Report

Licthfield, spinners hand Australia big win over South Africa: অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত জয়

Arthur Sethi · · 1 min read

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার রাজকীয় সূচনা

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে যেকোনো দলের জন্যই অস্ট্রেলিয়া একটি বড় আতঙ্কের নাম। তবে এবারের টুর্নামেন্টে আসার আগে অজি শিবিরের অপরাজেয় তকমা নিয়ে ক্রিকেট মহলে কিছুটা কানাঘুষো চলছিল। ২০১৭ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়া কোনো বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের মুকুট ছাড়া খেলতে নেমেছিল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে নামতেই সব সংশয় কর্পূরের মতো উড়ে গেল। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই ৬৫ রানের এক বিশাল জয় তুলে নিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিল অস্ট্রেলিয়া। এই ম্যাচের মূল নায়ক ছিলেন ফিবি লিচফিল্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার স্পিন ত্রয়ী।

লিচফিল্ডের বিধ্বংসী ফিফটি এবং পাওয়ারপ্লের রোমাঞ্চ

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে শুরুটা তাদের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপজ্জনক নতুন বলের জুটি মারিজান কাপ এবং অবসর ভেঙে দলে ফেরা শবনিম ইসমাইল শুরুতেই চেপে ধরেন অজি ব্যাটারদের। মাত্র ৪ ওভারের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারকে সাজঘরে ফেরত পাঠিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়। কিন্তু চার নম্বরে ব্যাটিং করতে নামা ফিবি লিচফিল্ডের পরিকল্পনা ছিল একদম ভিন্ন। তিনি রক্ষণাত্মক পথ পরিহার করে প্রতিআক্রমণের কৌশল বেছে নেন।

পাওয়ারপ্লের পঞ্চম ওভারে মারিজান কাপের মতো বিশ্বমানের বোলারকে টানা দুটি চার মেরে লিচফিল্ড তার মারমুখী মেজাজের জানান দেন। এর পরের ওভারে শবনিম ইসমাইলের ওপর চড়াও হন তিনি। সেই ওভারে ইসমাইলকে তিনি একে একে একটি চার, আরেকটি চার এবং একটি দর্শনীয় ছক্কা মারেন। লিচফিল্ডের এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের কল্যাণে অস্ট্রেলিয়া পাওয়ারপ্লের ৬ ওভার শেষে ২ উইকেটে ৫২ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। কুঁচকির চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার শেষ প্রস্তুতি ম্যাচটি মিস করেছিলেন এই তরুণ ব্যাটার। তবে মূল আসরের প্রথম ম্যাচেই তিনি মাত্র ২৩ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন, যা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম। শেষ পর্যন্ত আয়াবোঙ্গা খাকার একটি মন্থর গতিসম্পন্ন বলে ক্যাচ দিয়ে তিনি যখন ব্যক্তিগত ৫০ রানে (২৪ বল) বিদায় নেন, তখন দলের বাকি ব্যাটারদের অবদান ছিল মাত্র ১১ রান।

READ:  Ekansh Singh 95 props up Lions after Tiaan van Vuuren five-for - টিয়ান ফন ভুরেনের পাঁচ উইকেট ও একানশ সিংয়ের ৯৫, ইংল্যান্ড লায়ন্স বনাম সাউথ আফ্রিকা এ

এলিস পেরির দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও বড় স্কোর

লিচফিল্ড বিদায় নেওয়ার পর দলের হাল ধরেন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এলিস পেরি। তিনি উইকেটের এক প্রান্ত আগলে রেখে ৩৬ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। পেরির এই ইনিংসটি অস্ট্রেলিয়াকে একটি বড় স্কোরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। শেষ দিকে জর্জিয়া ওয়্যারহ্যাম এবং অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের ছোট কিন্তু কার্যকরী ঝড়ো ইনিংসগুলোর ওপর ভর করে অস্ট্রেলিয়া নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান সংগ্রহ করে। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে বল হাতে ননকুলুলেকো ম্লাবা ২২ রানে ২টি, আয়াবোঙ্গা খাকা ৩৩ রানে ২টি এবং মারিজান ডি ক্লার্ক ৩৫ রানে ২টি উইকেট নেন। তবে অজিদের রান তোলার গতিতে সম্পূর্ণ লাগাম পরাতে ব্যর্থ হন তারা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং বিপর্যয় ও অজি স্পিনারদের ঘূর্ণিজাদু

১৭৩ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল একটি উড়ন্ত সূচনার। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত বোলিং লাইনের সামনে প্রোটিয়া ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেননি। অধিনায়ক লরা উলভার্ট এক প্রান্ত ধরে রেখে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করলেও অন্য কোনো ব্যাটার তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা দ্রুত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়।

অস্ট্রেলিয়ার চার সদস্যের স্পিন আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটারদের উইকেটে থিতু হতেই দেয়নি। বিশেষ করে লেগ স্পিনার জর্জিয়া ওয়্যারহ্যাম তার স্পিনের জাদুতে প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপকে তচনছ করে দেন। ওয়্যারহ্যাম মাত্র ১৩ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। বাঁহাতি স্পিনার সোফি মলিনাক্স ১৭ রান দিয়ে নেন ২টি উইকেট এবং অ্যালানা কিং ২৬ রান দিয়ে সংগ্রহ করেন ২টি উইকেট। স্পিনারদের এই নিয়ন্ত্রিত ও বিধ্বংসী বোলিংয়ের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা মাত্র ১০৭ রানে অলআউট হয়ে যায়। এটি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। ৬৫ রানের এই জয়ে অস্ট্রেলিয়ার নেট রান রেট এক লাফে অনেকখানি বেড়ে গেল, যা গ্রুপ পর্বের সমীকরণে তাদের অনেক এগিয়ে রাখবে।

READ:  বার্স্টো চার্জের নেতৃত্বে, ইয়র্কশায়ারের কাছে রোজস হ্যাভারিং – Bairstow leads charge as Yorkshire hand out Roses hammering

টুর্নামেন্টে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্যের স্পষ্ট বার্তা

এই জয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়া প্রমাণ করল যে, কেন তারা নারী ক্রিকেটের সিংহাসনে অধিপতি। যেকোনো বড় আসরে নিজেদের সেরাটা উজার করে দেওয়ার এক অনন্য মানসিকতা রয়েছে এই দলটির। দলের নতুন ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মেলবন্ধন প্রতিপক্ষের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই ম্যাচটি আরও একবার প্রমাণ করল। অন্যদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট দল হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও প্রথম ম্যাচেই তাদের এই বড় পরাজয় দলের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা চির ধরাবে। তবে তারা খুব দ্রুতই এই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন উন্মুখ হয়ে আছেন অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী ম্যাচগুলোর দিকে, যা সত্যিই রোমাঞ্চকর হতে চলেছে।