Latest Cricket News

Krunal Pandya playfully taunts Dinesh Karthik after RCB coach forgets his role i – IPL 2026: ক্রুনাল পান্ডিয়ার নাম ভুলে গেলেন দীনেশ কার্তিক, ড্রেসিং রুমে মজার মুহূর্ত

Karan Malhotra · · 1 min read

আইপিএল ২০২৬: দাপুটে জয় ও ড্রেসিং রুমের মজার নাটক

আইপিএল ২০২৬-এর প্রথম কোয়ালিফায়ারে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) জয়টি ছিল ঐতিহাসিক। ২৫৪/৫ রানের পাহাড়সম সংগ্রহ গড়ে প্রতিপক্ষকে মাত্র ১৬২ রানে অলআউট করে দিয়ে তারা প্রমাণ করে দিয়েছে কেন তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। এই জয়ের ফলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে দলটি। তবে ম্যাচ পরবর্তী ড্রেসিং রুমে ঘটে যাওয়া এক মজার ঘটনা এখন ক্রিকেট ভক্তদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

কার্তিকের ভুল ও ক্রুনালের রসিকতা

ম্যাচ শেষে আরসিবির ড্রেসিং রুমে যখন কোচ দীনেশ কার্তিক এবং তারকা ব্যাটার দেবদূত পাডিক্কাল দলের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করছিলেন, তখন তারা দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ক্রুনাল পান্ডিয়ার নাম নিতে ভুলে যান। কার্তিক ও পাডিক্কাল যখন দলের অন্যদের প্রশংসা করছিলেন, তখন ক্রুনাল পান্ডিয়া নিজে থেকেই মজা করে বলে ওঠেন, ‘মেরা নাম ভুল গয়া ভাই’ (ভাই, আমার নাম ভুলে গেছো)। এই মন্তব্যে ড্রেসিং রুমে হাসির রোল পড়ে যায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্তিক তৎক্ষণাৎ বলেন, ‘ক্রুনাল, ওয়েল ডান, দারুণ কাজ করেছ।’ তার এই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিরাট কোহলিকেও বেশ হাসিখুশি দেখা যায়।

দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কোচের মূল্যায়ন

গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে এই জয়কে দীনেশ কার্তিক একটি ‘ক্লিনিক্যাল’ ও ‘পেশাদার’ পারফরম্যান্স হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘ছেলেরা শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছিল। ভেঙ্কি, বিরাট এবং দেব সবাই মিলে অসাধারণ টেম্পো বজায় রেখেছে। বড় ম্যাচে অনেক সময় দল চাপে পড়ে পিছু হটে, কিন্তু আমরা ক্রমাগত আক্রমণাত্মক খেলেছি।’ রজত পতিদারের ৩৩ বলে ৯৩ রানের ইনিংসকেও তিনি ‘অধিনায়কোচিত’ বলে প্রশংসা করেছেন। পতিদারের এই ইনিংসই মূলত আরসিবিকে বড় স্কোরের পথ দেখিয়েছিল।

READ:  শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে বড় সংকট: সভাপতিসহ পদত্যাগ করলেন এসএলসি’র পুরো কমিটি

বিরাট কোহলির নেতৃত্ব ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ

কার্তিক দলের সাফল্যের পেছনে বিরাট কোহলির ভূমিকাও স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, ম্যাচের আগে কোহলি দলের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ শক্তিশালী রাখার বার্তা দিয়েছিলেন। কার্তিকের ভাষায়, ‘বিরাট ম্যাচের আগে কথা বলেছিল যে আমাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ যেন শক্তিশালী থাকে। আমার মনে হয় গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটিই সেরা ছিল। আমাদের জেতার মানসিকতা ছিল এবং আমরা পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচ প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছিলাম।’

ফাইনালের লক্ষ্য ও ভবিষ্যতের প্রস্তুতি

আগামী ৩১ মে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে আরসিবি। কার্তিক দলের সবার ওপর আস্থা রেখে বলেন, ‘আমাদের হাতে চার দিন সময় আছে। আমরা জানি এটি একটি বড় ম্যাচ। তবে আগামী কয়েকদিন আমাদের আনন্দ করারও প্রয়োজন আছে। আহমেদাবাদে পৌঁছানোর পর আমরা আবার পুরোপুরি ফোকাস করব।’

তালিকায় থাকা গুজরাট টাইটান্সকে এখন কোয়ালিফায়ার ২ খেলতে হবে এলিমিনেটরের বিজয়ী দলের সাথে। সেই ম্যাচের বিজয়ী দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। আরসিবি এখন তাদের দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে অবিচল। ড্রেসিং রুমের এই বন্ধুত্বপূর্ণ ও হালকা মেজাজ প্রমাণ করে যে মাঠের বাইরেও দল হিসেবে আরসিবি কতটা সংঘবদ্ধ। ক্রুনাল পান্ডিয়ার সেই ছোট্ট রসিকতা শুধু ড্রেসিং রুমেই আনন্দ আনেনি, বরং দলের মধ্যে থাকা পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের এক দারুণ উদাহরণ হয়ে রইল।

উল্লেখ্য, আরসিবি যেভাবে খেলছে, তাতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন যে তারা টানা দ্বিতীয়বার ট্রফি জয়ের অন্যতম প্রধান দাবিদার। যদিও আহমেদাবাদের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা দেখার জন্য এখন অপেক্ষার পালা। ভক্তরা আশাবাদী, ৩১ মে আরও একটি স্মরণীয় ম্যাচ উপহার দিতে প্রস্তুত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।