Zak Crawley channels England disappointment into match-winning 75* – কেন্টের অবিস্মরণীয় জয়
Contents
ক্যান্টারবারির মাঠে জাক ক্রলির রাজকীয় প্রত্যাবর্তন
ক্রিকেট মাঠে যখন বিতর্ক এবং রোমাঞ্চ একসাথে মিশে যায়, তখন দর্শকদের জন্য তা এক পরম উপভোগ্য মুহূর্ত হয়ে দাঁড়ায়। ক্যান্টারবারিতে ভাইটালিটি ব্লাস্টের ম্যাচে ঠিক এমনটাই ঘটেছে। জাক ক্রলি দেখিয়ে দিলেন কেন তাকে বর্তমান ক্রিকেটের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইংল্যান্ড দলের সাম্প্রতিক হতাশাজনক অধ্যায়গুলোকে পেছনে ফেলে তিনি যেভাবে কাউন্টি ক্রিকেটে নিজের জাত চেনালেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। Zak Crawley channels England disappointment into match-winning 75* – এই স্লোগানটি যেন এই ম্যাচের প্রতি মুহূর্তের জন্য একদম সত্য প্রমাণিত হয়েছে। সাকসেসের ছুঁড়ে দেওয়া ১৯৭ রানের বিশাল লক্ষ্য কেন্ট স্পিটফায়ারস টপকে যায় মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে, যেখানে মূল কান্ডারি ছিলেন এই মারকুটে ওপেনার জাক ক্রলি।
সাকসেসের বিধ্বংসী শুরু এবং টম ক্লার্কের টর্নেডো
টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় সাকসেস। তাদের শুরুটা ছিল এককথায় অতিমানবীয়। ওপেনার টম ক্লার্ক কেন্টের বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালান। ম্যাট মিলনেসের করা চতুর্থ ওভার থেকে সাকসেস তুলে নেয় ২২ রান। মাত্র ২০ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন ক্লার্ক। পাওয়ারপ্লে-র শেষ ওভারে টম রজার্সের ওপর চড়াও হয়ে সাকসেসের ব্যাটাররা আদায় করেন ৩০ রান। পাওয়ারপ্লে শেষে সাকসেসের স্কোর দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৯২ রান। কেন্টের বোলাররা তখন দিশেহারা এবং মনে হচ্ছিল সাকসেস সহজেই ২৫০-এর কাছাকাছি রান পৌঁছে যাবে। ১০ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ছিল ১২২ রান ১ উইকেটের বিনিময়ে। ক্লার্ক মাত্র ২৯ বলে ৭৯ রানের একটি অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন, যার মধ্যে ছিল ৯টি চার এবং ৬টি বিশাল ছক্কা।
অভিষেকেই ডিয়ান ফরেস্টারের অলরাউন্ড চমক
যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি কেন্টের হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে, তখনই দৃশ্যপটে আসেন কেন্টের হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার ডিয়ান ফরেস্টার। কেন্টের অন্য অভিষেককারী বোলার বার্টি ফোরম্যান প্রথমে বিপজ্জনক ক্লার্ককে তাওয়ান্ডা মুয়েইয়ের ক্যাচে পরিণত করে ব্রেকথ্রু এনে দেন। এরপর ফরেস্টার নিজের তৃতীয় বলেই ড্যানিয়েল হিউজকে (২৬) সাজঘরে ফেরত পাঠান। কিন্তু তার আসল জাদু দেখা যায় নিজের দ্বিতীয় ওভারে। সেই ওভারে কোনো রান না দিয়ে তিনি তুলে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। প্রথমে জন সিম্পসনকে (৪) জো ডেনলির ক্যাচে পরিণত করেন এবং পরের বলেই টম অলসপকে ফিরতি ক্যাচে আউট করেন। হ্যাটট্রিক বলটি জ্যাক লিং ঠেকিয়ে দিলেও সাকসেসের রানের গতি নাটকীয়ভাবে কমে যায়। ১৫ ওভার শেষে সাকসেসের স্কোর দাঁড়ায় ১৪৯ রানে ৪ উইকেট। শেষ পর্যন্ত সাকসেস ২০ ওভারে ১৯৭ রান তুলতে সক্ষম হয়, যেখানে ফরেস্টারের বোলিং ফিগার ছিল ২৫ রানে ৩ উইকেট।
কেন্টের রান তাড়া এবং ক্রলির জীবনদান
১৯৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কেন্টের শুরুটাও বেশ ভালো হয়েছিল। ওপেনার তাওয়ান্ডা মুয়েইয়ে ২৬ রান করে হেনরি ক্রোকোম্বের বলে আউট হলেও রানের চাকা সচল রেখেছিলেন জাক ক্রলি এবং ড্যানিয়েল বেল-ড্রামন্ড। তবে ইনিংসের মাঝে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, যখন ক্রলির একটি সজোরে মারা শট বেল-ড্রামন্ডের কাঁধে গিয়ে আঘাত করে। কিছুক্ষণের জন্য খেলা বন্ধ থাকলেও বেল-ড্রামন্ড (২৯) খেলা চালিয়ে যান, যদিও তিনি বেশিদূর এগোতে পারেননি। কেন্টের অধিনায়ক স্যাম বিলিংস ২৮ রান করে আউট হওয়ার পর কেন্টের ইনিংসের হাল ধরেন ক্রলি। তবে ক্রলির ইনিংসটি কিন্তু সম্পূর্ণ নিষ্কণ্টক ছিল না। ব্যক্তিগত ৯ রানের মাথায় উইকেটকিপার জন সিম্পসন তাকে স্টাম্পিং করার সহজ সুযোগ মিস করেন। ৪২ রানের মাথায় টম অলসপ সীমানার ওপর তার একটি কঠিন ক্যাচ হাতছাড়া করেন, যা ছক্কায় রূপ নেয়। এরপর ড্যানি ব্রিগসের বলে এক রান নিয়ে ক্রলি নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন।
১৭তম ওভারের তীব্র বিতর্ক এবং আম্পায়ারদের সিদ্ধান্ত
ম্যাচের আসল নাটকীয়তা শুরু হয় ১৭তম ওভারে, যখন কেন্টের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৪ ওভারে ৪০ রান। টাইমাল মিলসের একটি ডেলিভারিকে মিডউইকেটে পুল করেন ক্রলি। সেখানে ফিল্ডিং করা টম ক্লার্ক দাবি করেন যে তিনি ক্যাচটি ধরেছেন। সাকসেসের খেলোয়াড়রা উল্লাসে মেতে উঠলেও ক্রলি ক্রিজ ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। আম্পায়াররা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ক্রলিকে আউট দেননি, যা সাকসেস শিবিরের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের তীব্র ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। স্টেডিয়ামে উপস্থিত সাকসেসের সমর্থকরা ক্রলিকে লক্ষ্য করে ভুয়া ধ্বনি দিতে শুরু করেন। তবে এই বিতর্ক ক্রলিকে দমাতে পারেনি, বরং তার ভেতরের আক্রমণাত্মক রূপকে জাগিয়ে তোলে।
ছক্কার বৃষ্টি এবং কেন্টের জয়োৎসব
বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর ১৮তম ওভারে বল করতে আসেন ড্যানি ল্যাম্ব। ক্রলি যেন সব ক্ষোভ উগড়ে দিলেন এই ওভারেই। ওভারের প্রথম বলটি তিনি সোজাসুজি সীমানার বাইরে পাঠিয়ে দেন ছক্কার সাহায্যে। দর্শক ও সাকসেস সমর্থকদের বিদ্রূপের আওয়াজ নিমেষেই ঢাকা পড়ে যায় কেন্ট সমর্থকদের উল্লাসে। পরের বলেই ক্রলি কাউ কর্নার দিয়ে আরেকটি বিশাল ছক্কা হাঁকান। তাতেই ক্ষান্ত হননি এই ডানহাতি ব্যাটার; ওভারের শেষ বলে আবারও সোজা ব্যাটে মারেন আরেকটি দুর্দান্ত ছক্কা। এক ওভারেই তিন ছক্কা মেরে ম্যাচটি পুরোপুরি কেন্টের পকেটে পুরে নেন ক্রলি। শেষ ২ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ২ রান। ১৯তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ডিয়ান ফরেস্টার টাইমাল মিলসকে চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন। ফরেস্টার ১০ বল বাকি থাকতেই ৩৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন এবং কেন্ট ৭ উইকেটের এক দুর্দান্ত জয় লাভ করে।
উপসংহার
এই ম্যাচটি কেন্ট স্পিটফায়ারসের আত্মবিশ্বাসকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে সন্দেহ নেই। জাক ক্রলির অনবদ্য ৭৫* রান এবং ডিয়ান ফরেস্টারের অসাধারণ অলরাউন্ড নৈপুণ্য প্রমাণ করেছে যে কঠিন পরিস্থিতিতেও কীভাবে স্নায়ু ধরে রেখে জয় ছিনিয়ে আনা যায়। বিতর্ক ক্রিকেটেরই অংশ, তবে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে সব সমালোচনার জবাব দেওয়াই একজন চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়ের লক্ষণ, যা জাক ক্রলি ক্যান্টারবারির মাঠে আজ করে দেখালেন।