Report

সিলেটে লিটন-মুশফিকের ব্যাটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লিড বাড়াল বাংলাদেশ

Arthur Sethi · · 1 min read

সিলেটে দাপট ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচটি এখন দারুণ এক অবস্থানে। সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশ তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান সংগ্রহ করেছে। সব মিলিয়ে স্বাগতিকদের লিড এখন ২৪৯ রানের। লিটন দাস ৪৮ রানে এবং মুশফিকুর রহিম ৩৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তাদের দুজনের অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেট জুটি থেকে ইতিমধ্যে ৮৮ রান যোগ হয়েছে, যা সফরকারী পাকিস্তান বোলারদের জন্য এক বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

লিটন ও মুশফিকের দৃঢ়তা

প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করা লিটন দাস দ্বিতীয় ইনিংসেও নিজের ফর্ম ধরে রেখেছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মন্থর আউটফিল্ড সত্ত্বেও তিনি যেভাবে ধৈর্য ধরে ব্যাট করছেন, তা প্রশংসনীয়। অন্যদিকে, অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম শুরু থেকেই বেশ সতর্ক ছিলেন, কিন্তু সেশন শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে সাজিদ খানের বলে সগ-সুইপ করে ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছেন। তাদের এই জুটি বাংলাদেশকে ম্যাচে অনেকটা চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছে।

খুররম শাহজাদের তোপে শান্তর বিদায়ে শুরু

দিনের শুরুতে মেঘলা ও বাতাসযুক্ত কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে পাকিস্তানের বোলাররা দারুণ বোলিংয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিশেষ করে খুররম শাহজাদ নিজের লাইন ও লেন্থ বজায় রেখে নাজমুল হোসেন শান্তকে বেশ ভুগিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত পঞ্চম ওভারে শাহজাদের একটি ইন-সুইং ডেলিভারি শান্তর প্যাডে আঘাত করলে আম্পায়ার আঙুল তুলে দেন। শান্ত ৪৬ বলে ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন। তার বিদায়ে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়লেও দ্রুতই তা সামাল দেন লিটন ও মুশফিক।

READ:  The Blaze take it deep to stun Lancashire - ম্যাচ রিপোর্ট

লিটনের ভাগ্য সহায়

ম্যাচের ৪৭তম ওভারে লিটন দাস এক বড় বিপদের মুখে পড়েছিলেন। মুশফিকের ডাকে সাড়া দিয়ে রান নিতে গিয়ে মাঝপথে আটকা পড়েন লিটন। তবে বাবর আজমের সরাসরি থ্রো স্টাম্পে আঘাত করতে ব্যর্থ হওয়ায় লিটন জীবন ফিরে পান। সেই সময় ব্যক্তিগত ৩৮ রানে থাকা লিটন বেঁচে যাওয়াটা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি মুহূর্ত ছিল। বাবর আজমের কাছে যথেষ্ট সময় থাকা সত্ত্বেও সুযোগ কাজে লাগাতে না পারার আক্ষেপ নিশ্চয়ই দীর্ঘ হবে পাকিস্তানের জন্য।

বোলারদের নৈপুণ্য ও ম্যাচের প্রেক্ষাপট

এর আগে রোববার পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ২৩২ রানে অলআউট হয়। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ও তাইজুল ইসলাম তিনটি করে উইকেট শিকার করেন। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ দুটি করে উইকেট লাভ করেন। পাকিস্তানের পক্ষে বাবর আজম সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন। সালমান আঘার সঙ্গে বাবরের জুটি ছাড়া আর কোনো ব্যাটার বড় কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। যদিও সাজিদ খান শেষ দিকে চারটি ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে নিজেদের পজিশন আরও মজবুত করেছে। দ্বিতীয় দিনে মাহমুদুল হাসান জয়ের দ্রুত অর্ধশতক এবং মুমিনুল হকের সাথে তার ৭৬ রানের জুটি দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। এখন দেখার বিষয়, বাংলাদেশ কত রানের লক্ষ্য দিয়ে পাকিস্তানকে দ্বিতীয়বার ব্যাটিংয়ে নামায়। ম্যাচটি এখন সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে এবং লিটন-মুশফিকের ওপর ভর করে টাইগাররা একটি বড় জয়ের স্বপ্ন দেখছে।