Maia Bouchier 87, Amanda-Jade Wellington hat-trick keep Hawks on the rise: হকসের দুর্দান্ত জয়
Contents
ভাইটালিটি ব্লাস্টে হ্যাম্পশায়ার হকসের দাপুটে জয়
ভাইটালিটি ব্লাস্টের বর্তমান আসরে হ্যাম্পশায়ার হকসের দুর্দান্ত ফর্ম অব্যাহত রয়েছে। এসেক্সের বিপক্ষে ৫৫ রানের একটি বড় ব্যবধানের জয় তুলে নিয়ে তারা পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে। এই জয়ের নেপথ্যে প্রধান ভূমিকা পালন করেছেন দলের ইনফর্ম ওপেনার মায়া বুশিয়ার এবং অস্ট্রেলিয়ান লেগ-স্পিন সেনসেশন আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটন। বুশিয়ারের বিধ্বংসী ৮৭ রান এবং ওয়েলিংটনের দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক ও ৫ উইকেটের স্পেল হকসকে এনে দিয়েছে এক স্মরণীয় জয়।
মায়া বুশিয়ারের বিধ্বংসী ব্যাটিং তান্ডব
টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে হ্যাম্পশায়ার হকস শুরুতেই বেশ চাপের মুখে পড়েছিল। মেঘলা আকাশ এবং এসেক্সের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে প্রথম তিন ওভারে হকস মাত্র ১১ রান তুলতে সক্ষম হয়। এই সময়ে তারা ওপেনার এলা ম্যাককাহনকে হারায়, যিনি সোফি মুনরোর বলে পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। তবে উইকেটের অন্য প্রান্তে থাকা মায়া বুশিয়ার দলের ওপর থেকে চাপ সরিয়ে নিতে বেশি সময় নেননি।
ইংল্যান্ডের সাম্প্রতিক নিউজিল্যান্ড সিরিজের অংশ হলেও আসন্ন বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়া বুশিয়ার যেন আজ নির্বাচকদের উপযুক্ত জবাব দিতেই মাঠে নেমেছিলেন। তিনি মাত্র ৫৫ বলে ৮৭ রানের একটি বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন, যা চলতি বছরের ভাইটালিটি ব্লাস্টের এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর। তার এই ইনিংসে ছিল ৮টি চার এবং ২টি চোখ ধাঁধানো ছক্কা। কেট কোপ্যাকের এক ওভারে ১৭ রান নিয়ে তিনি হকসের ইনিংসে গতির সঞ্চার করেন।
অধিনায়ক জর্জিয়া অ্যাডামস ও ফ্রান্সেসকা সুইটের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ
দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক জর্জিয়া অ্যাডামসের সাথে বুশিয়ার ৪২ বলে ৫৮ রানের একটি অত্যন্ত কার্যকর পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন। জর্জিয়া অ্যাডামস ১৮ রান করে এসেক্সের অধিনায়ক গ্রেস স্ক্রাইভেন্সের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেলেও, তিন নম্বরে নামা ফ্রান্সেসকা সুইট রানের চাকা সচল রাখেন। সুইট ৩০ বলে ৩৫ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন ব্যাক-ফুট পাঞ্চ ছিল।
কোপ্যাকের বলে বুশিয়ারের একটি দুর্দান্ত রিভার্স প্যাডেল ছক্কা হ্যাম্পশায়ারের ইনিংসের গতিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। সুইট আউট হওয়ার পরও বুশিয়ার তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান। শেষ ওভারে এসেক্সের উইকেটরক্ষক অমরা কারের অসামান্য গ্লাভসওয়ার্কে গ্রেস স্ক্রাইভেন্সের বলে স্টাম্পড হয়ে যখন বুশিয়ার মাঠ ছাড়েন, ততক্ষণে হ্যাম্পশায়ারের স্কোরবোর্ডে ১৫০ রান পার হয়ে গেছে। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে হকস ৪ উইকেটে ১৫৫ রানের লড়াকু স্কোর দাঁড় করায়।
স্পিন আক্রমণে এসেক্সের ব্যাটিং বিপর্যয়
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এসেক্সের শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি। হ্যাম্পশায়ারের স্পিনাররা শুরু থেকেই তাদের চেপে ধরেন। বিশেষ করে হকসের অধিনায়ক জর্জিয়া অ্যাডামস তার অফ-ব্রেকে এসেক্সের টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন। অ্যাডামস তার ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩টি উইকেট শিকার করেন। এসেক্সের অধিনায়ক গ্রেস স্ক্রাইভেন্সকে স্টাম্পড করার মাধ্যমে তার উইকেটের খাতা খোলে। এরপর লিবার্টি হিপ এবং লিসি ম্যাকলিওডও অ্যাডামসের স্পিন ফাঁদে পা দিয়ে দ্রুত সাজঘরে ফেরত যান। পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভার শেষে এসেক্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে মাত্র ২৭ রান।
আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটনের জাদুকরী হ্যাটট্রিক এবং ৫ উইকেট
জোডি গ্রিউকক এবং জো গার্ডনার এসেক্সের ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করলেও হ্যাম্পশায়ারের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে প্রয়োজনীয় রান রেট ক্রমাগত বাড়তেই থাকে। শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ১৪তম ওভারে এসেক্সের সব আশার গুড়ে বালি ঢেলে দেন অস্ট্রেলিয়ান লেগ-স্পিনার আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটন। তার এই ওভারটি ছিল ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট:
- প্রথম উইকেট: ওভারের প্রথম বলেই তিনি থিতু হওয়া ব্যাটার জোডি গ্রিউকককে (৩০) অমরা কারের সহায়তায় স্টাম্পড করেন।
- দ্বিতীয় উইকেট: ঠিক পরের বলে ফ্লো মিলারকে পরাস্ত করে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন।
- তৃতীয় উইকেট (হ্যাটট্রিক): হ্যাটট্রিক বলটিতে উইকেটে আসা সোফিয়া স্মেলকে আউট করতে ওয়েলিংটন একটি নিখুঁত লেগ-স্পিন ডেলিভারি করেন। বলটি পিচ করে চমৎকারভাবে টার্ন নিয়ে সোজা এসেক্স ব্যাটারের মিডল স্টাম্প উড়িয়ে দেয়।
এই অসাধারণ হ্যাটট্রিকের পর এসেক্সের ম্যাচ জয়ের কোনো সম্ভাবনাই আর অবশিষ্ট ছিল না। আমান্ডা-জেড ওয়েলিংটন পরবর্তীতে জো গার্ডনার এবং ইভা গ্রেকে আউট করে নিজের ৫ উইকেটের কোটা পূর্ণ করেন। ৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করে তিনি চলতি টুর্নামেন্টে নিজের সেরা বোলিং পারফরম্যান্স প্রদর্শন করলেন। এছাড়া বাঁহাতি স্পিনার বেক্স টাইসনও অত্যন্ত কৃপণ বোলিং করে ৩ ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ১টি উইকেট নেন। এসেক্সের ইনিংস শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১০০ রানে থমকে যায়, যার ফলে হ্যাম্পশায়ার হকস ৫৫ রানের এক দাপুটে জয় নিশ্চিত করে।