পুনরায় বাবর আজমকে টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর আগে ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে পাকিস্তান দলের ভরাডুবির পর বাবর আজম সব ফরম্যাটের অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তবে বর্তমান পাকিস্তান দলে বিশ্বমানের তারকার অভাব থাকায় পিসিবি হয়তো আবারও বাবরের অভিজ্ঞতার ওপরই ভরসা রাখতে চলেছে।