News

Women’s Champions Trophy 2027 moved from June to February

Arthur Sethi · · 1 min read

নারীদের ক্রিকেট ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সম্প্রতি আহমেদাবাদে তাদের ত্রৈমাসিক সভায় একটি বড় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। Women’s Champions Trophy 2027 moved from June to February—এই ঘোষণাটি ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য উদ্বোধনী এই টুর্নামেন্টটি আগে জুন-জুলাই মাসে হওয়ার কথা থাকলেও, এখন তা ফেব্রুয়ারিতে নিয়ে আসা হয়েছে। ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টটি টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আয়োজিত হবে। আইসিসির পক্ষ থেকে এই পরিবর্তনের কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা না হলেও, এটি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

টুর্নামেন্টের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

এই পরিবর্তনটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচিতে কিছুটা জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিউ জিল্যান্ডের অস্ট্রেলিয়া সফর, যা ২৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা, তার সাথে টুর্নামেন্টের শেষভাগের কিছুটা মিল পাওয়া যাচ্ছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে ইতিমধ্যে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা তাদের বিকল্প ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। আট দলের এই টুর্নামেন্টটি নারী ক্রিকেটের বিকাশে একটি মাইলফলক হতে যাচ্ছে।

উদ্যমী নারী দলের জন্য নতুন পথ

আইসিসি শুধুমাত্র প্রধান টুর্নামেন্টেই নয়, বরং উদীয়মান প্রতিভাদের দিকেও নজর দিচ্ছে। এ বছর তারা ‘আইসিসি উইমেনস ইমার্জিং নেশনস ট্রফি’-এর একটি নতুন সংস্করণ পরীক্ষা করতে যাচ্ছে। এটি ১০ দলের একটি ইভেন্ট হবে, যেখানে পাঁচটি পূর্ণ সদস্য দেশ এবং পাঁচটি সহযোগী সদস্য দেশ অংশ নেবে। গত বছর থাইল্যান্ডের জয়ের মাধ্যমে শেষ হওয়া এই টুর্নামেন্টটি এবার আরও বড় পরিসরে আয়োজিত হতে যাচ্ছে, যা নারী ক্রিকেটের ভিত্তি আরও মজবুত করবে।

READ:  রাজস্থান রয়্যালস বিক্রয় বিতর্ক: সোমানি গ্রুপের অভিযোগ 'লেভেল-প্লেয়িং ফিল্ড' ছিল না

২০২৮ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন

পাকিস্তানের আয়োজনে ২০২৮ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতামান নির্ধারণী প্রক্রিয়াও চূড়ান্ত হয়েছে। ১২ দলের এই টুর্নামেন্টে ১০টি দল সরাসরি যোগ্যতা অর্জন করবে। এর মধ্যে রয়েছে চলতি মাসে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়া টুর্নামেন্টের সেরা আটটি দল, আয়োজক দেশ এবং ২০২৬ সালের ৬ জুলাই পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা সর্বোচ্চ দলগুলো। বাকি দুটি দলের জন্য আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক কোয়ালিফায়ার আয়োজন করা হবে।

কানাডা ক্রিকেটের সংকট ও আইসিসির পদক্ষেপ

আইসিসি তাদের সদস্য দেশগুলোর প্রশাসনিক স্বচ্ছতার ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর। সম্প্রতি আইসিসি ক্রিকেট কানাডাকে তাদের সদস্যপদ থেকে স্থগিত করেছে। আইসিসির মতে, কানাডা ক্রিকেট তাদের সদস্যপদের বাধ্যবাধকতায় ‘গুরুতর লঙ্ঘন’ করেছে। গত ১৮ মাস ধরে কানাডা ক্রিকেটে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা এবং দুর্নীতির তদন্ত চলছে। তবে আইসিসি এই নিশ্চয়তা দিয়েছে যে, কানাডার খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ার বা তাদের কার্যক্রম কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। একটি নিয়ন্ত্রিত অর্থায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কানাডার খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ইভেন্টে অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখতে পারবেন।

সদস্য দেশগুলোর স্বচ্ছতা ও আইসিসির পর্যবেক্ষণ

কানাডার পাশাপাশি আইসিসি আরও দুটি পূর্ণ সদস্য দেশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে, যেখানে সম্প্রতি নেতৃত্বের পরিবর্তন হয়েছে এবং সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার মোহাম্মদ মুসায়েজি এবং জিম্বাবুয়ের তাভেংওয়া মুকuhlani-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়নের জন্য আইসিসির ডেপুটি চেয়ার ইমরান খাজা এবং বিসিসিআই-এর দেবজিৎ সাইকিয়া সেখানে সফর করেছেন। ক্রিকেট বিশ্বে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখা আইসিসির জন্য বর্তমান সময়ের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। সব মিলিয়ে, নারী ক্রিকেটের এই নতুন সময়সূচী এবং আইসিসির কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো ভবিষ্যতে খেলার মানোন্নয়নে কী ভূমিকা রাখে, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।