Watch – After Chucking Complaint, Tom Banton Destroys Pakistan’s Usman Tariq
Contents
মাঠের লড়াইয়ে পুরনো ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ
ক্রিকেট মাঠে দ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়, তবে যখন তা ব্যক্তিগত পর্যায়ে চলে যায়, তখন তা দর্শকদের জন্য বাড়তি উত্তেজনার খোরাক জোগায়। সম্প্রতি টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের একটি ম্যাচে এমনটাই দেখা গেল টম ব্যান্টন এবং উসমান তারিকের মধ্যে। Watch – After Chucking Complaint, Tom Banton Destroys Pakistan’s Usman Tariq শিরোনামে যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, তা আসলে এই দুই ক্রিকেটারের পুরনো তিক্ততার এক নতুন অধ্যায়। এজবাস্টনে ওয়ারউইকশায়ার এবং সমারসেটের মধ্যকার এই ম্যাচে ব্যান্টন যেন তার ব্যাটের মাধ্যমে সমালোচনার জবাব দিলেন।
টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের সেই মুহূর্ত
ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ওয়ারউইকশায়ার ১৮৯ রানের একটি সম্মানজনক সংগ্রহ গড়ে তোলে। স্যাম হেইন-এর অর্ধশতক এবং রবার্ট ইয়েটস ও বিউ ওয়েবস্টারের কার্যকরী ইনিংস দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। কিন্তু লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সমারসেটের হয়ে ওপেনার টম ব্যান্টন শুরু থেকেই ছিলেন আগ্রাসী। মাত্র ২৬ বলে ৪৭ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে ছিল ৬টি চার এবং ২টি বিশাল ছক্কা।
ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে যখন উসমান তারিক বল করতে আসেন। ব্যান্টন আগে থেকেই যেন প্রস্তুত ছিলেন। তারিকের বলটি রিভার্স সুইপ করে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান তিনি। এই শটটি ছিল মূলত ব্যান্টনের পক্ষ থেকে তারিকের বোলিং অ্যাকশনের বিরুদ্ধে তোলা পুরনো অভিযোগের এক শৈল্পিক উত্তর।
অভিযোগের প্রেক্ষাপট: আইএলটি২০ থেকে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট
এই দ্বৈরথের শুরুটা হয়েছিল আইএলটি২০ টুর্নামেন্টে। মরুভূমিতে খেলা চলাকালীন উসমান তারিকের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন টম ব্যান্টন। সেই সময় তারিকের একটি ক্যারম ডেলিভারিতে আউট হওয়ার পর ব্যান্টনকে মাঠেই ‘থ্রোয়িং’ বা বল ছোঁড়ার ইঙ্গিত করতে দেখা গিয়েছিল। তারিকের বোলিং শৈলী এবং অসংলগ্ন কনুইয়ের ভঙ্গি তখন থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। যদিও আইসিসি তাকে আইনি ছাড়পত্র দিয়েছে, তবুও ব্যাটারদের মনে সেই সন্দেহের বীজ রয়েই গেছে।
কেন উসমান তারিকের অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন?
ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, বোলিং করার সময় কনুইয়ের প্রসারণ ১৫ ডিগ্রির বেশি হওয়া উচিত নয়। উসমান তারিকের ক্ষেত্রে তার বোলিংয়ের আগের অস্বাভাবিক বিরতি এবং আর্ম অ্যাঙ্গেল অনেক ব্যাটারকেই বিভ্রান্ত করে। শুধু ব্যান্টন নন, ক্যামেরন গ্রিনসহ আরও অনেক তারকা ক্রিকেটার তারিকের অ্যাকশন নিয়ে অতীতে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে আইসিসির কঠোর পরীক্ষার পর তারিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন, যা প্রমাণ করে যে তার অ্যাকশন প্রযুক্তিগতভাবে বৈধ।
ম্যাচের ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ
ব্যান্টনের এই বিধ্বংসী শুরুর পর সমারসেট আর পেছন ফিরে তাকায়নি। জেমস রিউয়ের অবিশ্বাস্য ৯৩ রানের ইনিংসের সৌজন্যে দলটি সহজেই ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয়। ব্যান্টনের এই আগ্রাসী ব্যাটিং বুঝিয়ে দিয়েছে যে, মাঠে পারফর্ম করার চেয়ে বড় জবাব আর কিছুই হতে পারে না। তবে উসমান তারিকের নামের সাথে জড়িয়ে থাকা ‘চাকার’ বা বল ছোঁড়ার তকমাটি সহজে মুছে যাওয়ার নয়। যতক্ষণ না তিনি তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে পুরোপুরি সংশয় দূর করতে পারছেন, ততক্ষণ ভক্ত এবং প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের নজর তার ওপর থাকবেই।
ক্রিকেটের আধুনিক যুগে প্রযুক্তি এবং মানুষের চোখের লড়াই সব সময়ই চলমান থাকবে। টম ব্যান্টন এবং উসমান তারিকের এই লড়াই আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মাঠে যাই ঘটুক না কেন, শেষ পর্যন্ত ব্যাটের লড়াইই আসল। দর্শক হিসেবে আমরা হয়তো ভবিষ্যতে এমন আরও অনেক উত্তপ্ত মুহূর্তের সাক্ষী হব, তবে আপাতত ব্যান্টনের এই ছয়টিই ক্রিকেট প্রেমীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।