News

Out of the ordinary: Amanda-Jade Wellington adjusts to a new ‘normal’

Arthur Sethi · · 1 min read

একটি নতুন জীবনের শুরু

অস্ট্রেলিয়ান লেগ স্পিনার আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটন যখন তার জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তিনি করে বসলেন এক অসাধারণ কাজ। তার হাসিখুশি ব্যক্তিত্বের আড়ালে যে একটি বড় লড়াই লুকিয়ে ছিল, তা হয়তো কারোরই জানা ছিল না। ওয়েলিংটন সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘সুপরাভেন্ট্রিকুলার ট্যাকিকার্ডিয়া’ (SVT) নামক এক হৃদরোগে ভুগছিলেন। এই অবস্থায় হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেতে ত্রুটির কারণে হঠাতই হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যেত।

অস্ত্রোপচারের চ্যালেঞ্জ

চিকিৎসকরা তাকে ‘অ্যাবলেশন’ নামক একটি প্রক্রিয়ার পরামর্শ দেন। এই প্রক্রিয়ায় কুঁচকির মাধ্যমে হৃদপিণ্ডে ক্যাথেটার প্রবেশ করিয়ে তাপ বা শীতল শক্তির সাহায্যে হৃদপিণ্ডের ত্রুটিপূর্ণ সংকেতগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র তিন মাস পরেই হ্যাম্পশায়ারের হয়ে খেলতে নেমে তিনি জীবনের প্রথম হ্যাটট্রিকসহ পাঁচ উইকেট শিকার করেন, যা ভাইটালিটি ব্লাস্টে এসেক্সের বিপক্ষে তার দলকে একটি বড় জয় এনে দেয়।

স্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের অনুভূতি

অস্ত্রোপচারের পরবর্তী সময়ের কথা স্মরণ করে ওয়েলিংটন বলেন, আমি এখন অসাধারণ অনুভব করছি। এটি সত্যিই অদ্ভুত যে আমি এখন আমার হৃদস্পন্দন স্বাভাবিকভাবে অনুভব করতে পারছি, যা আমার জন্য মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। হাসপাতালের প্রথম কয়েকটা দিন আমার মনে হতো, আমার হৃদপিণ্ড যেভাবে কাজ করছে, তা বোধহয় অস্বাভাবিক, কিন্তু আসলে এটাই স্বাভাবিক।

মানসিক প্রস্তুতি ও সমর্থন

অস্ত্রোপচারের আগে তিনি বেশ ভয়ে ছিলেন। বিশেষ করে অ্যানেস্থেশিয়ার মাধ্যমে অচেতন হওয়ার বিষয়টি তাকে বেশ চিন্তিত করেছিল। তিনি তার সঙ্গী হমরাজের সাথে জীবনের কঠিন কিছু আলাপ সেরে রেখেছিলেন। তবে মাঠে তার সতীর্থ এবং সাউথ অস্ট্রেলিয়ার সাপোর্ট স্টাফরা তাকে মানসিকভাবে দারুণ সমর্থন দিয়েছেন। হ্যাম্পশায়ারে যোগ দেওয়ার পর সেখানকার সতীর্থরাও তাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন, যা তাকে দ্রুত মানিয়ে নিতে সাহায্য করেছে।

READ:  মহিলা বিশ্বকাপ: "'Revenge, spite' driving Schutt in World Cup swansong" - শুটের শেষ মহারণ

ক্রিকেটের প্রতি অবিচল ভালোবাসা

বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে দূরে থাকলেও ওয়েলিংটন ঘরোয়া লিগগুলোতে নিজেকে প্রমাণ করে চলেছেন। তিনি বলেন, আমি যত বেশি সম্ভব ক্রিকেট খেলতে চাই। ৩৮ বা ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত লেগ স্পিন করে যেতে চাই। ক্রিকেট আমার কাছে শুধু একটি খেলা নয়, এটি আমার জীবন। খেলোয়াড়ি জীবনের পরেও আমি ধারাভাষ্য কিংবা স্পিন কোচিংয়ের মাধ্যমে এই খেলার সাথেই যুক্ত থাকতে চাই।

ওয়েলিংটনের এই ফিরে আসা কেবল একটি সফল অস্ত্রোপচারের গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতাকে জয় করে কীভাবে আপন ছন্দে ফিরে আসা যায়, তার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মাঠের প্রতিটি বলের সাথে তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি এখনও ফুরিয়ে যাননি এবং আগামী দিনগুলোতে আরও অনেক সাফল্য নিয়ে আসার অপেক্ষায় আছেন।