Latham calls upon NZ to keep ‘raising the bar’ in bid for Test series win
Contents
সিরিজ জয়ের লক্ষ্যে নিউজিল্যান্ডের নতুন মিশন
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে টম ল্যাথাম তার দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ওভালের মাঠে নিউজিল্যান্ডের অসাধারণ ‘ওল্ড-স্কুল’ জয় দলটির আত্মবিশ্বাসকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এখন ট্রেন্ট ব্রিজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ল্যাথাম তার সতীর্থদের আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা নিজেদের পারফরম্যান্সের মান আরও বৃদ্ধি করেন। ল্যাথাম বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি সিরিজে সেরা ফলাফল নিশ্চিত করা এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রস্তুতির দিকে নজর দেওয়া।’
ওল্ড-স্কুল ক্রিকেটের জয়গান
আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের দ্রুত গতির খেলার বিপরীতে নিউজিল্যান্ডের ওভালের জয়টি ছিল বেশ প্রথাগত। ল্যাথাম এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘গত সপ্তাহে আমরা যেভাবে খেলেছি, তা আধুনিক টেস্ট ক্রিকেটের চেয়ে কিছুটা আলাদা ছিল। আমরা দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ধরে খেলেছি এবং ধারাবাহিকভাবে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছি। ট্রেন্ট ব্রিজেও যদি এমন কৌশলের প্রয়োজন হয়, তবে আমরা তা করতে প্রস্তুত।’ ল্যাথামের মতে, সিরিজের শুরু থেকেই তার দল প্রতিটি ম্যাচে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে উন্নতির দিকে এগিয়েছে এবং আশা করা হচ্ছে এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
কাইল জেমিসনের অনুপস্থিতি ও মিচেল স্যান্টনারের সম্ভাবনা
ট্রেন্ট ব্রিজ টেস্টের আগে নিউজিল্যান্ড দল কিছুটা হোঁচট খেয়েছে ফাস্ট বোলার কাইল জেমিসনের অনুপস্থিতিতে। তবে ল্যাথাম আশ্বস্ত করেছেন যে এটি কোনো চোটজনিত সমস্যা নয়, বরং দীর্ঘ বিরতির পর তার ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের অংশ। জেমিসনের জায়গায় মিচেল স্যান্টনার একাদশে ফেরার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। স্যান্টনার তার কাঁধের চোট থেকে দ্রুত সেরে উঠেছেন এবং বর্তমান ইংল্যান্ডের গরম আবহাওয়ায় স্পিনার হিসেবে তিনি বেশ কার্যকর হতে পারেন বলে মনে করছেন অধিনায়ক। ল্যাথাম বলেন, ‘স্যান্টনার যেকোনো কন্ডিশনে বল ঘোরাতে সক্ষম। তাকে যদি একাদশে নেওয়া হয়, তবে সে অবশ্যই ইংল্যান্ডের ব্যাটারদের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’
ট্রেন্ট ব্রিজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত ব্ল্যাকক্যাপস
ট্রেন্ট ব্রিজের পিচ এবং মাঠের আকার নিয়ে ল্যাথামের বেশ ভালো ধারণা রয়েছে। চার বছর আগে এই মাঠেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচে তারা বড় রান তাড়া করতে দেখেছিল। ল্যাথাম মনে করেন, ট্রেন্ট ব্রিজে রান করা সহজ এবং বোলারদের জন্য এখানে লাইন-লেন্থ বজায় রাখা বেশ চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, ‘এই মাঠের আকার কিছুটা ছোট হওয়ায় দ্রুত রান তোলা সম্ভব। তাই কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়াটাই হবে আমাদের প্রধান কাজ। আমরা জানি ইংল্যান্ড তাদের হোম কন্ডিশনে কতটা শক্তিশালী, তবে আমরাও আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ধারাবাহিকতা
কেলি উইলিয়ামসনের আকস্মিক অবসর ঘোষণার পর দল যে পেশাদারিত্ব দেখিয়েছে, তাতে ল্যাথাম গর্বিত। তিনি মনে করেন, দলের সদস্যরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের চেয়ে দলীয় সাফল্যের দিকে বেশি মনোযোগী। সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই নিউজিল্যান্ড জয়ের খুব কাছাকাছি ছিল এবং ট্রেন্ট ব্রিজে তারা সেই সাফল্য ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। ল্যাথাম উপসংহারে বলেন, ‘আমরা সিরিজের শুরু থেকে যা করছি, তা আরও ভালোভাবে করার চেষ্টা করব। আমরা জানি সিরিজ জিততে হলে আমাদের প্রতিটি বিভাগেই সেরাটা দিতে হবে এবং ট্রেন্ট ব্রিজে আমরা সেই লক্ষ্যেই ঝাঁপিয়ে পড়ব।’
নিউজিল্যান্ডের এই নতুন পথচলা ক্রিকেটের ইতিহাসে নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ল্যাথামের নেতৃত্ব এবং দলের সামগ্রিক মানসিকতা প্রমাণ করছে যে তারা সিরিজ জয়ে কতটা মরিয়া। দর্শকদের জন্য একটি উপভোগ্য লড়াই অপেক্ষমাণ রয়েছে ট্রেন্ট ব্রিজে।