News

Chamari Athapaththu: ‘I think I’m a failure as a captain’ – শ্রীলঙ্কার হতাশা

Arthur Sethi · · 1 min read

একটি দীর্ঘ ক্রিকেট যাত্রার বিষাদ

ক্রিকেট মাঠের লড়াইয়ে জয়-পরাজয় থাকেই, কিন্তু যখন সেই হারের কারণ হিসেবে নিজেকে দায়ী করতে হয়, তখন তা একজন খেলোয়াড়ের জন্য বড় যন্ত্রণার। শ্রীলঙ্কার নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু ঠিক এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই যাচ্ছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে শোচনীয় হারের পর তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, Chamari Athapaththu: ‘I think I’m a failure as a captain’। এই মন্তব্য কেবল একটি পরাজয়ের হতাশা নয়, বরং তার দীর্ঘ ১৮ বছরের ক্যারিয়ারের একটি বড় অপূর্ণতার প্রতিফলন।

সেমিফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ

২০২৬ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার পথচলা এখন বেশ সংকটাপন্ন। ব্রিস্টলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৮ রানে গুটিয়ে যাওয়া ম্যাচটিতে চামারি ব্যক্তিগতভাবে মাত্র ২ রান করতে পেরেছেন। এই পরাজয়ের ফলে শ্রীলঙ্কা গ্রুপ-২ এর পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে। ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন জয়ের ধারায় রয়েছে, তখন শ্রীলঙ্কার জন্য সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখা অনেকটা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ব্যক্তিগত সাফল্য বনাম দলীয় ব্যর্থতা

চামারি আতাপাত্তু বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে স্বীকৃত। তিনি ১০টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেছেন, যা একজন ক্রিকেটারের জন্য বিশাল অর্জন। কিন্তু এত ব্যক্তিগত সাফল্যের পরও তিনি কেন নিজেকে ব্যর্থ মনে করছেন? তার ভাষায়, “আমি ১৮ বছর ধরে জাতীয় দলের হয়ে খেলছি, কিন্তু কখনো আমার দলকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিয়ে যেতে পারিনি। ব্যক্তিগত অনেক অর্জন থাকলেও একজন অধিনায়ক হিসেবে আমি ব্যর্থ। আর এই ব্যথাটা একজন খেলোয়াড়ের জন্য অনেক বড়।”

দায়িত্ববোধ এবং অনুশোচনা

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে চামারি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি নিজের ব্যর্থতার পুরো দায়ভার নিজের কাঁধেই নিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমার আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। আমি যদি আজ আরও দায়িত্ব নিয়ে খেলতাম, তবে আমরা ম্যাচটি জিততে পারতাম। আমি কাউকে দোষ দিতে চাই না, কারণ দলের অধিনায়ক এবং অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে আমার দায়বদ্ধতা সবচেয়ে বেশি।”

READ:  Damien Wright leaves West Indies role to return to Tasmania as bowling coach - তাসমানিয়ায় ফিরছেন রাইট

ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা

চামারির বয়স এখন ৩৬ বছর। ২০২৮ সালে পাকিস্তানে পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তাকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে তিনি এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তিনি বলেন, “আমার বয়সের কারণে আমি এখনই কিছু বলতে পারছি না। ফিটনেস এবং পারফরম্যান্স বজায় রাখা এখন আমার প্রধান লক্ষ্য। যদি দল আমাকে চায় এবং আমার শারীরিক সক্ষমতা অনুমতি দেয়, তবেই আমি পরবর্তী বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবব।”

পরবর্তী চ্যালেঞ্জ

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার সামনে এখনো দুটি ম্যাচ বাকি আছে। ২৩ জুন ব্রিস্টলে আয়ারল্যান্ড এবং ২৬ জুন ম্যানচেস্টারে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। যদিও সেমিফাইনালে ওঠার রাস্তা অত্যন্ত কঠিন, তবুও চামারি এবং তার দল শেষ দুটি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করবে।

  • শ্রীলঙ্কার পরবর্তী লক্ষ্য: আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়।
  • চামারি আতাপাত্তুর নেতৃত্বে দলের মানসিক পরিস্থিতি এখন বেশ কঠিন।
  • বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনের দিকে এগোনোর চ্যালেঞ্জ।

চামারি আতাপাত্তুর এই আক্ষেপ আসলে একজন খাঁটি ক্রীড়াবিদের হৃদয়ের আর্তনাদ। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের উজ্জ্বলতায় তিনি অনেক আলোকিত, কিন্তু দেশের জন্য শিরোপা বা বড় কোনো সাফল্য অর্জনের আকাঙ্ক্ষা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়। একজন অধিনায়ক হিসেবে তার এই সততা এবং দায়বদ্ধতা আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য এক বড় শিক্ষা হয়ে থাকবে।