News

Solanki banks on Gill-Sai Sudharsan’s ‘immense appetite for run-scoring’ – শুভমন গিল ও সাই সুদর্শনের রান করার অদম্য ক্ষুধা নিয়ে আশাবাদী বিক্রম সোলাঙ্কি

Theo Nair · · 1 min read

গিল-সাই জুটির অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স

আইপিএল ২০২৬-এ গুজরাট টাইটান্সের (জিটি) পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করতে গেলে যে দুটি নাম বারবার সামনে আসে, তা হলো শুভমন গিল এবং বি সাই সুদর্শন। যদিও অতীতে তাদের ব্যাটিংয়ের স্ট্রাইক রেট নিয়ে কিছুটা সংশয় ছিল, কিন্তু শুক্রবার রাজস্থান রয়্যালসের (আরআর) বিপক্ষে ২১৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে তারা আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাদের নিয়ে এত প্রত্যাশা। মাত্র ৭৭ বলে ১৬৭ রানের বিশাল জুটি গড়ে তারা দলকে পৌঁছে দিয়েছেন আইপিএল ফাইনালে।

বিক্রম সোলাঙ্কির বিশ্লেষণ

গুজরাট টাইটান্সের ডিরেক্টর অফ ক্রিকেট বিক্রম সোলাঙ্কি এই জুটির সাফল্য নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘তাদের সমস্ত গুণাবলী আজ মাঠে দেখা গেছে। এই পার্টনারশিপটি অনেক বছর ধরে গড়ে উঠেছে এবং এর পেছনে রয়েছে প্রচুর কঠোর পরিশ্রম। শুভমন আজ যেখানে পৌঁছেছে, তার জন্য সে ক্যারিয়ার জুড়ে যে পরিশ্রম করেছে তা অবিশ্বাস্য। সে একজন অসাধারণ তরুণ।’

সোলাঙ্কি আরও যোগ করেন, ‘সাই সুদর্শনও কোনো অংশে কম নয়। সে শুভমনকে দেখে শিখছে এবং প্রথাগত ব্যাটার হিসেবে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করছে। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী রান রেট বাড়ানোর প্রয়োজনে তারা যেভাবে মানিয়ে নেয়, সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় গুণ। তাদের এই মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং রান করার অদম্য ক্ষুধাই তাদের আলাদা করে তোলে।’

পরিসংখ্যানের আয়নায় গিল ও সুদর্শন

আইপিএলের ইতিহাসে গিল এবং সুদর্শন জুটি এ পর্যন্ত মোট ২৯৪৪ রান সংগ্রহ করেছে। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং বিরাট কোহলির ৩১২৩ রানের জুটি। ২০২২ সাল থেকে একসাথে খেলছেন গিল ও সুদর্শন। গত মৌসুমে সুদর্শন ৭৫৯ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ জিতেছিলেন, যেখানে গিল করেছিলেন ৬৫০ রান। বর্তমান মৌসুমে গিল ৭২২ রান এবং সুদর্শন ৭১০ রান সংগ্রহ করে নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

READ:  পন্টিং: 'আমাদের অবস্থানের জন্য কেবল আমরাই দায়ী' – আইপিএল 2026-এ পাঞ্জাব কিংসের সংকট

পরিশ্রমী ছাত্র সাই সুদর্শন

সোলাঙ্কি সাই সুদর্শনের কাজের নৈতিকতা নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, ‘সাইকে আমরা মাঝে মাঝে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করি, কারণ সে সবসময় অনুশীলনের মধ্যেই ডুবে থাকতে চায়। সে খেলার একজন নিবেদিতপ্রাণ ছাত্র। প্রতিটি ম্যাচের আগে সে প্রতিপক্ষ ও পিচ নিয়ে প্রচুর পড়াশোনা করে। তার এই প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।’

গিলের মানসিক দৃঢ়তা

ভারতীয় টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়ার পর গিলের মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও সোলাঙ্কি মনে করেন গিলের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না। ‘সে গত পাঁচ বছর ধরে এই দলের অংশ। সাফল্য বা ব্যর্থতা—পেশাদার ক্রিকেটে এগুলো সামলানোই আসল। সে যেকোনো পরিস্থিতির জন্যই নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখে,’ সোলাঙ্কি মন্তব্য করেন।

ফাইনালে বড় লড়াইয়ের অপেক্ষায়

রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ১০৪ রানের ইনিংস খেলে গিল আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন। ৫৩ বলে ১৫টি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ম্যাচটি গুজরাটের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। এখন লক্ষ্য ফাইনাল। আহমেদাবাদের নিজস্ব মাঠে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে গিল ও সুদর্শন যে নতুন কোনো ইতিহাস গড়তে চাইবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই দুই ব্যাটার যদি ফর্মে থাকেন, তবে গুজরাট টাইটান্সের জন্য দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তোলা অসম্ভব কিছু নয়।