এমএস ধোনিকে সিএসকে কোচ করার পক্ষে সওয়াল অশ্বিনের, ট্রোলারকে দিলেন কড়া জবাব
Contents
চেন্নাই সুপার কিংসের কোচ বদলের হাওয়া এবং অশ্বিনের বিতর্ক
আইপিএল ২০২৬ মরসুমে চেন্নাই সুপার কিংস (সিএসকে) তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করতে পারেনি। রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের নেতৃত্বে দলটি আইপিএলের প্লে-অফে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। এই চরম হতাশার পর থেকেই পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দলটিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। বিশেষ করে দলের কোচিং প্যানেলে বড়সড় রদবদল হতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে ক্রিকেট মহলে।
দীর্ঘ সময় ধরে সিএসকে-র প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করা স্টিফেন ফ্লেমিং হয়তো এবার তাঁর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তাঁর জায়গায় নতুন কোচ হিসেবে কাকে আনা যায়, তা নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি বেশ চিন্তিত। এই জল্পনা-কল্পনার মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সিএসকে সমর্থক ভারতের কিংবদন্তি অফ-স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনের নাম প্রস্তাব করেছেন। আর এই প্রস্তাবের মাঝেই এক অদ্ভুত ট্রোলের শিকার হতে হলো অশ্বিনকে, যার জবাব তিনি দিয়েছেন তাঁর নিজস্ব চেনা ভঙ্গিতে।
ইউটিউব চ্যানেলে তথ্য ফাঁসের অদ্ভুত অভিযোগ
রবিচন্দ্রন অশ্বিন তাঁর তীক্ষ্ণ ক্রিকেটীয় বুদ্ধি এবং কৌশলী চিন্তাভাবনার জন্য বিশ্বজুড়ে সুপরিচিত। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সিএসকে ভক্তই দাবি তুলেছিলেন যে, ফ্লেমিংয়ের উত্তরসূরি হিসেবে অশ্বিনকে দলের কোচিং স্টাফে যুক্ত করা হোক। কিন্তু এর মধ্যেই এক ভক্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় অশ্বিনকে লক্ষ্য করে একটি কুরুচিপূর্ণ এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন।
ওই ভক্ত দাবি করেন যে, অশ্বিনকে সিএসকে-র কোচের দায়িত্ব দেওয়া একেবারেই উচিত হবে না। কারণ হিসেবে তিনি জানান, অশ্বিন তাঁর নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কি বাত’ (Ash ki Baat)-এর ভিউ এবং উপার্জনের স্বার্থে দলের একাদশ এবং সমস্ত অভ্যন্তরীণ পরিকল্পনা ম্যাচের আগেই ফাঁস করে দেবেন। ওই ভক্তের মতে, অশ্বিন ছাড়া অন্য যে কাউকেই কোচ করা হোক না কেন, তা দলের জন্য ভালো হবে।
অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটকে টেনে অশ্বিনের সপাট জবাব
এই ধরনের মনগড়া এবং অবান্তর অভিযোগের মুখে পড়ে চুপ থাকার পাত্র নন অশ্বিন। তিনি তাঁর স্বভাবসুলভ রসাত্মক এবং ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে সেই ভক্তকে সোশ্যাল মিডিয়াতেই তুলোধনা করেছেন। অশ্বিন ওই ভক্তের টুইটের জবাবে লেখেন, “আমি আপনার সাথে পুরোপুরি একমত! আমি অবশ্যই ম্যাচের আগে একাদশ ঘোষণা করব এবং এটিও নিশ্চিত করব যাতে প্রতিপক্ষ দল আমাদের ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের সমস্ত পরিকল্পনা আগে থেকেই জেনে যায়।”
অশ্বিন তাঁর জবাবে ক্রিকেটের অত্যন্ত কঠোর একটি নিয়মের কথা মনে করিয়ে দিয়ে উপহাস করে আরও বলেন, “এই ধরনের কাজ করার পর নিশ্চিতভাবেই অ্যান্টি-করাপশন ইউনিট (এসিইউ) আমাকে কঠোর শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবে এবং এর ফলে আমার নিজেরই ক্যারিয়ারের বিপর্যয় ঘটবে।”
ক্রিকেট বিশ্বে যেকোনো ম্যাচের আগে দলের অভ্যন্তরীণ কৌশল বা একাদশ বাইরের কারও সাথে শেয়ার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং এটি আইসিসির দুর্নীতি দমন বিধিমালার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়। অশ্বিন সেই ভক্তের অজ্ঞতাকে চরমভাবে উপহাস করতে এসিইউ-এর নিয়ম মনে করিয়ে দেন। এরপর তিনি সরাসরি তামিল ভাষায় ভক্তটিকে আক্রমণ করে লেখেন, “Rules Kooda theriyuma engenthu da varinga” যার অর্থ দাঁড়ায়— “ক্রিকেটের ন্যূনতম নিয়মও কি তোমার জানা নেই? কোথা থেকে আসো তোমরা?”
“কেন অন্য কাউকে দরকার, যখন ধোনি আছেন?”
এই ট্রোলের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার পর অশ্বিন চেন্নাই সুপার কিংসের কোচিং নিয়ে একটি নতুন এবং অত্যন্ত আকর্ষণীয় জল্পনা উস্কে দেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে স্বয়ং মহেন্দ্র সিং ধোনি (এমএস ধোনি) দলে উপস্থিত আছেন, সেখানে সিএসকে-র অন্য কোনো কোচ খোঁজার কী প্রয়োজন?
ধোনি নিজেই তো দলের সমস্ত পরিকল্পনা এবং কোচিংয়ের দায়িত্ব চমৎকারভাবে সামলাতে পারেন। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধিনায়ক ধোনি যদি সরাসরি কোচের দায়িত্ব নেন, তবে তা সিএসকে-র জন্য সেরা সমাধান হবে বলেই ইঙ্গিত দেন অশ্বিন। তবে এটি তাঁর আন্তরিক পরামর্শ ছিল নাকি ট্রোলারকে আরও একবার ব্যঙ্গ করার একটি চতুর মাধ্যম ছিল, তা নিয়ে সমর্থকদের মনে কৌতূহল রয়ে গেছে।
ফ্লেমিংয়ের উত্তরসূরি খোঁজা কি এতই সহজ?
উল্লেখ্য, স্টিফেন ফ্লেমিং ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম মরসুম থেকেই চেন্নাই সুপার কিংসের সাথে যুক্ত আছেন। প্রথমে খেলোয়াড় এবং পরবর্তীতে প্রধান কোচ হিসেবে সিএসকে-র সাফল্যের পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ধোনি এবং ফ্লেমিংয়ের এই জুটি আইপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক-কোচ জুটি হিসেবে পরিচিত।
কিন্তু ২০২৬ মরসুমের ব্যর্থতার পর এবং বর্তমানের আধুনিক ক্রিকেটের চাহিদার কথা মাথায় রেখে ফ্লেমিং হয়তো এবার সরে দাঁড়াতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কোচের খোঁজ করা সিএসকে-র জন্য মোটেও সহজ কাজ হবে না। অশ্বিনের মতো কিংবদন্তিরা যখন এই ধরনের বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন, তখন তা ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে আসে। তবে অশ্বিনের এই সাহসী এবং বুদ্ধিদীপ্ত জবাব আরও একবার প্রমাণ করল যে, মাঠের বাইরেও তিনি সমানভাবে অপ্রতিরোধ্য এবং বুদ্ধিমান।