News

‘Predictable’ – GT’s bowling is ‘a bit like SRH’s batting,’ says Tom Moody – ‘ভীষণ অনুমেয়’— গুজরাটের বোলিংকে সানরাইজার্সের ব্যাটিংয়ের সাথে তুলনা করলেন টম মুডি

Arthur Sethi · · 1 min read

আরসিবির ব্যাটিং ঝড়ে বিধ্বস্ত গুজরাট টাইটান্সের বোলিং লাইনআপ

আইপিএল ২০২৬-এর কোয়ালিফায়ার ১ ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে গুজরাট টাইটান্সের (জিটি) বোলিং আক্রমণ। বিশেষ করে দলের দুই প্রধান পেসার কাগিসো রাবাদা এবং মোহাম্মদ সিরাজের ওপর প্রথম ওভার থেকেই চড়াও হয়ে খেলেন আরসিবির টপ-অর্ডার ব্যাটাররা। হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে (ধর্মশালা) এই দুই পেসার মিলে ৭ ওভারে দিয়েছেন ১০০ রান, যার বিপরীতে উইকেট এসেছে মাত্র দুটি (দুটিই নিয়েছেন রাবাদা)। টেস্ট ম্যাচ লেন্থে বল করে অভ্যস্ত এই দুই বোলার যখনই প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, তখনই তাদের বোলিংয়ের বড় ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। আর এই নিয়ে ক্রিকেট মহলে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা, যেখানে সাবেক ক্রিকেটার ও বিশ্লেষক অম্বাতি রায়ডু এবং টম মুডি গুজরাটের বোলিংয়ের এই ব্যর্থতার ময়নাতদন্ত করেছেন।

“জিটি-র বোলিং যেন সানরাইজার্সের ব্যাটিংয়ের প্রতিচ্ছবি” – টম মুডি

লখনউ সুপার জায়ান্টসের (এলএসজি) গ্লোবাল ডিরেক্টর অব ক্রিকেট টম মুডি ইএসপিএনক্রিকইনফোর ‘টাইমআউট’ অনুষ্ঠানে গুজরাটের বোলিংয়ের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, উইকেট থেকে সাহায্য না পেলে গুজরাটের বোলিং আক্রমণ একেবারেই অকার্যকর হয়ে পড়ে। মুডি বলেন, “যখন উইকেটে কোনো মুভমেন্ট থাকে না, তখনই তারা সবচেয়ে বেশি অরক্ষিত হয়ে পড়ে। কারণ তাদের বোলিংয়ে গতির বৈচিত্র্য বা বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনার ক্ষমতা নেই।”

তিনি গুজরাটের বোলিংকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (এসআরএইচ) ব্যাটিংয়ের সাথে তুলনা করে এক অভিনব বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছেন। মুডি যোগ করেন, “তারা ভীষণভাবে অনুমেয় হয়ে উঠছে। এটি অনেকটা সানরাইজার্সের মতো। সানরাইজার্সের ব্যাটিং লাইনআপ যেমন একটু কঠিন পিচ বা মুভমেন্ট থাকা উইকেটে সংগ্রাম করে, গুজরাটের বোলিংয়ের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। পিচে সামান্য সুইং বা সিম থাকলে সিরাজ ও রাবাদা দুর্দান্ত। কিন্তু ধর্মশালার মতো ফ্ল্যাট বা ব্যাটিং-বান্ধব উইকেটে তাদের কোনো উত্তর থাকে না। তাদের কাছে কোনো ধোঁকা দেওয়ার মতো স্লোয়ার বল বা লুঙ্গি এনগিডির মতো ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করার মতো ডেলিভারি নেই। তাদের ট্রাম্প কার্ড তখনই কাজ করে যখন পিচে আর্দ্রতা বা সাহায্য থাকে এবং তারা হার্ড লেন্থে বল করে ব্যাটারদের সমস্যায় ফেলতে পারে।”

READ:  সিডনিতে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দায়ে অভিযুক্ত ডেভিড ওয়ার্নার

ধর্মশালার ফ্ল্যাট ট্র্যাকে পরিকল্পনাহীন বোলিং এবং আরসিবির তাণ্ডব

আহমেদাবাদের চেনা উইকেটে গুজরাট বরাবরই শক্তিশালী এক দুর্গ গড়ে তুলেছে, যেখানে পিচ তাদের বোলিং সহায়ক হয়। কিন্তু ধর্মশালার মতো ফ্ল্যাট উইকেটে তাদের বোলিংয়ের আসল রূপ বেরিয়ে পড়েছে। অম্বাতি রায়ডুও মুডির সুরেই কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, গুজরাটের বোলিংয়ের কোনো ‘প্ল্যান বি’ বা বিকল্প পরিকল্পনা ছিল না। রায়ডু বলেন, “আরসিবির মতো বিশ্বমানের ব্যাটাররা যখন জানে যে ঠিক কী ধরনের বোলিং তাদের দিকে ধেয়ে আসতে চলেছে, তখন তারা আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে। আপনার ভালো করার একটা সীমা আছে, কিন্তু যেদিন কোনো ব্যাটার আপনার ওপর চড়াও হবে, সেদিন আপনার বিকল্প পরিকল্পনা কী? তাদের কোনো ভালো স্লোয়ার ডেলিভারি নেই। তারা শুরুতে রক্ষণাত্মক বোলিং করতে পারে না। মাঝে মাঝে ভালো উইকেটে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য রক্ষণাত্মক হতে হয়, যাতে উইকেট পাওয়ার পর আবার আক্রমণাত্মক হওয়া যায়।”

ম্যাচের দিন পাওয়ারপ্লে-তেই আরসিবি ৭৬ রান তুলে ফেলে। পাওয়ারপ্লে খেলাকালীন ভেঙ্কটেশ আইয়ার ২৭১.৪২ স্ট্রাইক রেটে, দেবদত্ত পাডিক্কাল ২০৯.০৯ স্ট্রাইক রেটে এবং বিরাট কোহলি ১৮৮.৮৮ স্ট্রাইক রেটে রান তোলেন। এরপর রজত পাতিদারের বিধ্বংসী ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের ইনিংস গুজরাটের বোলারদের পুরোপুরি ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। এই রান তাড়ায় বা প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ের সময় গুজরাটের বোলারদের অসহায়ত্ব স্পষ্ট ফুটে উঠেছিল।

টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত কি ভুল ছিল?

ধর্মশালায় চলতি মৌসুমে আগের দুটি ম্যাচেই রান তাড়া করা দল জয় পেয়েছিল। সেই হিসেবে হয়তো টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল গুজরাট। কিন্তু প্লে-অফের মতো বড় ম্যাচে এটি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতেই, প্লে-অফের চাপের ম্যাচে রান তাড়া করার চেয়ে বোর্ডে রান তুলে চাপ সৃষ্টি করা অনেক বেশি ফলদায়ক।

READ:  আইপিএল ২০২৬: কেকেআরের সাফল্যের নেপথ্যে অনুকূল রায়ের উত্থান

অম্বাতি রায়ডু মনে করেন, টস জিতে গুজরাটের আগে ব্যাটিং নেওয়া উচিত ছিল। তিনি বলেন, “আমি গতকালও এক বন্ধুকে বলেছিলাম, গুজরাটের জেতার সবচেয়ে বড় সুযোগ হবে যদি তারা টসে হারে। কারণ একটি দলের যখন সীমাবদ্ধতা থাকে, তখন তাদের সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই খেলতে হবে। প্লে-অফ বলেই বাড়তি কিছু করার চেষ্টা করা উচিত নয়। নিজেদের সেরা শক্তিকে কাজে লাগানো উচিত ছিল। তাদের উচিত ছিল বোর্ডে ১৮০, ১৯০ বা ২০০ রান তোলা এবং তারপর তাদের শক্তিশালী ও ছন্দে থাকা বোলারদের দিয়ে তা ডিফেন্ড করার চেষ্টা করা।”

রায়ডু তার মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স (এমআই) দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, “আমি যখন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে খেলতাম, তখন রিকি পন্টিং আমাদের সবসময় বলতেন— চাপের মুখে টস জিতে আগে ব্যাটিং করো। অস্ট্রেলিয়ানরা প্রায়ই এটি করে থাকে, তারা বোর্ডে রান তুলতে পছন্দ করে। আপনার শক্তি কী, তা বুঝতে হবে। আপনি যদি ঘুষি মারতে না পারেন এবং লাথি মারতে পারদর্শী হন, তবে আপনার লাথিই মারা উচিত। কেন আপনি ঘুষি মারার চেষ্টা করবেন? আপনার যা করার ক্ষমতা আছে, সেটাই সবচেয়ে ভালোভাবে করা উচিত।”

উপসংহার: গুজরাট টাইটান্সের জন্য ভবিষ্যৎ শিক্ষা

আইপিএল ২০২৬-এর এই গুরুত্বপূর্ণ কোয়ালিফায়ার ম্যাচে গুজরাটের কৌশলগত ভুল এবং বোলিংয়ের বৈচিত্র্যহীনতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। আহমেদাবাদের নিজেদের চেনা উইকেটের বাইরে ভালো করতে হলে তাদের পেসারদের অবশ্যই ফ্ল্যাট উইকেটে বল করার নতুন কৌশল এবং বৈচিত্র্য রপ্ত করতে হবে। আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে শুধু গতি বা সুইংয়ের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা অসম্ভব, বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ দলে থাকে বিশ্বমানের ব্যাটাররা। গুজরাট টাইটান্সকে যদি টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হয় এবং শিরোপা জিততে হয়, তবে তাদের বোলিং আক্রমণের এই ‘অনুমেয়তা’ কাটিয়ে উঠে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।

READ:  সিএসকে-তে ম্যাকনিল নরোনহা: রামকৃষ্ণ ঘোষের বদলি হিসেবে নতুন অলরাউন্ডার