Bangladesh Cricket

Mustafiz, Taskin run riot as Bangladesh crush Australia to clinch the ODI series

Arthur Sethi · · 1 min read

ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের সাক্ষী বাংলাদেশ

ক্রিকেটের মাঠে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল টাইগাররা। পুরো সিরিজজুড়ে দাপুটে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় শেষ ম্যাচেও নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে স্বাগতিকরা। মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের বিধ্বংসী বোলিং এবং পরবর্তীতে ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটের বড় ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।

বল হাতে মোস্তাফিজ-তাসকিনের আগুন

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু তাদের সেই পরিকল্পনা শুরুতেই ভেস্তে দেন বাংলাদেশি পেসাররা। তাসকিন আহমেদের বলে ম্যাথিউ শর্ট শূন্য রানে আউট হওয়ার পরপরই শুরু হয় মোস্তাফিজের তোপ। অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার ধসিয়ে দিয়ে স্কোরবোর্ডে ৩ রানে ৩ উইকেট তুলে নিয়ে অজিদের কোণঠাসা করে ফেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। কুপার কনোলি ও ম্যাথিউ রেনশকে ফিরিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন যে এই পিচে টিকে থাকা কতটা কঠিন হবে।

অস্ট্রেলিয়া যখন ৮১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, তখন মারনাস ল্যাবুশেন এবং জেভিয়ার বার্টলেট ১০৩ রানের এক দারুণ জুটি গড়ে দলকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত অজিদের ইনিংস ১৮৭ রানে থামিয়ে দেয় বৃষ্টি। মোস্তাফিজের তিন উইকেটের স্পেল এই ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলেছে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টাইগারদের দৃঢ়তা

১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিমকে হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছিল। তবে সেই চাপ সামলে নেন নাজমুল হোসেন শান্ত এবং সৌম্য সরকার। তাদের ৮৬ রানের পার্টনারশিপ জয়ের ভিত গড়ে দেয়। শান্ত ৫৩ বলে ৪১ রান এবং সৌম্য ৪৭ বলে ৪২ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেন।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাওহীদ হৃদয় এবং অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ হাল ধরেন। শেষ পর্যন্ত তাদের দৃঢ়তায় খুব সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। এই জয় কেবল একটি সিরিজের জয় নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামর্থ্যের এক বড় প্রমাণ।

READ:  Nigar Sultana Joty stars as Bangladesh women defeat Scotland in tri-series

সিরিজ জয়ের নেপথ্যে

  • বোলিং শৃঙ্খলা: তাসকিন ও মোস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত লাইন ও লেংথ অজি ব্যাটারদের কোনো সুযোগ দেয়নি।
  • ব্যাটিং গভীরতা: টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর শান্ত ও সৌম্যর জুটি দলকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনে।
  • অধিনায়কত্ব: মেহেদী হাসান মিরাজের ঠান্ডা মাথার নেতৃত্ব দলকে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে।

এই জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের জন্য এক বিশাল আনন্দের উপলক্ষ। অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তির বিপক্ষে এই সিরিজ জয় টাইগারদের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। আসন্ন টুর্নামেন্টগুলোতে এই ফর্ম বজায় রাখলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে আরও নতুন নতুন সাফল্যের গল্প লেখা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য এটি একটি স্মরণীয় সিরিজ হিসেবে ইতিহাসে গেঁথে থাকবে।