Cricket News

Sangakkara calls out Sam Curran for skipping IPL 2026; backs BCCI’s strong measures

Arthur Sethi · · 1 min read

আইপিএল ২০২৬: স্যাম কারানের অনুপস্থিতি ও সাঙ্গাকারার কড়া বার্তা

আইপিএল ২০২৬ মৌসুমের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার শেষে রাজস্থান রয়্যালসের হেড কোচ কুমার সাঙ্গাকারা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। গুজরাট টাইটানসের কাছে রাজস্থানের সাত উইকেটে পরাজয়ের পর দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ইংলিশ অলরাউন্ডার স্যাম কারানের আইপিএল থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে বেশ বিরক্ত দেখিয়েছে লঙ্কান এই কিংবদন্তিকে।

তত্ত্বাবধানকারী হিসেবে সাঙ্গাকারা জানান যে, কারানের কাছ থেকে রাজস্থান রয়্যালস ফ্র্যাঞ্চাইজিকে জানানো হয়েছিল যে তিনি ‘মৌসুম শেষ হওয়ার মতো’ ইনজুরিতে ভুগছেন। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে ইংল্যান্ডে সারের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট টুর্নামেন্টে খেলতে দেখা গেছে। সেখানে তিনি একজন বিশুদ্ধ ব্যাটার হিসেবে তিনটি ম্যাচ খেলে ৭০.৫ গড়ে ১৪১ রান করেছেন, যার মধ্যে সর্বোচ্চ রান ৭১ অপরাজিত।

চুক্তি ও দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন

সাঙ্গাকারা বলেন, ‘এটা সত্যিই হতাশাজনক যে আমাদের দলের এমন একজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় মৌসুমের শুরুতে ইনজুরির দোহাই দিয়ে সরে দাঁড়ালেন, অথচ পরবর্তীতে তিনি অন্য টুর্নামেন্টে খেলছেন। কারান থাকলে আমাদের দলের ভারসাম্য অবশ্যই ভিন্ন হতো।’ তিনি আরও যোগ করেন, ম্যানেজমেন্টের কাছে আগে তথ্য থাকার কারণে দাসুন শানাকাকে বিকল্প হিসেবে নেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল, তবে একজন খেলোয়াড়ের এমন আচরণ পেশাদারিত্বের অভাবকে নির্দেশ করে।

বিসিসিআই-এর কঠোর অবস্থানের পক্ষে সাঙ্গাকারা

খেলোয়াড়দের এমন স্বেচ্ছাচারী আচরণ রুখতে বিসিসিআই যে কড়া পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, তার পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন সাঙ্গাকারা। বিসিসিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, নিলামে দল পাওয়ার পর কোনো খেলোয়াড় যথাযথ কারণ ছাড়া টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে তাকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হতে পারে। অতীতে হ্যারি ব্রুক এবং বেন ডাকেটের মতো খেলোয়াড়দের চুক্তির শর্ত না মানার কারণে বিসিসিআই এমন কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছিল।

READ:  ইউরোপীয় টি২০ লিগে ক্রিস গেইলের গ্লাসগো কসমিক দলে যোগ দিলেন ফিন অ্যালেন

কেন এই নিয়ম জরুরি?

  • চুক্তির মর্যাদা: আইপিএলের মতো একটি বড় মঞ্চে খেলোয়াড়দের চুক্তিবদ্ধ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল ফ্র্যাঞ্চাইজির ব্যবসা নয়, বরং টুর্নামেন্টের মানের সাথেও জড়িত।
  • শৃঙ্খলা বজায় রাখা: ইনজুরির অজুহাত দিয়ে অন্য লিগে খেলা খেলোয়াড়দের জন্য একটি কড়া বার্তা প্রয়োজন।
  • সুষ্ঠু পরিচালনা: বিসিসিআই-এর এই নীতি লিগের প্রতিটি দলের জন্যই সমানভাবে কার্যকর এবং এটি খেলোয়াড়দের পেশাদারিত্ব বাড়াতে সাহায্য করবে।

সাঙ্গাকারার মতে, ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে বিসিসিআই-এর এই কঠোর নীতি বজায় রাখা উচিত। কারণ, যখন একজন খেলোয়াড় নিলামের মাধ্যমে একটি দলের অংশ হন, তখন তিনি সেই দলের পরিকল্পনার প্রধান কেন্দ্রে থাকেন। মাঝপথে সরে দাঁড়ানো দলের পুরো সমীকরণ বদলে দেয়, যা একজন কোচের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

উপসংহার

স্যাম কারানের সাম্প্রতিক এই ঘটনা আইপিএলে খেলোয়াড়দের চুক্তিবদ্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কুমার সাঙ্গাকারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আইপিএল বিশ্বের সবচেয়ে বড় টি-টোয়েন্টি লিগ এবং এখানে খেলার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়বদ্ধতা প্রত্যাশিত। বিসিসিআই-এর এই শক্তিশালী অবস্থান ক্রিকেট বিশ্বে একটি নজির হয়ে থাকবে, যা ভবিষ্যতে খেলোয়াড়দের তাদের চুক্তির প্রতি আরও যত্নশীল হতে বাধ্য করবে।

রাজস্থান রয়্যালস এবার শিরোপা জিততে না পারলেও, দলের নীতিনির্ধারকদের এমন স্পষ্ট অবস্থান ভবিষ্যতে দল গঠনে ও খেলোয়াড়দের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনে সহায়ক হবে বলেই মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।