Cricket News

একই টেস্টে লাল ও গোলাপি বল: ক্রিকেট নিয়মে বড় পরিবর্তনের পথে আইসিসি

Aniket Verma · · 1 min read

টেস্ট ক্রিকেটে যুগান্তকারী পরিবর্তনের আভাস

ক্রিকেটের চিরন্তন ঐতিহ্যের ধারক হলো টেস্ট ক্রিকেট। সাদা পোশাকে লাল বলের লড়াই দশকের পর দশক ধরে ক্রিকেটপ্রেমীদের আনন্দ দিয়ে আসছে। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে সেই ঐতিহ্যে বড় ধরণের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। সম্প্রতি আইসিসির পক্ষ থেকে লাল বল ও গোলাপি বলের মিশ্র ব্যবহার এবং খেলার বিভিন্ন নিয়ম পরিবর্তনের যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তা ক্রিকেট বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

একই ম্যাচে লাল ও গোলাপি বল

আইসিসির নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, একটি টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন লাল বলের পরিবর্তে গোলাপি বল ব্যবহারের সুযোগ রাখা হতে পারে। ক্রিকবাজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ করে আলোর স্বল্পতা বা আবহাওয়া খারাপ থাকলে উভয় দলের সম্মতিক্রমে গোলাপি বল ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। বর্তমান নিয়মে গোলাপি বল মূলত দিবা-রাত্রির টেস্টের জন্যই নির্দিষ্ট, তবে নতুন এই প্রস্তাব কার্যকর হলে টেস্ট ক্রিকেটের চিত্র অনেকটাই বদলে যাবে।

অবশ্যই, এই পরিবর্তনটি খুব একটা সহজ হবে না। বল পরিবর্তনের জন্য দুই দলের পারস্পরিক সম্মতির প্রয়োজন হবে। যদি কোনো একটি দল এতে আপত্তি জানায়, তবে বল পরিবর্তনের সুযোগ থাকবে না। আইসিসি ক্রিকেট কমিটির প্রধান সৌরভ গাঙ্গুলি এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী ৩০ মে আহমেদাবাদে আইসিসি বোর্ডের পরবর্তী সভায় এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

কোচদের মাঠে প্রবেশের অনুমতি

টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটে খেলার গতি এবং কৌশল নির্ধারণে কোচদের ভূমিকা অপরিসীম। আইসিসির নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়ানডে ম্যাচে ড্রিংকস ব্রেকের সময় প্রধান কোচদের সরাসরি মাঠে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। বর্তমানে কেবল সাবস্টিটিউট খেলোয়াড়রাই মাঠের ভেতর পানি বা বার্তা নিয়ে প্রবেশ করতে পারেন। এই পরিবর্তনটি কোচদের সরাসরি খেলোয়াড়দের সাথে পরামর্শ করার সুযোগ করে দেবে, যা ওয়ানডে ক্রিকেটের কৌশলগত লড়াইকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তুলবে। তবে কোচদের পোশাকের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

READ:  LSG বনাম CSK টস আপডেট: রিশভ পান্ত টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত, স্পেন্সার জনসনের অভিষেক

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বিরতির সময় হ্রাস

শুধুমাত্র টেস্ট বা ওয়ানডে নয়, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ইনিংস বিরতির সময় ২০ মিনিট নির্ধারণ করা থাকে। আইসিসি এই বিরতির সময় কমিয়ে ১৫ মিনিটে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে। এর ফলে ম্যাচের মোট সময় কিছুটা কমে আসবে এবং দর্শকদের জন্য খেলাটি আরও গতিশীল হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আইসিসি কীভাবে নিয়ম পরিবর্তন করে?

আইসিসির যেকোনো নিয়ম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। প্রথমে ক্রিকেট কমিটি, যেখানে প্রাক্তন ক্রিকেটার, আম্পায়ার এবং কোচরা থাকেন, তারা সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেন এবং পরিবর্তনের প্রস্তাব দেন। এরপর সেই প্রস্তাব পাঠানো হয় চিফ এক্সিকিউটিভস কমিটিতে (সিইসি)। সিইসি এই পরিবর্তনের যৌক্তিকতা, ন্যায্যতা এবং বৈশ্বিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক করে এবং ভোটের মাধ্যমে অনুমোদন দেয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে আইসিসি বোর্ড অফ ডিরেক্টরস এই নিয়মগুলোতে সিলমোহর দেয়। কোনো নিয়ম অনুমোদিত হওয়ার পর, আইসিসি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করে, সাধারণত কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা আইসিসি টুর্নামেন্টের শুরুর আগে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়।

উপসংহার

ক্রিকেটের আধুনিকায়নের পথে আইসিসির এই পদক্ষেপগুলো কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলে দেবে। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার ভারসাম্য বজায় রেখে ক্রিকেটকে আরও জনপ্রিয় ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করে তোলাই আইসিসির মূল লক্ষ্য। ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন তাকিয়ে আছেন আহমেদাবাদে আয়োজিত আসন্ন বোর্ড সভার দিকে, যেখানে এই আলোচিত প্রস্তাবগুলো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ক্রিকেটের এই নতুন যুগে আমরা কী ধরনের রোমাঞ্চকর পরিবর্তন দেখতে পাব, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো ক্রিকেট বিশ্ব।