News

Patidar on RCB’s encore: ‘We didn’t just play but we dominated’ – আরসিবির জয়জয়কার

Theo Nair · · 1 min read

টানা দ্বিতীয় ট্রফি জয়ের নেপথ্যে রাজত পাটিদারের আরসিবি

সোমবার রাত একটা পার হওয়ার পর আহমেদাবাদের প্রেস কনফারেন্স রুমে যখন রাজত পাটিদার আইপিএল ট্রফি নিয়ে প্রবেশ করেন, তার মুখে ছিল এক অমলিন হাসি। সাধারণত শান্ত স্বভাবের পাটিদারের এই হাসিটি ছিল অনেক কথার চেয়েও বেশি অর্থবহ। ট্রফিটি স্পর্শ করার সময় তার চোখমুখে ফুটে উঠছিল টানা দ্বিতীয়বার আরসিবিকে শিরোপা জেতানোর আত্মতৃপ্তি। এই বিশেষ মুহূর্তটি তার জন্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে কারণ এটি ছিল তার ৩৩তম জন্মদিন।

অধিনায়কের উপলব্ধি: আমরা শুধু খেলিনি, আধিপত্য দেখিয়েছি

নিজের জন্মদিনের সেরা উপহার হিসেবে ট্রফিটিকে বর্ণনা করে রাজত পাটিদার বলেন, ‘আমার কাছে এর চেয়ে বড় কোনো উপহার হতে পারে না। আমি বর্তমান নিয়ে বাঁচতে পছন্দ করি। আমরা টানা দুবার জিতেছি, এখন লক্ষ্য হবে কীভাবে হ্যাটট্রিক করা যায়। ট্রফি জয়ের আনন্দ ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে অনেক বড়।’

গত বছরের তুলনায় এবারের জয়ের যাত্রাকে তিনি ভিন্নভাবে দেখছেন। পাটিদারের মতে, এবারের টুর্নামেন্টে তাদের দলের আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, ‘গত বছর অনেক চাপ ছিল। কিন্তু এবছর আমি অনেক বেশি শান্ত ছিলাম। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আমরা যেভাবে খেলেছি, তাতে এটি স্পষ্ট যে Patidar on RCB’s encore: ‘We didn’t just play but we dominated’। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে যদি আমরা এভাবে খেলি, তবে দ্বিতীয় শিরোপা জয় সম্ভব।’

প্রস্তুতি ও কোচিং স্টাফের ভূমিকা

ব্যক্তিগত ব্যাটিং এবং অধিনায়কত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে পাটিদার কঠোর পরিশ্রম করেছেন। অফ-সিজনে দীনেশ কার্তিকের সাথে কাজ করার সুফল তিনি পেয়েছেন এবারের আসরে। ৫০১ রান এবং ১৯২.৬৯ স্ট্রাইক রেট তার ব্যাটিং দক্ষতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে ট্রিগার মুভমেন্ট এবং টেকনিক্যাল সমন্বয়ে কার্তিকের অবদান তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন।

READ:  অস্ট্রেলিয়া নারী ক্রিকেট দলের ২০২৬-২৭ মৌসুমের কেন্দ্রীয় চুক্তি ঘোষণা: নতুন প্রতিভার উত্থান

দলীয় পারফরম্যান্সে বোলিং কোচ ওঙ্কার সালভির অবদানও অনস্বীকার্য। তরুণ বোলার রাসিখ সালামের ১৯ উইকেট শিকারের পেছনে সালভির ব্যক্তিগত প্রচেষ্টাকে পাটিদার বড় করে দেখছেন। পাশাপাশি প্রধান কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারের প্রশংসায় পাটিদার বলেন, ‘আমি পাঁচ বছর আইপিএল খেলছি, ফ্লাওয়ারের মতো কোচ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। তিনি প্রতিটি খেলোয়াড়কে সমান গুরুত্ব দেন, এমনকি যারা মূল একাদশে নেই তাদেরও।’

দলের সংস্কৃতিতে পরিবর্তন

আরসিবির সাফল্যের পেছনে দলের ভেতরে যে ইতিবাচক মানসিকতার পরিবর্তন এসেছে, তা বড় ভূমিকা রেখেছে। কোচিং স্টাফের প্রতিটি খেলোয়াড়কে সমান চোখে দেখার অভ্যাসটি দলের সামগ্রিক সংস্কৃতি বদলে দিয়েছে। মাঠের লড়াইয়ের চেয়েও দলের এই ঐক্যই তাদের বারবার সাফল্যের শিখরে নিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অধিনায়ক।

স্মরণীয় উৎসর্গ

সারা রাতের আনন্দের মাঝেও একটি সময় আসে যখন রাজত পাটিদার কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। গত বছর প্রথম শিরোপা জয়ের পর যে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে ১১ জন ভক্ত প্রাণ হারিয়েছিলেন, তা আজও তাকে কষ্ট দেয়। এই ট্রফিটি তিনি সেই সব হারানো ভক্তদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করেন। এই অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু ভক্ত হারাইনি, আমরা পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছি। এই ট্রফি তাদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করলাম।’

পরিশেষে, রাজত পাটিদারের নেতৃত্ব এবং আরসিবির এই জয় ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের পাতায় এক স্বর্ণালী অধ্যায় হয়ে থাকবে। দলের প্রতি আনুগত্য এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে বড় লক্ষ্য অর্জন করা অসম্ভব নয়। ভক্তদের এখন একটাই চাওয়া, আগামী মৌসুমে আরসিবি কি পারবে হ্যাটট্রিক করতে? সময় উত্তর দেবে, তবে এখন সময় উৎসবের।